Friday, August 7, 2020

আয়া সোফিয়াকে মিউজিয়াম থেকে মসজিদ নিয়ে আমার ভাবনা

 


অটোম্যান সম্রাজ্যের Interregnum (১৪০২-১৪১৩ সাল) সময়কালের ৪ জন সুলতান বাদ দিলে,

মোট অটোম্যান সুলতান ছিল ৩২ জন।
এই ৩২ জনের ভেতর ৪ জন সুলতান বাদে বাকি সবার জন্ম ইউরোপিয়ান নারীর গর্ভে।

অটোম্যান সম্রাজ্য যখনই ইউরোপে বিস্তার লাভ করে, তখনই এই জিনিসটা শুরু হয়। ইউরোপের মেয়েদের ধরে নিয়ে হেরেমে ঢোকানো হতো। এরপর তারা হয়ে যেতো সম্রাটের কনকুবাইন, বা দাসী।
বন্দী জীবন।
বিশাল হেরেমে মেয়েদের ভেতর লেগে থাকতো রাজনীতি। কে কাকে টক্কর দিয়ে উপরে উঠতে পারে।
এদের গর্ভেই সম্রাটের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারি জন্ম নিতো।
এরা পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতো।
কনভার্ট হইতো।
এজন্য ইউক্রেনের মেয়ে রোক্সেলানা হয়ে গেল হুররাম সুলতান।
গ্রিসের মেয়ে আনাস্থাসিয়া হয়ে গেল কোসেম সুলতান।
রাশিয়ার নাদীয়া হয়ে গেলো তুরহান সুলতান।

অটোম্যান সম্রাজ্য ক্ষমতার শীর্ষে ছিল মুলত Soleiman the Magnificant এর সময়ে।
তবে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়ে গিয়েছিলো সোলেয়মানের বাবা, সুলতান সেলিম।
সে ছিল প্রথম অটোম্যান সুলতান, যে খলিফা পদ দখলে নিয়েছিল।
এর কারণ হল, সে আরব এবং উত্তর আফ্রিকার ভুমধ্যসাগর ঘেঁষা আরব মুসলিম দেশগুলোকে অটোম্যান টেরিটোরির ভেতরে নিয়ে আসে। এবং আরব খলিফা হটিয়ে নিজেই খলিফা হিসেবে ঘোষনা দেন।
এজন্য তার ছেলে সুলতান সোলেয়মান হল অটোম্যানদের ভেতর দ্বিতীয় খলিফা।

সোলেয়মানের মা ছিল হাফসা সুলতানা। ক্রাইমিয়ার মেয়ে।
আর সোলেয়মানের বৌ তো হুররাম 
এরে সবাই চেনে।
সেইসময়কালে অটোম্যানরা ছিল আজকের সময়কালের আমেরিকার মত। সুপারপাওয়ার।

অটোম্যান সম্রাজ্যের ইতিহাসে ২৮৯ জন উজির (তথা প্রধানমন্ত্রী) ছিল।
আপনি বিখ্যাত যার নামই নেবেন, দেখবেন অধিকাংশই ইউরোপিয়ান।
যেমন পারগালে ইব্রাহিম পাশা ছিল গ্রিসের।
সাকুলু মেহমেদ পাশা ছিল বসনিয়ার।
আবার রুস্তম পাশা, যাকে আপনারা হয়ত অনেকেই নেগেটিভলি দ্যাখেন  এই রুস্তম পাশা কিন্তু অটোম্যান সম্রাজ্যের অন্যতম শেষ্ঠ উজির ছিল।
তার আমলে অটোম্যান ট্রেজারি ছিল ভরপুর।
অর্থনৈতিক ব্যাপারস্যাপারে সে ব্যাপক সংস্কার করেছিল।
এই রুস্তম পাশা ছিল ক্রোয়েশিয়ান।
এছাড়া আলবেনিয়া, বসনিয়া, গ্রিস থেকে অনেকজন উজির হয়েছিলো।
অটোম্যান সম্রাজ্যের উজির হওয়া আর আগুনে ঝাপ দেয়া একই কথা।
খুব কম উজিরই স্বাভাবিকভাবে মরতে পেরেছে। এটা ভয়াবহ একটা পোস্ট ছিল।
এছাড়া সম্রাটের কেবিনেট, তথা দরবারের সদস্য হওয়া আরো ঝুঁকি পূর্ণ ছিল। বিশেষ করে সোলেয়মানের বাপ সেলিমের আমলে।
উঠতে বসতে ফাঁসি।
ভুল করলেই ফাঁসি।

অটোম্যানদের সেই বিখ্যাত নেভাল কমান্ডার হায়দারউদ্দিন বারবারোসা ছিল আলবেনিয়ার লোক।

অটোম্যান সম্রাজ্যের পরিসর যখনই তুরস্কের আনাতোলিয়ান প্যানিনসিলা থেকে প্রসারিত হয়ে ইউরোপে ছড়িয়ে যায়,
এরপর সম্রাট মুরাদের আমলে তৈরি করা হয় জেনেসারি ফোর্স। যা আর্মির স্পেশ্যাল ফোর্সের মত এলিট ফোর্স।
যেটা ছিল ইউরোপের প্রথম স্ট্যান্ডিং আর্মি।
অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতনভোগী পেশাদার আর্মি।
এর আগে পৃথিবীতে আর্মি বলতে যা ছিল, সেটা হল রাজ্যের গোত্রপতিরা তাদের ব্যানারম্যানদের ডেকে সম্রাটের জন্য সৈন্য সরবরাহ করতো।
গেম অফ থ্রোনস সিরিয়াল যারা দেখেছেন, তারা নিশ্চয় ধরতে পারতেছেন সিস্টেমটা কিভাবে কাজ করে।

তো এই জেনেসারি ফোর্স দেখে ইউরোপের দেশগুলো ব্যাপক ভয় পেতো। এই জেনেসারি ফোর্স কিভাবে তৈরি করা হয়েছিলো, সেটা তো জানেনই হয়ত।
অটোম্যান সম্রাজ্যের ইউরোপিয়ান টেরিটোরিতে বসবাসরত ইউরোপিয়ান নন মুসলিমদের পরিবারের একটি করে বাচ্চা ছেলেদের খাজনা হিসেবে জোর করে ধরে নিয়ে ভর্তি করা হতো ট্রেনিং সেন্টারে।
এরপর বাচ্চাকাল থেকে ট্রেনিং দেয়া হতো। ধর্মান্তরিত করা হতো। এদের অনেকেই আর কখনো তাদের পরিবারের পরিচয়ও জানতে পারতো না। ভুলে যেতো।
বড় হলে এরাই হত অটোম্যানদের সবচেয়ে ফিয়ার্স ফাইটিং ফোর্স। এদের ভেতর থেকে সম্রাটের পার্সোন্যাল গার্ড হত কেউকেউ। অনেকে আবার উজিরও হয়ে যেতো। দরবারের পাশা হতো।

কনস্ট্যান্টিনোপল দখল করতে এই জেনেসারিদের সাথে বাইজেনটাইন সম্রাটের ভাড়া করা ইউরোপিয়ান মার্সেনারি তথা জাস্টিনিয়ানির soldier of fortune তুমুল যুদ্ধ হয়।
এই শহরটি সম্ভবত দুনিয়ার সবচেয়ে দামি ভুমি, পলিটিক্যালি এবং স্ট্যাটেজিক্যালি দেখলে।
মাঝ দিয়ে বসফরাস বয়ে গিয়েছে, যার একপাশে কৃষ্ণ সাগর, অন্যপাশে মারমারা হয়ে ভুমধ্যসাগর।
এই বসফরাসের নিয়ন্ত্রন পাওয়ার জন্য কত দেশ কত চেষ্টা করেছে।
এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ানদের সাথে মিত্র ইংরেজ আর ফরাসিদের ডিল ছিল তুরস্কের হাত থেকে এই শহর দখল করে রাশিয়ার হাতে তুলে দেবার।
প্রায় সফল হতে গিয়েও হয়নি মোস্তফা কামালের জন্য।
এই লোক তুরস্ককে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
তা না হলে আজও আরবের মত তুরস্ক ভেঙ্গে চুরমার করতো পশ্চিমারা।
যাই হোক, সেসব ইতিহাস বলতে গেলে রাত শেষ হয়ে যাবে।

রোমান সম্রাট কনস্ট্যান্টিন দ্যা গ্রেট, যার কারণে আজ আপনি দুনিয়াতে শত কোটি খ্রিস্টান দেখতেছেন, সেই কনস্ট্যান্টিন দা গ্রেট খ্রিস্টান ধর্মে কনভার্ট হয়ে গোটা রোমান সম্রাজ্যে খ্রিস্টান ধর্ম ছড়িয়ে না দিলে ইহুদিদের মত আজও খ্রিস্টানদের সংখ্যা আহামরি বেশি হতো না পৃথিবীতে।
তো সম্রাট কনস্ট্যান্টিনের নামে এই শহরটির নামকরণ হয়। এবং এটাকেই রাজধানী করা হয়। স্ট্যাটেজিক এবং চমৎকার আবহাওয়ার কারণে।
সম্রাট কনস্ট্যান্টিন চাইলে কিন্তু ইউরোপের যেকোনো শহর, অথবা আরবের যেকোনো শহর, এমনকি জেরুজালেম, বা আফ্রিকার মিশরের আলেকজ্যান্দ্রিয়া, যেকোনো শহরকে রোমান সম্রাজ্যের রাজধানী বানাতে পারতেন। কিন্তু বানিয়েছিলেন ঐ বসফরাসের তীর ঘেঁষা দুইপাড়ে অবস্থিত শহরটিকে।
এরপর এই শহর হয়ে যায় অনেকের জন্য হোলি গ্রেইল।
খ্রিস্টানদের ভেতরে বিভাজন তৈরি হলে রোম হয় ক্যাথোলিক চার্চের হেড কোয়াটার আর এই কনস্ট্যান্টিনোপল হয় গ্রিক অর্থোডক্সির হেড অফিস।
পরে কনস্ট্যান্টিনোপল খ্রিস্টানদের হাতছাড়া হয়ে গেলে গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের হেড অফিস সরিয়ে রাশিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের সাথে আজকের গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের কানেকশন ছিল এটাই।

আর আয়া সোফিয়া?
ওরে ভাই, এটা তো বিখ্যাত জায়গা।
আর এটার পলিটিক্যাল সিগনিফিকেন্স অনেক।
এটা সিম্বলিক।
এটা প্রথমদিকে ছিল চার্চ অফ কনস্ট্যানটিন।
এরপর ৫৩২ সালে, সম্রাট জাস্টিনিয়ান, আজকে আপনি যে ডিজাইনটি দ্যাখেন, সেটা অনুসারে এই চার্চ তৈরি করেন।
পরে এটা গ্রিক অর্থোডক্স চার্চ হয়।
একসময় ক্যাথেলিক Crusader খ্রিস্টানরা ইউরোপ থেকে এসে জেরুজালেম উদ্ধার করার বদলে উল্টো কনস্টানটিনোপল দখল করে আয়া সোফিয়ারে রোমান ক্যাথলিক চার্চ বানিয়ে বসে। 
পরে আবার গ্রিক অর্থোডক্স চার্চ এটা ফিরে পায়।

এরপর যখন অটোম্যান সম্রাট প্রথম সুলতান মেহমেদ (যার মায়ের বাড়ি সার্বিয়া) তিনি যখন কনস্ট্যান্টিনোপল দখল করেন,
তখন এই শহর খ্রিস্টানদের হাতছাড়া হয়।
এরপর আয়া সোফিয়াকে মসজিদ বানিয়ে রাখা হয়।
প্রায় ১০০০ বছরের কাছাকাছি চার্চ ছিল, এরপর পরের প্রায় ৪৫০ বছরের মত ছিল মসজিদ। এরপর যখন মোস্তফা কামাল আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠা করেন,
তখন তিনি খোদ এই কনস্ট্যান্টিনোপল থেকে রাজধানী সরিয়ে নেন। এবং পোস্টাল সার্ভিসকে নির্দেশ দেন, কেউ যদি ইস্তাম্বুল ছাড়া আরো যেসব ভিন্ন নাম কনস্ট্যান্টিনোপলের আছে, সেগুলো যদি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করে, তাহলে সেই চিঠি প্রেরকের কাছে ফিরিয়ে দিতে।
তিনি রাজধানী সরিয়ে নিয়ে আনাতোলিয়াতে নিয়ে যান। এর পেছনে স্ট্রাটেজিক এবং হিস্টোরিক্যাল কারণ ছিল।
তুরস্ক চাচ্ছিলো, অটোম্যান সম্রাজ্যের লিগ্যাসি থেকে সরে তার্কিশ রিপাবলিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে। পুর্বের লিগ্যাসি ভুলে সবকিছুর ফ্রেশ স্টার্ট দিতে।

আয়া সোফিয়াকে তিনি মিউজিয়ামে বদলে দেন।
ইস্তাম্বুলে বিখ্যাত মসজিদের অভাব নেই।
সবচেয়ে বিখ্যাত হল সুলতান আহম্মেদ মসজিদ (যেটাকে আপনারা নীল মসজিদ বলেন)
আরেকটা হল বিখ্যাত সোলেয়মানিয়া মসজিদ।
সুলতান সোলেয়মান যা বানিয়েছিলো।
এর ডিজাইন করেছিলো আর্কিটেক্ট সিনান। তার নামে ইস্তাম্বুলে নামকরা একটা বিশ্ববিদ্যালয় আছে।
সোলেয়মানের ভালো একটা গুন ছিল প্রতিভা খুঁজে বের করতে পারা।
আসলে এখনও একজন রাজা বাদশাহ বা প্রেসিডেন্ট, যেটাই বলেন, এদের জাস্ট একটা গুণ থাকলেই কিন্তু চলে। সেটা হলে কাকে কোনপদে বসালে দেশের উন্নতি হবে, সেটা বোঝা। এটাই বড় কোয়ালিটি।

যাই হোক,
৬৭৪ বছর অটোম্যান সম্রাজ্য টিকে ছিল।
কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সবসময় রাজার ছেলে রাজা হত।
এটাই ছিল নিয়ম।
এবং রাজ্যে ফিৎনা ফ্যাসাদ যাতে না হয়,
সেটার জন্য করা হয়েছিলো ফ্রাক্টিসাইড আইন। একে জাস্টিফাই করার জন্য ধর্মীয় ব্যাখ্যাও ছিল।
অর্থাৎ সুলতান হবার সাথেসাথে অটোম্যান Mute Executioner দের নির্দেশ দেয়া হতো, সুলতানের আপন-সৎ, যত ভাইব্রাদার আছে, সব মেরে দিতে।
এবং এই নিয়ম মেলাদিন চলেছে।
সুতরাং বুঝতেই পারতেছেন, সুলতানের যত বেশি ভাইব্রাদার থাকবে, সিংহাসনে আরোহোনের দিনটা হবে ততটাই মারাত্মক।
সুলতান মাহমুদ ১৫৯০ সালে সুলতান হবার পর তার ১৯টা ভাইকে এক্সিকিউট করা হয়।
কারণ সুলতান মাহমুদের বাপ ছিল সুলতান মুরাদ। মুরাদের মা ছিল ইতালিয়ান মহিলা নুরবানু।
ওদিকে মুরাদের বৌ ছিল আলবেনিয়ার মেয়ে সাফিয়া সুলতানা। সে আবার ছিল হুররামের মেয়ে মিহিরিমার হ্যান্ডপিক।

তো সাফিয়ার সাথে তার শ্বাশুড়ির ছিল সাপে নেউলে সম্পর্ক। ওদিকে মুরাদ আবার সাফিয়ারে ছাড়া অন্যকাউরে পছন্দ করতো না।
নুরবানু তখন মুরাদের খাবারে নানান মেডিসিন খাইয়ে, সিস্টেম করে তারে রীতিমত সাইকো বানিয়ে ফেলেছিলো। আসলে  স্পষ্টভাবে ব্যাপারটা প্রকাশ করার মত শব্দ খুঁজে পেলাম না 
তো মুরাদের এরপর প্রচুর পোলাপান হয়েছিলো। হেরেমের প্রায় সব মেয়েই প্রেগনেন্ট হয়ে যায়।
ভাগ্যিস, ছেলে হয়েছিলো মাত্র ২০ টা। আরো বেশি হয়নি বলেই রক্ষা।

সুলতান আহম্মেদের আমলের শেষদিকে এসে ভাই হত্যার নিয়ম বন্ধ হয়। এরপর যেটা করা হত, সেটা হল ভাইব্রাদাদের কাফেজে বন্দি করা।
এই জীবন মৃত্যুর চেয়েও কষ্টের।
যেমন, দ্বিতীয় সোলেয়মান যখন মাত্র নয় বছর বয়স, ১৬৫১ সাল, তখন তিনি কাফেজে বন্দি হন।
এরপর ১৬৮৭ সালে, অর্থাৎ ৩৬ বছর পর সেই বন্দী কাফেজ থেকে মুক্ত হয়ে আবিস্কার করেন, জেনেসারিরা বিদ্রোহ করে তাকে সুলতান বানিয়ে দিয়েছে 

চিন্তা করেন কি ভয়াবহ অবস্থা।

যাই হোক। আপনি অতীতের ইতিহাসগুলোকে হাল আমলের মরাল স্ট্যান্ডার্ড দিয়ে মাপতে গেলে বিপদে পড়বেন। আপনি এখন এমন অনেককিছুকেই নেতিবাচকভাবে দ্যাখেন, যা হয়ত সেইসময়কার মানুষদের কাছে মোটেও অনৈতিক মনে হত না।
সেইসাথে কালচারাল ব্যাপারটিও আছে। যেমন বহুবিবাহ আমাদের কালচারে নেতিবাচক। আবার আফ্রিকা এবং আরবের অনেক কালচারে নেতিবাচক নয়।
যেমন হেরেম সিস্টেমটা কিন্তু একসময় অটোম্যানরাই বন্ধ করে। জেনেসারি সিস্টেমও ওরাই বন্ধ করে দেয়। সময়ের সাথে তাল মেলাতে।
আবার দাস প্রথা কিন্তু আপনার চোখে খারাপ। অতীতে অনেক রাজা বাদশাহ এটা চালিয়ে গিয়েছে।

আপনি একবার হুররাম, বা তারই স্বজাতি তুরহানের জীবনে দ্যাখেন।
আচ্ছা, ওদের জীবনে নয়। আপনার নিজের বোনের সাথে যদি এমন হইতো, আপনার কেমন লাগতো?
আপনার বোনকে কিডন্যাপ করে যদি অন্যদেশের রাজ বাদশাহ'র হেরেম খানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

তো এতো কথা কইলাম। জাস্ট একটা কথা বোঝানোর জন্য,
আমাদের দেশের অনেকে অটোম্যান সম্রাজ্যকে যেভাবে ভাবে, ব্যাপারটা তেমন না।
আমি এটাকে কখনোই তুর্কি সম্রাজ্য বলিনা। এটাকে অটোম্যান ডায়নেস্টির শাসন বলাটাই যুক্তি সঙ্গত। কারণ মুরাদ-৪ যখন ১৬৪০ সালে তার মৃত্যুসজ্জায় নিজের জীবিত শেষ ভাইকে মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলো, সেই নির্দেশ অমান্য না করা হল অটোম্যান ডায়নেস্টি ওখানে শেষ হয়ে যেতো এবং সম্রাজ্যের শাসন বুঝে পেতো কে জানেন? রাশিয়ার ক্রাইমিয়ার খানের পরিবার। কারণ এরাই ছিল দ্বিতীয় পাওয়ারফুল পরিবার।
ওরা কিন্তু তুর্কি না।
অটোম্যানদের সিস্টেমের সাথে অন্য কোনো সম্রাজ্যের সিস্টেম মেলানো সম্পূর্ণ ভুল প্রচেষ্টা।

আর অটোম্যান সম্রাজ্যে বরাবরই আরবরা ছিল শোষিত জাতি। এবং হরহামেশা আরব রিভল্ট বা বিদ্রোহ হইতো অটোম্যানদের বিরুদ্ধে।
ইনফ্যাক্ট, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশরা অটোম্যান সম্রাজ্য ভেঙেছে এই আরবদেরকে কাজে লাগিয়ে।
এবং এখনও আরব দেশগুলো তুরস্কের ব্যাপারে সতর্ক থাকে।

এরদোগান এখন তুরস্কের ক্ষমতায়। চুরি চামারি করে ক্ষমতায় আসেনি। ট্রাম্পের মত ক্যালকুলেটিভ ওয়েতে হিসাব করেছে। এনাতোলিয়ান প্যানুউন্সুলার তুলনামুলক পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোকে ফোকাস করেছে। সেখানকার ভোটগুলো বাগিয়ে নিয়েছে।
এরদোগানের দল তুমুল জনপ্রিয়, একথা বলা যাবে না। কিন্তু ক্ষমতায় যেতে গেলে পার্লামেন্টে যে কয়টা সিট দরকার, সেগুলো বাগিয়ে নেবার মত রাজনীতি এখন তারা করে যাচ্ছে।
এখন তার ক্ষমতা আছে, আয়া সোফিয়ারে মসজিদ বানিয়ে দিলো। যেমন এখন মোদির ক্ষমতা আছে, সে বাবরি মসজিদকে মন্দির বানালো।
এরদোগান ধর্মকে রাজনীতির পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে।
এই চর্চা পৃথিবীতে সর্বোত্র এখন চলমান।
আয়া সোফিয়া অনেক বড় সিম্বলিক ব্যাপার।
বাংলাদেশের অনেক গাধার দল এরদোগান'রে নিয়ে খেলাফতের স্বপ্ন দ্যাখে। অন্যদিকে এরদোয়ান মুলত দ্যাখে তুর্কি সম্রাজ্যবাদের স্বপ্ন। যেটাতে ধর্ম হবে একটা প্রভাবক।

সেই স্বপ্ন শ্রেফ তার স্বপ্ন দোষ হয়েই থেকে যাবে হয়ত।
ইউরোপিয় ইউনিয়নে ঢোকার অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এখন দক্ষিন দিকে চোখ দিচ্ছে। অর্থাৎ সিরিয়া, ইরাক, জর্ডান, লিবিয়া, এসব দিকে।

যাই হোক। এখানে কে ভালো কে খারাপ, এসব ব্যাপার নয়।
ভালো খারাপ সবই আপেক্ষিক।
সেকুল্যার দলগুলো ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে তারা আবার ওটাকে মসজিদ থেকে মিউজিয়াম বানিয়ে দেবে।
হিসাব সহজ।
এতো চিন্তার কিছু নেই।
আর তুরস্ক একটু আলাদা।
মেসুত ওজিলের বিয়ের ভিডিও দেখেছেন? 
আবার তুরস্কের মসজিদের ভেতর জিন্স শার্ট পরা নন মুসলিম ইউরোপিয়ান মহিলা চাইলেই মাথায় একটা কাপড় দিয়ে ঢুকে যেতে পারে। ভিডিও করতে পারে। এমন অনেক ভিডিও আপনি ইউটিউবে ট্রাভেলার ভিডিও ব্লগারদের কাছ থেকে পাবেন।
ওখানকার কালচার আলাদা।

যাই হোক। আয়া সোফিয়া আছে। থাকবে আপাতত।
ওর নামের শেষে যেটাই থাকুক, দিনশেষে ওটা একটা ইতিহাস।

Read More »

সিস্টেম নিয়ে আমার ভাবনা

 


হিটলারের নামে একটা Quote চালিয়ে দেয়া হয় হরহামেশা,

"If you don't like a rule/system, just follow it, reach the top and change it"

বাস্তবে এই কথা হিটলার আদেও বলেছিলেন কিনা, সন্দেহ আছে। যদি ধরি এটা হিটলারই বলেছিলেন, তাহলে বলতে হয়, তিনি নিজেও এটা মানেননি।
কারণ কি জানেন?
বাস্তবে এভাবে কখনো কিছু করা যায় না।
এর মানে হল আপনি সিস্টেম জিনিসটাকে অনেক ছোট পরিসরে সংজ্ঞায়িত করে অভ্যস্ত।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান আর্মির একজন সৈন্য,
এরপর সেই প্রফেসন ছেড়ে রাজনীতি,
এরপর ক্যু করতে গিয়ে জেলে যাওয়া,
এরপর জেল থেকে বের হয়ে ইকোনমিক্যাল ক্রাইসিসের সুযোগে একসময় নানান ঘটনার ভেতর দিয়ে ভোটে জিতে ক্ষমতায় যাওয়া,
এরপর, ক্ষমতায় গিয়ে পার্লামেন্টে আগুন লাগার ঘটনাকে ভিন্নখাতে ডাইভার্ট করে সেটার সুযোগ নিয়ে Night of the Long Knives নামের এক অধ্যায় রচনা করা,
যেখানে লিস্ট করে দুশমন, এবং পটেনসিয়াল দুশমন হতে পারে এমন বন্ধুদের দুইরাতের ভেতর খতম করে পুরা জার্মানির নিয়ন্ত্রন হাতের মুঠোয় নেয়া,
এসবের কোনটাকে আপনার মনে হয় Just follow it and reach the top and change it?

১৯৩১ থেকে ৩৩ ... এই সময়গুলোতে জহোরলাল নেহেরু জেলে ছিলেন। জেলে বসে তিনি তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ইন্দ্রীরা গান্ধীকে চিঠি লিখতেন। ওই চিঠিগুলো কম্পাইল করে বই বানানো হয়েছে পরে।
১৯৬ খানা চিঠি।
প্রথম দিকের একটি চিঠিতে নেহেরু নিজের মেয়ের সাথে ওই উপরের বাক্যটি নিয়েই আলোচনা করেছিলেন। অর্থাৎ উপরের বাক্যটি সম্ভবত হিটলারের না। আগে থেকেই কেউএকজন বলেছিলো। কথার তো আর কোনো স্বত্বাধিকার থাকে না। মানুষের মুখেমুখে চলে আসতেছে।

তো নেহেরু উনার মেয়েকে বলেছিলেন, তোমাকে যদি কেউ বলে সিস্টেম চেঞ্জ করতে হলে সিস্টেমের ভেতরে ঢুকতে হবে। এরপর উপরে উঠে সিস্টেম চেঞ্জ করতে হবে, মনে রেখ, এভাবে জীবনে কিছু হয় না। সিস্টেম চেঞ্জ হয় বাইরে থেকে।

কথাটা কত গুরুত্বপূর্ণ। একটা সিস্টেম যদি আপনার কাছে ফল্টি মনে হয়, এর মানে হল ওই সিস্টেমে অসততা আছে, অথবা অসমতা প্রকোট।
তো আপনি ওই সিস্টেমের বাইরে থেকে সিস্টেমকে গালাগালি করলেন।
এরপর আপনি আর না পেরে সিস্টেমে ঢুকে গেলেন। ঢুকেও গালাগালি করলেন। কারণ ওই যে বললাম, ফল্টি সিস্টেম। সিস্টেমে অসমতা প্রকোট। সকল ক্ষমতা একেবারে শীর্ষ লেভেলের কাছে পুঞ্জিভুত। তো সিস্টেমে ঢুকে আপনি আপসেট।
এরপর ওয়েট করলেন একদিন নিজেও সর্বোচ্চ পদে যাবেন।
তো সর্বোচ্চ পদে বুড়োবয়সে গিয়ে দেখলেন, আপনি রীতিমত ডিক্টেটর। আপনার ইশারা ছাড়া কিছু হয় না। তো তখন কি আপনি ক্ষমতা শেয়ার করতে চাইবেন? সারাজীবন কষ্ট করলেন যার জন্য, এখন আপনার হাতেই সব।
তো ঠিক এজন্যই সিস্টেম চেঞ্জ হয় না। কেউ করতেও চায় না।

অন্যথায় ফরাসী বিপ্লব, রুশ বিপ্লব, অমুক বিপ্লব, তমুক বিপ্লব, এসব কিছুই হইতো না। সবাই সিস্টেমে ঢুকতো।
আর ফায়দা হাসিল করতে শুরু করলেই চুপ হয়ে যেতো।

ফ্রিডম অফ স্পিচের দেশ আমেরিকাতেও ১৯৩৮ থেকে ৭৫ পর্যন্ত House Committee on Un-American Activities (HCUA) ছিল। এই কমিটির কাজ ছিল কমিউনিস্ট সোশ্যালিস্ট ভাবাদর্শের মানুষজনকে ধরে জেলে ভরা। অর্থাৎ ওটাই Un-American Activity

এবং হলিউডের নামকরা অনেক পরিচালকদেরও এন্টি ক্যাপিটালিস্ট ভাবধারার মুভি বানানো, বা মুভিতে প্রচ্ছন্নভাবে এন্টি ক্যাপিটালিস্ট বিষয় প্রচারণার জন্য জেলে ভরা।
অর্থাৎ আমেরিকায় দাঁড়িয়ে সবকিছুর বিপক্ষে পক্ষে চিল্লাপাল্লা লিখালিখি সবই করতে পারো। কিন্তু ক্যাপিটালিজমের জন্য কোনোরুপ হুমকি বরদাস্ত করা হবে না।
সবারই দূর্বলতা থাকে। দুর্বল জায়গায় আঘাত লাগার সম্ভাবনা দেখা দিলেই সে নড়েচড়ে বসে। পুঁজিবাদী অনুভুতিতে আঘাত লাগা আমেরিকা কখনোই সহ্য করবে না।

তো এটাই সিস্টেম। হাহাহাহা।
সিস্টেম তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন কোনোকিছু সহ্য করবে না।
আর যে সিস্টেমের অংশ হয়ে যাবে, সিস্টেমের মধু যে একবার খাওয়া শুরু করবে,
সে নুন খেয়ে বরখেলাপ কেনো করবে?

আর ক্ষমতার সাধ যে একবার পায়, সে ক্ষমতা ছেড়ে নিজেকে কল্পনাও করতে পারে না।
মিয়ানমারের সুচি'কে নোবেল পর্যন্ত দেয়া হয়েছিলো শান্তিতে।
কত বছর গৃহবন্দি ছিল।
গনতন্ত্রের জন্য কত নাকি সংগ্রাম করেছে ।
অথচ এখন দ্যাখেন।
ক্ষমতার সাধ পেয়ে গেছে।
এখন কিসের গনতন্ত্র, কিসের মানব অধিকার, কিসের শান্তি, কিসের নোবেল।

Read More »

তাইওয়ান






দেখুন তো, এই পরিচিত ব্রান্ডগুলো চিনতে পারেন কিনা ??




Acer..... Apacer..... HTC.....
.....Asus...... BenQ.....Cyberlink....
Foxconn....Gigabyte...............Realtek...
.........Transcend......liteOn....China Steel...
....ADATA.....SilverStone......
Thermaltake (কম্পিউটারের পাওয়ার সাপ্লাই বানায়)
...Biostar......chinaTech...

এসব ব্রান্ডের সাথে পরিচিত হবার কথা। অধিকাংশ কম্পিউটারের পার্টস প্রস্তুত করে। ইলেকট্রনিক্স বিজনেসওয়ার্ল্ডের নামকরা নাম...

এগুলো কোন দেশের কোম্পানি জানেন??
জানা কথা।  Republic of China

শুধু, সেটাই না... Republic of China বংশোদ্ভূত মানুষদের হাতে গড়া আরো কিছু কোম্পানি জগৎবিখ্যাত।
NVIDIA
Trend Micro
Yahoo !
এবং Youtube এর কো ফাউন্ডাররা Republic of China বংশোদ্ভূত।

কাহিনী হইলো Republic of China এর সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নাই 
বাংলাদেশ Republic of China কে স্বীকৃতি দেয় নি।
এমনকি বাংলাদেশের সাথে Republic of China এর কোনো ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক নাই।

থাকবে কিভাবে ??
রিপাবলিক অফ চীন'কে দুনিয়ার বড়বড় কোনো দেশই স্বীকৃত দেয় না ।
মাত্র ২১ টা দেশ স্বীকৃতদেয়। যাদের ভেতর সবচেয়ে পাওয়ারফুল দেশ হল পানামা আর প্যারাগুয়ে 
আর বাকিসবগুলো দেশের নাম বললে চিনবেন না
একারণে কষ্ট করে লিখলাম না

আপনি বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে রিপাবলিক অফ চীনে যেতে পারবেন না।
যদিও তাদের দেশের পন্য ছাড়া আমাদের চলেও না। (ভিন্নদেশ ভায়া হয়ে যেতে পারবেন। সেটা ভিন্ন ব্যাপার)

দেশটি People Republic of China নয়।
Republic of China.
যাকে আমরা তাইওয়ান বলে জানি।



৩৬ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশটিতে জনসংখ্যা ২ কোটি ৩৩ লাখ।
দুনিয়ার উন্নত দেশগুলোর একটি 
দুনিয়ার ২১ তম বৃহৎ অর্থনীতি।
মাথাপিছু আয় ৪৩ হাজার মার্কিন ডলার। (১৭তম )

তাইওয়ানের সাথে চীনের সম্পর্ক সাপে নেউলে...
চীন স্বপ্ন দ্যাখে, তাইওয়ান'কে দখল করে মুলভুমির কমিউনিস্ট পার্টির শাসনে আনার।
আর তাইওয়ানি স্বপ্ন দ্যাখে, চীনের ভাইব্রাদার'দের কমিউনিস্ট পার্টির হাত থেকে মুক্ত করে চীনকে স্বাধীন করার 

চীনের আছে দুনিয়ার সবচেয়ে 'সাইজে বড় আর্মি"
আর তাইওয়ানের আছে ওই রিজিওনের সবচেয়ে "সফিস্টিকেটেড" আর্মি।
সেইসাথে তাইওয়ানের সাথে আছে আমেরিকা।
প্রেসিডেন্ট বুশ অঙ্গীকার করেছিলো যদি চীন কখনো তাইওয়ান আক্রমন করে, তাহলে আমেরিকা যেকোনোকিছুর বিনিময়ে তাইওয়ানকে, অর্থাৎ Republic of china কে রক্ষা করবে

ব্যাপারটা সেই ডিকটেটর মুভির মত হয়ে গেলো...
হয় এই aladeen এর পক্ষে,
না হয় এই aladeen এর পক্ষে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চীনে শুরু হয় কমিউনিস্ট vs Nationalist গৃহযুদ্ধ।
তাতে সোভিয়েত ব্যাকড কমিউনিস্টরা জিতে যায়।
মাও সে তুং ক্ষমতায় আসে।
আর ন্যাশোন্যালিস্টরা জীবন বাঁচাতে চলে যায় সাগরে ১৮০ কিমি দুরের ফরমোসা দ্বীপে। অর্থাৎ তাইওয়ানে।
সেখানে তারা নিজেদের ন্যাশনালিস্ট সরকারের অবশিষ্ট অংশ টিকিয়ে রাখে।
এবং আজ পর্যন্ত মুলভুমি চীন দখলের স্বপ্ন দ্যাখে।
তাদের ভাষায়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির হাত থেকে চীনের ভাইব্রাদারদের উদ্ধার করা তাদের লক্ষ্য।

ইন্টারেস্টিং বিষয় হল, ১৯৭১ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে তাইওয়ানের অর্থাৎ Republic of China (Taiwan) এর সদস্যপদ ছিলো। বিশ্বশক্তিগুলো তখন তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিতো।

কিন্তু PRC (China) ছিলো আমেরিকার জন্য এক নিষিদ্ধ দেশ। চীনের সাথে ১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত আমেরিকার কোনো ডিপলোম্যাটিক সম্পর্ক ছিলো না।
সম্পর্ক করে দিয়েছিলো কে ??
পাকিস্তান। কুটনামো ভন্ডামো আর শয়তানিতে যাদের পিএইচডি আছে 

দশ বছর ধরে পাকিস্তানের চেষ্টায় আমেরিকা আর চীনের ভেতর সম্পর্ক তৈরি হয়। ইনফ্যাক্ট হেনরি কিসিঞ্জারকে লুকিয়ে, গোপনে ইয়াহিয়া খান নিজেস্ব প্লেনের ভেতর করে চীনে নিয়ে গিয়েছিলো 
দুনিয়া জানতো, কিসিঞ্জার পাকিস্তানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে গেছেন !

যাই হোক, সেসব অন্য ইতিহাস।
ভিন্ন কোনোদিন লিখবো।
তো চীনের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক হয়।
ফলাফল, ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর জাতিসংঘ থেকে ROC আউট, আর RPC ইন 
অর্থাৎ আলাদিন আউট, তার বদলে আলাদিন ইন 

তখন অন্যান্য বড়বড় দেশগুলোও পাইকারি হারে 'আলাদিন ইন, আরেক আলাদিন আউট" করা শুরু করে।

সেই ১৯৭১ সাল থেকে তাইওয়ান আর জাতিসংঘে নেই।
মজার ব্যাপার হল, আমেরিকা এখন চীনের সবচেয়ে বড় বিজনেস পার্টনার হয়ে গেছে।
চীনও আমেরিকার সাথে ব্যবসা করে অনেক ধনী হয়েছে। একটা ধনী উন্নয়নশীল দেশ চীন। 
তবে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি গরিব মানুষও চীনে আছে। ফলাফল, তাদের শ্রমবাজারও সস্তা।
সাপে নেউলে সম্পর্ক হলেও, বিশাল গরিব মানুষের বেকারত্ব মেটাতে হয় উন্নয়নশীল দেশ চীনকে!
ফলাফল, যতই শত্রুতা থাকুক, তাইওয়ানের সাথে ব্যবসা ঠিকই করতেছে চীন। যেমন উপরে শুরুতে যতগুলো কোম্পানির নাম বললাম, সবগুলো কোম্পানির হেড অফিস তাইওয়ানে হলেও শাখা অফিস এবং শাখা ফ্যাক্টরি চীনে আছে।
লক্ষ লক্ষ চাইনিজের দারিদ্র বিমোচন হচ্ছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে এতে।
ফলাফল, এগুলো আপনি বাংলাদেশে বসেও কিনতে পারতেছেন। তাইওয়ানের সাথে আপনার রিলেশন থাক আর না থাক। কারণ, এসব পন্য যাতে বিক্রি হয়, সেটার নিশ্চিত করার মাথাব্যাথা তাইওয়ানের চেয়েও চীনাদের বেশি।
একারণে প্যাকেটে সবসময় made in china লিখা দেখবেন। যদিও কোম্পানি তাইওয়ানের।
Lenovo আর ইদানীং আসা Xiaomi ছাড়া চীনের আর তেমন ভালো ব্রান্ড খুবএকটা দেখবেন না। (রিসেন্টলি হোয়াওয়ে এসেছে)

আপনি যখন Foxconn মাদারবোর্ড কম্পিউটারে লাগাচ্ছেন, তখন হয়ত Foxconn কোম্পানির চীনের ফ্যাক্টরিতে চাইনিজ কর্মীরা অত্যাধিক কাজের চাপে, ইনহিউমেন কন্ডিশনে কাজ করে করে একসময় ডিপ্রেশনে ভুগে আত্মহত্যা করতেছে।
এমন এক ঘটনা ঘটেছিলো। Foxconn এর কর্মীদের এই আত্মহত্যার ঘটনায় চীন সরকার তাইওয়ানের Foxconn কোম্পানিকে গালিগালা করেছিলো।
ব্যস... এটুকুই।
লোকদেখানো কিছু মামলা হয়েছিলো।
এসব পড়লে আমাদের রানা প্লাজার কথা মনে আসে। 
হায়'রে সস্তা শ্রম। শ্রমিকের শ্রম কিভাবে সস্তা হয় !! আর সেটা নিয়ে গর্ব করা পলিটিসিয়ানেরও অভাব নয় না।
আমার দেশের মানুষের শ্রমের মুল্য অনেক কম, এই কথা বলাটা গর্বের নয়, লজ্জার।

যাই হোক, তাইওয়ানের উপকুলের এলাকাগুলোতে এন্টি ট্যাংক ম্যাকানিজম দিয়ে ঘেরা। তাইওয়ান ভয়ে ভয়ে থাকে কখন কমিউনিস্টরা আক্রমন করে চীন থেকে। মাত্র ১৮০ কিমি দূরে বলে কথা। 
তবে ওই যে বললাম, তাইওয়ানের আর্মি অনেক শক্তিশালী। সফিস্টিকেটেড। আর মার্কিন আর্মির বিশাল ঘাটি আছে সেখানে। আমেরিকার সাথে রক্ষাচুক্তিও করা আছে।
সুতরাং... বুঝতেই তো পারেন

তাইওয়ানের নিজেস্ব ভাষা আছে। আদিবাসীদের ভাষা। কিন্তু তাইওয়ান সরকার স্কুল কলেজে এখনো চীনা ভাষা শিক্ষাতে প্রাধান্য দেয়। কারণ তারা নিশ্চিত, একদিন না একদিন মুল চীনের ভুমি আবার তারা ফিরে পাবে। এক পতাকার নিচে আবার থাকবে এক চীনের মানুষ  গনতান্ত্রিক, পুজিবাদী republic of China

আমাদের দেশেও যেসব দলের সাথে চীনের সম্পর্ক একটু বেশি ভালো, তারা দেখবেন চীনকে খুশি করার জন্য সবসময় বলে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
হা, কথাখানা কেবলই বলার জন্য বলা। বাস্তবে তাইওয়ানের চুল ছেড়ার ক্ষমতা চীনের আছে কিনা, সন্দেহ আছে। থাকলে অনেক আগেই চুল ছিড়তো।

তাইওয়ানের উপকুল থেকে আগে বিশাল বড় লাউড স্কিপার দিয়ে, আবার মাঝেমাঝে গোয়েন্দা বাহিনীর লিফলেট ছড়িয়ে চীনের মানুষকে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সাধীনতা সংগ্রাম করতে আহবান জানানো হয়  তাদের ভাষায়, evil কমিউনিস্ট হটাও, চীন বাঁচাও।
আর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কাছে তাইওয়ান হল আমেরিকার দালাল।

চীনের আসলে ভয় কম নেই।
সামনে তালাকেই চীন তাইওয়ান, জাপান, ফিলিপাইন, দক্ষিন কোরিয়ার চেহারা দ্যাখে। সবই চীনের নাকের ডগায়। এসব দেশ ইকোনমিক্যালি অনেক পাওয়ারফুল। এবং সবগুলো দেশের সাথে আমেরিকার মিউচুয়্যাল প্রোটেকশন ট্রিটি সাইন করা। এবং সবগুলো দেশে আমেরিকার বিশাল বিশাল সামরিক ঘাটি আছে।
এই রিজিওনে চীনের বন্ধু বলতে উপরের রুশরা আর উত্তর কোরিয়া। এই যা।

তাইওয়ানে 95% মানুষ চাইনিজ। ২% আদিবাসী।
দ্বীপটি আবিস্কার করেছিলো ডাচ আর স্প্যানিশরা। এরপরই মুলত মুলভুমি থেকে চাইনিজরা গিয়ে বসবাস শুরু করে।
একসময় জাপান দ্বীপটিকে দখলও করেছিলো। যাই হোক, সেসব পুরন কথা।

তাইওয়ানের আর্মির নাম Republic of China Armed Forces
প্রায় ছয় লক্ষ মানুষ মিলিটারির জন্য available...
মিলিটারি বাজেট ১০ বিলিয়ন ডলার। আমেরিকা, ফ্রান্স, ইসরাইল, জার্মানি সহ উন্নত সবদেশই এর মিলিটারি সাপ্লাইয়ার।

কত প্যাচপুচ

Read More »

Tuesday, February 18, 2020

যুদ্ধ ব্যবসা


যদি আগে থেকেই জানো, যুদ্ধে তুমিই জিতবা, তাহলে তোমার মুখে শান্তির বাণী আসবে না। যুদ্ধ শুরুর পায়তারা তুমিই করবা।
আর যুদ্ধটাই যদি হয়ে যায় বিরাট এক ব্যবসা, তাহলে তো কথাই নেই। ইন্ধনদাতার অভাব হবে না। ইরাক যুদ্ধটা ছিল তেমনই এক ব্যবসা। জর্জ বুশের তথাকথিত ওয়ার অন টেরর শিরোনামে সাদ্দাম হটানোর যুদ্ধটা মোটাদাগে তেলের জন্য যুদ্ধ হলেও গোটা যুদ্ধটাকে পুঁজি করে মার্কিন বড়বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে আমেরিকার ট্যাক্সের টাকা পকেটে ভরেছে, ব্যবসা করেছে এবং ফায়দা উসুল করেছে, সেই বর্ননা ছোট করে লিখবো।

সমগ্র চক্রটি অনেকটা ডাকাতের উপর বাটপারী। বিষয়টি জরুরী। কারণ এই যুদ্ধ বানিজ্যে যে বা যাহারা সবচেয়ে লাভবান হয়, তারা প্রতিনিয়ত লবিং করে যাবে যুদ্ধের জন্য। এবং ভবিষ্যতে আরো যুদ্ধ হবে। কারণ যুদ্ধটাই তো ব্যবসা। বিশেষ করে যখন আপনি আগে থেকেই জানেন, আপনি যুদ্ধে হারবেন না।
২০শে মার্চ, ২০০৩ সাল। ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়। ব্যাপক বিধ্বংসী মরনাস্ত্র আছে সাদ্দামের হাতে, এই বানোয়াট অজুহাতে জর্জ বুশ ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন চালায়। নাম দেন, “অপারেশন ফর ইরাকি ফ্রিডম”। অথচ ঠিক এক দশক আগে বুশের বাবা “সিনিয়র বুশ” ইরাকের সাথে যুদ্ধ করেছিলো কুয়েত ইস্যু নিয়ে। ১৯৯১ সালের যুদ্ধে মার্কিনীরা তখনই পারতো সাদ্দামকে হটিয়ে ইরাক দখলে নিতে। কিন্তু সেসময়ে মার্কিন নীতি নির্ধারকেরা প্রকাশ্যেই বলেছিলো, সাদ্দাম অপসারিত হলে ইরাকের ভেতরে ইরানের ইনফ্লুয়েন্স বাড়বে। শিয়া সুন্নি’র রেষারেসি শুরু হবে। ইরাক তিন খন্ড হবে। মধ্যপ্রাচ্যের স্টেবিলিটি নষ্ট হবে। আপনি ইউটিউবে Cheney in 1994 on Iraq লিখে সার্চ দিলে একটা দেড় মিনিটের ইন্টারভিউ পাবেন। তাতে দেখবেন, ১৯৯৪ সালে ডিক চেনির একটা ইন্টারভিউ। সেখানে তিনি বলতেছেন, ঠিক কি কারণে সাদ্দামকে অপসারণ করা মার্কিনীদের উচিৎ হবে না। অর্থাৎ সাদ্দামকে সরিয়ে দিলে পরবর্তীতে যা যা হবে, সবই ডিক চেনি ১৯৯৪ সালে প্রেডিক্ট করে বলেছিলেন এক টিভি সাক্ষাৎকারে।
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, নয় বছর পর জর্জ বুশ যখন ইরাকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ডিক চেনি আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট! এবং ইরাক যুদ্ধের অন্যতম সমর্থক। এই নয়টি বছরে জিওপলিটিক্স মধ্যপ্রাচ্যে আহামরি বদলায়নি। ১৯৯১ সালে যে লজিকে সাদ্দামকে অপসারণ করা থেকে মার্কিনীরা বিরত ছিল, সে লজিকগুলো ২০০৩ সালেও সমান যৌক্তিক ছিল। কিন্তু এরপরও কেনো এই যুদ্ধ?
সেই সমীকরণ পরে। তবে আগে দেখা যাক, এই যুদ্ধে কিভাবে কতিপয় কর্পোরেশন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পকেটে ভরেছে।
প্রথমেই আসি, আলোচিত সমালোচিত BlackWater প্রসঙ্গে। BlackWater, যার বর্তমান নাম Academi
এটি একটা প্রাইভেট মিলিটারি ফোর্স।
আচ্ছা, তো প্রাইভেট মিলিটারি ফোর্সের সুবিধা কি? সেটা বোঝানোর জন্য বছরখানেক আগের একটা উদাহারণ দিচ্ছি।
রাশিয়ার ২০১৪ সালের ক্রাইমিয়া এনেক্সেশনের কথা মনে আছে? কৃষসাগরের পাশের ক্রাইমিয়া প্রভিন্স ইউক্রেনের মানচিত্রে ছিল। রাশিয়া সেখানে সবুজ ইউনিফর্মের সেনা পাঠিয়েছিলো যাদের ইউনিফর্মে কোনো নাম, পদক, ব্যাচ, বা দেশের পতাকা ছিল না। মিডিয়া এদেরকে নাম দিয়েছিলো রাশিয়ান গ্রিন আর্মি।


বাস্তবে এরা ছিল রাশিয়ার Wagner Group নামের প্রাইভেট মিলিটারির সদস্য। প্রথম এক সপ্তাহ রাশিয়া স্বীকারই করেনি, রাশিয়ান সরকার এদেরকে পাঠিয়েছে। বোঝার কিছুই বাকি ছিল না। যদি কাগজে কলমে বলার উপায় ছিল না যে, “রাশিয়ান আর্মি ইউক্রেনে অনুপ্রবেশ করেছে”
সরকারি আর্মি আর টাকা দিয়ে বা কনট্রাক্ট দিয়ে ভাড়া করা প্রাইভেট আর্মিই এই এক সুবিধা।
সরকারি আর্মির অনেক রুলস রেগুলেশন আছে। প্রাইভেট আর্মির এতোসব নেই। টাকা দিবেন। কনট্রাক্ট দিবেন। কাজ দিবেন। করে দেবে।
আর প্রাইভেট আর্মির সদস্য যদি গুলি খেয়ে মরে, তাহলে সেটা নিয়ে মিডিয়াতে আউটক্রাই হবে না। আফটার অল, মরলে মরেছে ঠিকাদারের লোক। সরকারের দায় সেখানে থাকে না।
তো প্রাইভেট মিলিটারির ব্যবসা হালআমলে বেশ লাভজনক। রাশিয়ার এই Wagner Group বর্তমানে ভেনিজুয়েলাতেও ভাড়া কার্য্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সিরিয়াতে আইসিস বিরোধি যুদ্ধেও এই Wagner Group কে ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ সাবকন্ট্রাক্ট দিয়ে দেয়া হচ্ছে।
দুনিয়াতে বেশকিছু নামকরা প্রাইভেট মিলিটারি ফোর্স আছে।
এদের ভেতর সবচেয়ে নামকরা নিঃসন্দেহে ব্ল্যাকওয়াটার। যার বর্তমান নাম একাডেমি।
বড়সড় যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা আছে এই ব্ল্যাকওয়াটারের।



উপরের ছবিতে ইরাক দখলের পর ইরাকের সার্বিক দায়িত্ব নিযুদ্ধ মার্কিনী প্রশাসক Paul Bremer এর আশেপাশে অস্ত্রধারী যাদের দেখতে পাচ্ছেন, এরা সবাই ভাড়া করা ব্ল্যাক ওয়াটারের সদস্য।
এবং ২০০৩ সালের আগস্ট থেকে ২০০৪ সালের জুন পর্যন্ত পল ব্রিমারের পার্সনাল নিরাপত্তার জন্য ব্ল্যাক ওয়াটার নিযুক্ত ছিল এবং এই কাজের জন্য কনট্রাক্ট ছিল ২১ মিলিয়ন ডলার ! এটা সেই সময়ের হিসাব।
কেবল পল ব্রিমারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কাজটি নয়, ইরাকে সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিল ব্ল্যাক ওয়াটার সহ ২৫টি ছোটবড় প্রাইভেট মিলিটারি এজেন্সি। নিযুক্ত ছিল বিশ হাজারের বেশি ভাড়াটে যোদ্ধা তথা প্রাইভেট মিলিটারি কন্ট্রাক্টর।
https://usatoday30.usatoday.com/news/world/iraq/2004-04-01-security-usat_x.htm (লিঙ্কগুলো কমেন্ট বক্সে পাবেন)
(এই লিখার সকল রেফারেন্স কমেন্ট বক্সে পাবেন)
বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের কনট্রাক্ট সরাসরি কোনো কম্পিটিশন ছাড়া বাগিয়ে নিয়েছে ব্ল্যাক ওয়াটার এই ইরাক যুদ্ধে।

২০০৪ সালে ব্ল্যাক ওয়াটার একটি টেন্ডার জিতেছে যার মূল্যমান সেই সময়ে ১ বিলিয়ন ডলার। এই টেন্ডারটি ছিলো কনফ্লিক্ট জোনগুলোতে মার্কিনী কুটনৈতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বলাবাহুল্য ব্ল্যাক ওয়াটার পরে আরো অনেক টেন্ডার জিতেছে এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পকেটে ভরেছে। লিবিয়ার বেন গাজি’তে মার্কিন কনসুল্যেটে আল কায়দার হামলায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মারা যায়। সেখানেও কিন্তু নিরাপত্তার দায়িত্বে ব্ল্যাক ওয়াটার নিযুক্ত ছিল।
এই ব্ল্যাক ওয়াটারের প্রতিষ্ঠাতা former Navy SEAL officer Erik Prince
উল্লেখ্য যে, এই এরিক প্রিন্স হল বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিক্ষা সচিব বেটসি ডেভোসের ভাই।
সারা দুনিয়া থেকে আর্মির অফিসার, এক্স স্পেশ্যাল ফোর্সের সদস্যদের এরা রিক্রুট করে। বেসরকারি চাকরি। বেতন বেশি। এজন্য দেখা যায় যে হরহামেশা সরকারি মিলিটারির চাকরি ছেড়ে সৈনিকেরা প্রাইভেট মিলিটারিতে ঢুকে পড়ে। ব্যাপারটা আমাদের সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বেশি বেতনের আশায় বেসরকারি চাকরি করতে যাবার মত। এখন আপনার আত্মীয় স্বজনেরা হয়ত বলবে, সরকারি চাকরি সম্মানের। মরে গেলে পতাকা মোড়ানো কফিনে আপনার লাশ থাকবে। স্যালুট পাবেন। কিন্তু আপনার কাছে মনে হতেই পারে, সরকারি চাকরি ছেড়ে প্রাইভেট মিলিটারিতে ঢুকে বেশি স্যালারি পেলে আপনার সংসার ভালো চলবে। চয়েজ আপনার।
তরুণ ছেলেরা মার্কিন স্পেশ্যাল ফোর্সে ট্রেনিং নিয়ে কিছুদিন পর চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রাইভেট মিলিটারিতে ঢুকে পড়েছে, এমন নজির বহু আছে।
আর এরা বেতন দিতে পারে বেশি, তার পেছনে কারণও আছে। সরকারি টেন্ডার জিততেছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের। বাস্তবে যে কাজ হয়ত সরকারি আর্মি দিয়ে করলে অর্ধেকেরও কম টাকা খরচ হয়, সেই কাজ ঠিকাদারদের দিয়ে করানো হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি দামে। আর এই টেন্ডারবাজি করে হাইপ্রোফাইল আমলা অফিসার এবং সিনেটরেরাও পকেট ভাড়ি করতেছে। সেইসব খতিয়ান পরে দিচ্ছি।
তো ব্ল্যাক ওয়াটার ব্যাপারটি শেষ করি। ব্ল্যাক ওয়াটারের নামে অনেক দূর্নাম আছে। ২০০৭ সালে কিছু ব্ল্যাক ওয়াটারের সদস্য অহেতুক ১৪ জন নিরীহ ইরাকিকে গুলি করে মারে। সেটার বিচার হয়েছিলো পরে।
ব্ল্যাক ওয়াটার দুনিয়ার বহু দেশে নিয়োজিত আছে।
যেমন, ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহিরা ছয়জন মার্সেনারিকে হত্যা করে। এরা ছিল ব্ল্যাক ওয়াটারের লোক। আরব আমিরাত এদেরকে ভাড়া করেছিলো হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য।

https://www.theguardian.com/australia-news/2015/dec/09/australian-mercenary-reportedly-killed-yemen-clashes



ব্ল্যাক ওয়াটার, তথা একাডেমি’তে বর্তমানে ২০ হাজার যোদ্ধা কর্মরত আছে। যাদের ভেতর সিংহভাগ মার্কিন মিলিটারির স্পেশ্যাল ফোর্স, গোয়েন্দাবাহিনী সিআইএ, এনএসএ’র সহ বিদেশে মিলিটারি থেকে আসা সাবেক সেনা।

দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে সিকিউরিটি কনসাল্টেন্ট হিসেবেও কাজ করে একাডেমি। ২০১৪ সালে কোম্পানিটিকে Constellis Group কিনে নেয়। Constellis Group বর্তমানে একাডেমি’র মাদার অর্গানাইজেশন।
সিআইএ’র কোভার্ট অপারেশন পরিচালনা, ব্ল্যাক সাইট ইন্ট্রোগ্রেশন চালনা, এসবের কাজও ব্ল্যাক ওয়াটার করে থাকে।
ঠিক ব্ল্যাক ওয়াটারের মত অন্যএকটি প্রতিষ্ঠান Parsons Corporation (Parsons)


যেটা আমেরিকার ভার্জেনিয়া অবস্থিত technology-focused defense, intelligence, security, and infrastructure engineering firm
এতে ১৬ হাজারের বেশি কর্মী নিযুক্ত আছে। ২০টির বেশি দেশি বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড রয়েছে। ২০১৮ সালে কোম্পানির রেভিনিউ ছিল ৩.৬ বিলিয়ন ডলার।
কোম্পানিটি অতীতে স্নায়ু যুদ্ধের সময় মার্কিন মিলিটারির জন্য ইলেকট্রনিক্স ইকুইপমেন্ট, মিলিটারি হার্ডওয়ার, মিসাইল টেকনোলজি, রকেট ডিজাইনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করেছে।
এই কোম্পানিটি ইরাক যুদ্ধের পর ২০০৪ সালে ২৪৩ মিলিয়ন ডলারের কন্ট্রাক্ট পেয়েছিলো ১৫০টি হাসপাতাল নির্মানের জন্য।
Worley Group of Australia নামের কোম্পানির সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের টেন্ডার পেয়েছিলো ইরাকের উত্তরাংশের তেল শৌধনাগারগুলো পুনঃনির্মান করতে।
ইরাকের ধ্বংসপ্রাপ্ত ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিবিল্ড করতে মার্কিন কংগ্রেস যুদ্ধের পরপরই যে ১৮.৬ বিলিয়ন ডলারের থোক বরাদ্দ দিয়েছিলো, তাতে পার্সন কর্পোরেশনের ভাগের ভাগ ছিল ৫ বিলিয়ন ডলার।
ইরাকে মার্কিন সেনাদের থাকার ঘাটিগুলোর বড়একটি অংশ বানাতে পার্সন কর্পোরেশন নিয়েছিলো ১.৫ বিলিয়ন ডলারের টেন্ডার।
https://corpwatch.org/article/iraq-parsons-corp-wins-900-million-contract
https://en.wikipedia.org/wiki/Parsons_Corporation

পার্সন কর্পোরেশনের এসব কন্ট্রাকের স্বচ্ছতা কার্যত কিছুই ছিল। ছিল জনগনের ট্যাক্সের টাকার সিস্টেমেটিক লুটপাট। এই ইস্যু নিয়ে মার্কিন কনগ্রেসে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। ইরাক Reconstruction প্রজেক্টের জন্য মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক নিযুক্ত Special Inspector General, Mr. Stuart W. Bowen ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন কংগ্রেসের HOUSE OVERSIGHT AND GOVERNMENT REFORM COMMITTEE সামনে একটি রিপোর্ট উপস্থাপন করেন, যেটার লিঙ্ক কমেন্ট বক্সে পাবেন।
( https://web.archive.org/web/20080829015422/http://oversight.house.gov/documents/20070215111017-80058.pdf )
এই পিডিএফে সমগ্র বক্তব্যটি আছে।
তাতে শুরুতেই বলা হয়, the reconstruction program in Iraq is unlike any other in history in that it has been carried out virtually under fire.
সেখানে বিভিন্ন কোম্পানির কনট্রাক্ট এমাউন্টগুলোকে উল্লেখ করা হয়। কনট্রাক্টগুলো ছিল cost-plus-award-fee contracts
যেখানে থাকবে base award fee (for simply meeting contract requirements) and a merit-based award fee for performance that exceeds contract expectations.
মোর্দ্দা কথা, ১০ টাকার কাজ ১০,০০০ টাকায় দেবার সবধরণের লুপহোল সেসময় রাখা ছিল। ফলাফল, কোম্পানির টপ ম্যানেজমেন্ট যেমন মোটা অংকের ডলার পকেটে ভরেছে। তেমনই কোম্পানির কর্মকর্তা কর্মচারীরাও লাভবান হয়েছে। দেখা গেল, একজন টেকনিসিয়ান বা একজন ট্রাক ড্রাইভার বা একজন মিস্ত্রিও, আমেরিকা থেকে ইরাকে এসে একমাস পরিশ্রম করে গোটা এক বছরের আয় রোজগার করে ঘরে ফিরেছে।

ইরাকে মার্কিন সেনা ঘাটিগুলোতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দায়িত্বে ছিল Halliburton Company

ইরাক জুড়ে মোট ৬৭টি পানি শোধনাগার বানানোর টেন্ডার নিজেদের পকেটে নিয়েছিলো প্রতিষ্ঠানটি। যদিও ৬৩টি পানি শোধনাগারের পারফর্মেন্স ছিল খারাপ। মার্কিন সেনাদের ময়লা পানি খাওয়ানোর দায়ে হ্যালিবার্টনের বিরুদ্ধে মিডিয়া শোরগোলও শুরু করেছিলো।
তবে তাতে কি? মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি তো এই হ্যালিবার্টনেরই সাবেক সিইও।
পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ তেল খনি সার্ভিসিং কোম্পানি, যার ৫৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োজিত আছে পৃথিবীর ৭০টি দেশে। যার বার্ষিক রেভিনিউ থাকে বিশ বিলিয়ন ডলারের উপরে।
কেবল তেলখনি বা শোধনাগারের কাজ নয়, হ্যালিবার্টনের অধীনে বহু সাবসিডারি কোম্পানি আছে যারা নানাবিধ কার্য্যক্রম পরিচালনা করে।
আবার এসব পানি শোধনাগারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাটি ও মিলিটারি স্থাপনায় পানি সাপ্লাই লাইন এবং Sewage সিস্টেম তৈরির ১.১ বিলিয়ন ডলারের ঠিকাদারি নিয়েছিলো Fluor Company. এই কোম্পানিটির কর্মবাহিনী আছে ৪৪ হাজারের বেশি।
যাই হোক,
ইরাক যুদ্ধে বেশকিছু বড়বড় টেন্ডার বাগিয়ে নিয়েছিলো হেলিবার্টন।
ইরাকে উপস্থিত মার্কিন সেনাদের তিনবেলা খাওয়ানোর জন্য মোট ১.৮ বিলিয়ন ডলারের টেন্ডার নিয়েছিলো প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিটি মার্কিন সেনার জন্য প্রতিবার লন্ড্রি বাবদ মার্কিন সরকারের কাছ থেকে হ্যালিবার্টন নিয়েছে ১০০ ডলার। তাও সেই ২০০৩-০৪ সালের কথা। বিলিভ ইট অর নট, ১০০ ডলার কেবল একজনের কাপড় ধোয়ার জন্য। এখন আপনিই চিন্তা করে বলুন, একজন সোলজারের ব্যাগে আর কতই বা কাপড় থাকে?
আর এই বিপুল পরিমান সেনাদের কাপড় ধোয়ার জন্য ওয়াশিং মেশিন কিনেছে। ডিটারজেন্ট, পানি, সাবান, এসবের আয়োজন করেছে। তাহলে এবার অনুমান করেই দেখুন, কি বিপুল অংকের invoice মার্কিন সরকারের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে কোম্পানিটি।
হ্যালিবার্টনের পলিসি ছিল সহজ।
More money we spend, more money we can get in our pocket.
তো এই যা খাবার দাবার, মালামাল, গোলাবারুদ, রসদ ট্রান্সপোর্টেশন। এরজন্য দরকার প্রচুর পরিমান ট্রাক আর পিকআপ।
বলাবাহুল্য, সেগুলো এসেছে আমেরিকা থেকে। হ্যালিবার্টন ট্রাক কিনেছে, এরপর বিল ধরিয়ে দিয়েছে মার্কিন সরকারের হাতে।
ট্রাকের সামান্য ম্যালফাংশন হয়েছে, ব্যস। সেটা পুড়িয়ে ফেলেছে। ধ্বংস করেছে। আবার নতুন ট্রাক কিনেছে। বিশাল বিশাল কার্গো ভ্যান কিনেছে।
যত কেনাকাটা, তত টাকা।
এসব বড় বড় ট্রাক আর কার্গো ভ্যানের ট্রাক ড্রাইভারেরাও এসেছে আমেরিকা থেকে। তারাও টাকা কামিয়ে গেছে দুখাতে। ঝুকিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিভাতা তো পেয়েছেই।
এক মাসে যা আয় করেছে, আমেরিকাতে হয়ত তা এক বছরেও আয় করে না। রীতিমত উৎসব দেখছি ব্যাপারটা।

নিউইয়র্কের শেয়ার বাজারে ২০০৩ সালে হ্যালিবার্টনের শেয়ার প্রতি মূল্য ছিল ৯ ডলার। ব্যস, ১ বছরে শেয়ার ভ্যালু বেড়ে দাড়ালো ৪২ ডলার। খালি টাকা আর টাকা। সরি, ডলার আর ডলার।

ওই যে বললাম, হ্যালিবার্টনের আণ্ডারে বহু সাবসিডারি কোম্পানি আছে। যার একটি তখন ছিল KBR, Inc.


এটি একটি engineering, procurement, and construction company
এই কোম্পানিটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে পরবর্তীতে বড়বড় সকল মেজর কনফ্লিক্টে মার্কিন আর্মি হয়ে ঠিকাদারি করেছে। এছাড়া কোম্পানিটির আরো বহুবিধ কর্মকান্ড রয়েছে। যেমন, ২০১৭ সালে কোম্পানিটি ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারিদের জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল সাপোর্ট দেবার টেন্ডারকাজ পেয়েছে।
নাসাসহ অন্যান্য স্পেস এজেন্সির লজিস্টিক সাপ্লাই ওয়ার্ক্সে কোম্পানিটি জরিত।
কোম্পানিটির আলোচিত নির্মান কাজের মধ্যে একটি ছিল সৌদি আরবের Sadara Chemical Facility, যেটা কিনা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় Single Phase Chemical Complex
আফগান যুদ্ধের পর কাবুলে ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে নিরাপত্তাঘেরা মার্কিন দুতাবাস তৈরির কাজও করেছে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্পানিটির রেভিনিউ ২০১৮ সালে ছিল ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। দুনিয়ার বিভিন্নদেশে কোম্পানিটি দাপটের সাথে কাজ করে। এবং সুনাম দূর্নাম উভয়ই কামিয়েছে। যেমন, ২০০৯ সালে নাইজেরিয়াতে সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলারের টেন্ডার জেতার জন্য সেখানকার সরকারি কর্মকর্তাদের দশ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়ে ধরা খেয়েছিলো কোম্পানিটি। এজন্য পরে মার্কিন কোর্টে ৪০২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছিলো কোম্পানিটিকে। কোম্পানিটির একজন মহিলা কর্মচারী কোম্পানিটির ভেতরে গ্যাংরেপের শিকার হওয়া সহ আরো ৩৭ জন মহিলা কর্মচারী হ্যারাসমেন্ট সহ নানান অনৈতিক কার্যাবলির খতিয়ান জনসম্মুখে প্রকাশ করলে কোম্পানিটির ভাবমূর্তি আরো নষ্ট হয়।
হ্যালিবার্টনের সাবসিডিয়ারি হিসেবে সেইসময় এই কোম্পানিটি ইরাক যুদ্ধের পর বড়বড় টেন্ডার জিতে নেয় বিনা কম্পিটিশনে, কোনোরুপ সচ্ছতা ছাড়া।
ইরাকী ইনসার্জেন্টরা ইরাকে তেলকুপগুলো ধ্বংস করে দিতে শুরু করলে তেলখনির অগ্নিনির্বাপনের কাজ তদারকি ও ফায়ার ফাইটিং কাজে মোট সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলারের দুই বছরের বিশাল টেন্ডার পেয়েছিলো এই কোম্পানিটি। যাতে কাগজে কলমে ৭% প্রফিট দেখানো হয়। অর্থাৎ কাগজে কলমের হিসেবেও ৪৯০ মিলিয়ন ডলার নীট প্রফিট ছিল কোম্পানিটির।
https://www.myplainview.com/news/article/Halliburton-subsidiary-awarded-7-billion-Iraq-9070450.php
https://corpwatch.org/article/rigged-beginning

আবার হ্যালিবার্টনের মত Washington Group International নামের আরেকটি কোম্পানি ইরাকের তেল কুপ ও তেল শৌধনাগারগুলোর Repair and maintenance কাজের দায়িত্ব পেয়েছিলো যার মূল্য ছিল ৯৩১ মিলিয়ন ডলার। কোম্পানিটি ইরাক পুনঃগঠনের কাজেরও যুক্ত হয়।

ইরাক যুদ্ধে সময় বহু কোম্পানি এভাবে ফুলে ফেপে উঠেছে যার ভেতর ছিল Titan Corporation



যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের প্রচুর অনুবাদকের দরকার হয়েছিলো। আর ১১২ মিলিয়ন ডলারের টেন্ডার নিয়েছিলো টাইটেন কর্পোরেশন। কাজ হল ট্রান্সলেটর প্রোভাইড করা। প্রায় ৪ হাজার অনুবাদক টাইটেনের হয়ে কাজ করেছে। বলা বাহুল্য, রিক্রুটমেন্ট করেছিলো ইরাকে কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের। এছাড়া আশেপাশের আরব দেশ থেকেই আরবি জানা ছেলেপেলে অল্পকিছু বেতন দিয়ে রিক্রুট করে নামিয়ে দিয়েছিলো ব্যাটল ফিল্ডে মার্কিনী সেনাদের সাথে অনুবাদকের কাজে। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইরাকের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়েছিলো। চাকরি বাকরি ছিল না। সামান্য কিছু বেতন দিয়ে ইংরেজি এবং আরবি জানা ইরাকী লোকজন রিক্রুট করে বেশ বড়সড় প্রফিট পকেটে ভরেছিলো টাইটেনের হর্তাকর্তারা।
২০০১ সালে যেখানে টাইটেনের বার্ষিক রেভিনিউ ছিল ৯০০ মিলিয়ন ডলার, ২০০৪ সালে গিয়ে রেভিনিউ দাঁড়ায় ২ বিলিয়ন ডলার।
টাইটেন ৪০৯ মিলিয়ন ডলারের IT Contract নিয়েছিলো মার্কিন মিলিটারির জন্য। যার ভেতর ছিল ৫৪.৮ মিলিয়ন ডলারের Spy plane Control system ডেভোলপমেন্ট কাজ। ১৮ মিলিয়ন ডলারের সিমুলেটর তৈরির কাজ মার্কিন নেভীর জন্য। ১৬৩.৯ মিলিয়ন ডলারের মিসাইল ডিভেন্স ডেভোলপমেন্ট কন্ট্রাক্ট। এছাড়া “full range of planning, analysis, exercise, and information technology services for Chemical, Biological, Radiological, Nuclear, and High-Yield Explosive (CBRNE) Consequence Management operations” কাজের টেন্ডারও নিয়েছিলো টাইটান।

https://web.archive.org/web/20041019134732/http://publicintegrity.org/wow/bio.aspx?act=pro&ddlC=159

আইটি সেক্টরে মিলিটারি কনট্রাক্ট বাগিয়ে নেয়া কোম্পানিগুলোর ভেতর নামকরা বড় কোম্পানি হল CACI International Inc

এই প্রতিষ্ঠানটির ২২ হাজার কর্মী আছে এবং Fortune 1000 largest কোম্পানির একটি। ইন্টেলিজেন্স এবং মিলিটারি আইটি এবং ডিফেন্স সেক্টরে বড়বড় টেন্ডার বাগিয়ে নেয়ার জন্য এই কোম্পানি রীতিমত বিখ্যাত।
আপনি যদি CaCi International এর ওয়েব সাইটে যান, তাহলে বিশাল “What we do” লিস্ট দেখবেন। তাতে উল্লেখযোগ্য মনে হল নিচেরগুলো,
http://www.caci.com/whatwedo.shtml
CACI “what we do” list:
• Shoulder-to-shoulder warfighter mission support
• Multi-domain electronic warfare expertise
• Cutting-edge technology for infrastructure security
• Expertise and technology to improve survivability through adversary capabilities
• Two decades of platform integration experience
• Modernization and sustainment/survivability through Agile technology

২০১৭ সালে রেভিনিউ ছিল সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার।
এই কোম্পানির প্রেসিডেন্ট John S. Mengucci, যিনি অতীতে Lockheed Martin Corp. এর হয়েও কাজ করেছেন। এপ্রসঙ্গে বলে রাখি, Lockheed Martin বর্তমানে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ডিফেন্স কনট্রাক্টরদের ভেতর একেবারে উপরে অবস্থান করে।
https://corpwatch.org/article/private-contractors-and-torture-abu-ghraib-iraq
এই কোম্পানিটির প্রথম কনট্রাক্ট ছিল নব্বইয়ের দশকে প্রথমবারের মত custom-written computer language তৈরি করা battlefield Simulation Program এর জন্য। ২০০১ থেকে ২০০৩ সালে এই কোম্পানির প্রোফিট ডাবল হয়ে যায়।
এই কোম্পানির কাজকর্মের ভেতর আরো একটি সেক্টর হল ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট এবং গ্লোবাল থ্রেট এসেসমেন্ট। সেইসাথে ইন্ট্রোগ্রেশন কাজ পরিচালনা করা। বাগদাদের আবু গারিব কারাগারে রোমহর্ষক বন্দি নির্যাতনের যেসব ছবি গোটা বিশ্বে ভাইরাল হয়েছিল, তাতে জরিত মার্কিন সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়েছিলো মিলিটারি আদালতে। অথচ তাদের সাথে CaCI ইন্টারন্যাশন্যালের যেসব প্রাইভেট ইন্ট্রোগেটর ছিল, তাদের ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন কোনো ধরনের স্টেপ নেয়নি।
সেই সময় ডেমোক্রেট সিনেটর Christopher Dodd আবু গারিব ও কিউবার গোয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দি নির্যাতনের বিরোধিতা করেছিলো মার্কিন সিনেটে দাঁড়িয়ে। এবং বন্দি ইন্ট্রোগেশনের নামে বন্দি নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আওয়াজ তুলেছিলেন।
যুদ্ধ পরবর্তী ইরাকে নতুন করে পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুত করা হয়। এবং এই পুলিশ প্রশাসনকে ট্রেনিং দেবার টেন্ডার নিয়েছিলো DynCorp International.



এটাও বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি যাদের কাজ flight operations support, training and mentoring, international development, intelligence training and support, contingency operations, security, and operations and maintenance of land vehicles.
এই কোম্পানিটা এর আগে আফগান যুদ্ধের সময় হামিদ কারজাই’এর বডি গার্ডের ঠিকাদারি পেয়েছিলো। আফগান যুদ্ধের পর আফগানিস্তানের পুলিশবাহিনীর প্রশিক্ষনের দায়িত্বে ছিল এই প্রতিষ্ঠান। ইরাকের পুলিশ ফোর্স তৈরি এবং ফোর্সের ট্রেনিং দেয়ার কাজে মার্কিন সরকার’কে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিল ধরিয়ে দিয়েছিলো ডাইনকর্প।
আপনি হয়ত হলিউডের The Whitleblower মুভিটি দেখেছেন। এই মুভিটি একটি সত্য ঘটনার আলোকে বানানো। ১৯৯৯ সালে বসনিয়া যুদ্ধের সময় ডাইনকর্প কোম্পানির এজেন্টরা সেখানকার মেয়েদের ধরে Sex Trafficking ব্যবসা শুরু করেছিলো। মুভিটি সেই ঘটনার আলোকে বানানো।

কেবল বসনিয়া নয়, দুনিয়ার আরো অনেক কনফ্লিক্টিং ওয়ার জোনে এসব ডাইকোরের মত মিলিটারি কনট্রাক্টরদের বিরুদ্ধে প্রসটিটিউশন রিং চালানো, নারী পাচার, ইন্ট্রোগেশনের নামে নির্যাতন সহ নানাবিধ অভিযোগ উঠতে শুরু করলে ২০০০ সালে মার্কিন কংগ্রেস আইন পাস করে যার ফলে মার্কিন মুল্লুকের বাইরে, অর্থাৎ ভিন্নকোনো দেশে মার্কিন ডিফেন্স কনট্রাক্টরদের অকামকুকামের জন্য তাদের প্রসিকিউট করা সম্ভব হবে। এই আইনের পর ডাইনকর্পের বিরুদ্ধে বসনিয়ায় ফোর্সড প্রস্টিটিউশন রিং চালিয়ে ব্যবসা করার মামলা আনা হয়। কিন্তু এই কোম্পানিটির মার্কিন কংগ্রেস এবং সিনেটে শক্ত লবিং আছে। ফলে এতো অভিযোগ এবং মিসকন্ডাক্টের পরও এই কোম্পানিটি বরাবরই মার্কিন মিলিটারির বড়বড় কনট্রাক্ট জিতে এসেছে।
http://news.bbc.co.uk/2/hi/americas/7057629.stm
https://en.wikipedia.org/wiki/DynCorp

ইরাক যুদ্ধের পর ইরাকে যে বিপুল পরিমান গোলাবারুদ, গুলির খোলা, পরিত্যাক্ত বোমা যত্রতত্র পড়েছিল, সেসব অপসারণের জন্য Environmental Chemical নামের একটি ক্যালিফোর্নিয়া বেইজড কোম্পানি ৮৭৮ মিলিয়ন ডলারের এবং URS Corporation নামের আরেকটি কোম্পানি ৭৯২ মিলিয়ন ডলারের ঠিকাদারি নিয়েছিলো মার্কিন সরকারের কাছ থেকে।

ইরাকে মার্কিন আর্মির মিলিটারি যানবাহনগুলোর জন্য State of the art armor তথা বর্ম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ছিল Armor Holdings
ইরাক যুদ্ধের পর এই কোম্পানির রেভিনিউ বেড়ে গিয়েছিলো ২,২৪৭%
অর্থাৎ ফুলে ফেপে ওঠা যাকে বলে। ইরাকে গুরুত্বপূর্ণ ডিপ্লোমেটদেরকে এই কোম্পানির বুলেটপ্রুফ বর্ম পড়িয়ে ইরাকে চালাচল করানো হত।

সব ধরণের টেরিটোরিতে চলতে সক্ষম, এমন মিলিটারি যান সরবরাহ করে AM General (a subsidiary of Renco) নিজেদের প্রফিট বাড়িয়ে নিয়েছিলো ৯২%

যুদ্ধ পরবর্তী ইরাকে নতুন সেন্ট্রাল ব্যাংকের ৭০% শেয়ার কিনেছিল HSBC Bank

Cummins Power Generation পেয়েছিল ৪৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন পাওয়ার স্টেশন তৈরির কাজ।
ইংল্যান্ডের MerchantBridge কোম্পানি পেয়েছিলো যুদ্ধ পরবর্তী ইরাকে construction, telecommunications, financial services, real estate, hotels, and information technology industries তৈরির কাজ।
ইরাকের শিল্প মন্ত্রনালয়ের সাথে আতাত করে ৬১ মিলিয়ন ডলার পকেটে ভরেছিলো কোম্পানিটি।

রিক্স ম্যানেজমেন্টের ব্যবসা ইরাকের মত দেশে অনেক লাভজনক। এবং GlobalRisk Strategies নামের কোম্পানি ইরাকের এয়ারপোর্ট, সরকারি অফিস, আইন আদালতের রিক্স ম্যানেজমেন্ট কাজে হাত দিয়ে বাগিয়ে নিয়েছিলো ২৪.৫ মিলিয়ন ডলার। ControlRisks নামের অন্য আরেকটি কোম্পানি রিক্স ম্যানেজমেন্টের নামে ৩৭ মিলিয়ন ডলারের টেন্ডারবাজি করেছিলো।

বুশ প্রশাসনের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে Bechtel corporation ইরাকের ইনফ্রাস্ট্রাকচার অর্থাৎ স্কুল কলেজ বিল্ডিং, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, পার্ক, এসব বানানোর নামে ১৪.৬ বিলিয়ন ডলার পকেটে ভরেছিলো।

আমেরিকার Nour USA Limited পেয়েছিলো যুদ্ধ পরবর্তী ইরাকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের তেলের পাইপ লাইন নির্মানের কাজ।

এভাবে লিখতে লিখতে সারাদিন পার হয়ে যাবে। তবুও লিখা শেষ হবে না।
ছোটবড় কত কোম্পানি যে ইরাক যুদ্ধে পকেটভারি করেছে, সেটার হিসাব নেই।

অথচ এতোকিছু লিখার পরও আমি কিন্তু আসল জিনিসই বাদ দিয়ে গিয়েছি। সেটা হল অস্ত্র।
একটা যুদ্ধ করতে যে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ লাগে, সেই হিসাব কি ইগনোর করা সম্ভব?

আপনি যদি Top 100 Contractors of US Federal Government লিখে সার্চ দেন গুগলে, অর্থাৎ আমেরিকার সরকারি কাজের বড়বড় ঠিকাদারদের তালিকা যদি সার্চ করেন,
তাহলে উইকি’তে নিচের এই পেজটা পাবেন।
https://en.wikipedia.org/wiki/Top_100_Contractors_of_the_U.S._federal_government

দেখাই যাচ্ছে, কেবল শুধু মিলিটারি কনট্রাক্ট নয়, আপনি গোটা মার্কিন ফেডারেল সরকারের ঠিকাদারের তালিকার দিকে তাকালেও দেখবেন,
একেবারে উপরের দিকে প্রায় সবই মিলিটারি হার্ডওয়ার বা অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
একটা টমাহক ক্রুজ মিসাইলের দাম ১.৮৭ মিলিয়ন ডলার। ইরাকে পাইকারিহারে টমাহক ক্রুজ মিসাইলের হামলা চালানো হয়েছে। এসব ক্রুজ মিসাইল মার্কিন মিলিটারিকে সরবারাহ করেছে General Dynamics

বিমান বা হেলিকপ্টার থেকে বৃষ্টির মত ছোড়া AGM-114 Hellfire মিসাইলগুলোর প্রতিটির দাম ১,১৭,০০০ ডলার। মার্কিন মিলিটারি এগুলো কিনেছে Lockheed Martin আর বোয়িং’এর কাছ থেকে।

আকাশে উড়তে থাকা অত্যাধুনিক বিমান, সাগরের বুকে ভেসে বেড়ানো রনতরী, মাটির বুকে চলতে থাকা ট্যাংক, সেইসাথে এসবের গোলাবারুদ,
এসব কিছু সরবারহ করেছে বোয়িং, লকহেড মার্টিং, জেনারেল ডাইনামিক্স’এর মত বিশাল বিশাল ম্যানুফ্যাকচার।

বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পকেটে ভরেছে এসময়ে।

মার্কিন সিনেটে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলা আপাত সুশীল সিনেটর ড্যায়ানা ফেইন্সটেইন পর্যন্ত ইরাক যুদ্ধের পর Military Construction Appropriations subcomittee এর একজন সদস্য হিসেবে নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিজের হাজবেন্ডের নিয়ন্ত্রানাধীন Perini Corporation কে ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের ঠিকাদারি জুটিয়ে দিয়েছিলেন। কাজটা ছিল, ইরাকের পরিবেশ পরিস্কার পরিছন্ন করা।


তো এতোকিছু লিখার উদ্দেশ্য হল, জাস্ট এটা বোঝানোর জন্য যে কি পরিমান ব্যবসা এই ইরাক যুদ্ধকে পুঁজি করে হয়েছে। আমজনতা মোটা দাগে ভাবে, আমেরিকা এসে ইরাক দখল করে ইরাকের তেল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। হাহাহা। কিন্তু ব্যাপারটা আরো জটিল। গোটা যুদ্ধটা একটা ব্যবসা। কর্পোরেশনগুলো যখন যুদ্ধ নিয়ন্ত্রন করে, যুদ্ধটাই যখন হয়ে যায় কর্পোরেশনগুলোর মুনাফা তৈরির মাধ্যম, তখন তো যুদ্ধ আরো হবে।
বিশেষ করে সেইসব যুদ্ধ হবে, যেসব যুদ্ধে না আছে হেরে যাবার ভয়। না আছে লোকসানের ভয়।
ইরাকের কাছে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র ছিল না, এটা ভালো করেই আমেরিকা জানতো। যদি সত্যি সত্যিই ইরাকের কাছে মরনাস্ত্র থাকতো, তাহলে আমেরিকা যুদ্ধে যেতোই না। যেমন উত্তর কোরিয়ার সাথে সে যুদ্ধে যায় না।

আর এই ব্যাপারটাই ভবিষ্যতে ভীতির কারণ।
জন বোল্টনের মত warmonger আমলারা মার্কিন নীতি নির্ধারকদের যুদ্ধে যাবার জন্য ইনফ্লুয়েন্স করে ডিফেন্স কনট্রাক্টরদের কাছ থেকে মোটা টাকা খেয়ে।
যুদ্ধ যখন ঠিকাদারের হাতে চলে যায়, নীতি নয়, টাকা যখন পলিসি নিয়ন্ত্রন করে, যুদ্ধ যখন ব্যবসা হয়ে যায়,
তখন পৃথিবীতে গুলি চলতেই থাকবে। থামবে না।

Read More »

Monday, September 16, 2019

প্রেমের নাম বেদনা- -- স্পাই ভার্সন




প্রেম করে প্রতারিত হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। যুগ যুগ ধরে বহু মানুষ প্রেম করে প্রতারিত হয়ে কেউ নিঃস্ব হয়েছে, কেউ খুন হয়েছে, কেউ জেলে ঢুকেছে, কত কি হয়েছে।

তবে ছবির বাম পাশের এই ফরাসি ভদ্রলোক সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রেম ঘটিত প্রতারণার শিকার।
উনি ছিলেন একজন ফরাসি ডিপ্লোমেট। নাম Bernard Boursicot


তো ফরাসিরা যৌনতার ব্যাপারে একটু বেশি খোলামেলা। যারা ফরাসি মুভি সিরিয়াল দেখেছেন, তারা হয়ত বুঝতে পারবেন।
আমেরিকান মুভিতে ভায়োলেন্স অর্থাৎ যুদ্ধ হানাহানি, মারামারি গোলাগুলি, এসব খুব সহজভাবেই দেখানো হয়। অন্যদিকে যৌনতার দ্রশ্যগুলো 2x লেভেলে সীমাবদ্ধ থাকে। অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপনি নারীর বক্ষ দেখতে পাবেন। কিন্তু পুরুষের লিঙ্গ প্রদর্শন হয়না।
অন্যদিকে ফরাসি মুভি সিরিয়ালে যৌনতাকে খোলামেলা, অর্থাৎ 3x লেভেলেই প্রদর্শন করা হয়। সবই দেখানো হয়। অন্যদিকে যুদ্ধ হানাহানি, গোলাগুলি, এসব কম দেখানো হয়। অর্থাৎ ভিন্নভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। এই বিষয়টা নিয়ে ইভা গ্রিনের একটা সাক্ষাৎকার আছে, যেটা কমেন্টে দিচ্ছি।

তো মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ভদ্রলোকের জন্ম ১৯৪৪ সালে। ভদ্রলোক স্কুলে পড়া অবস্থায় স্কুলের বন্ধুবান্ধবের সাথে সমকামীতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত নিলেন, কোনো নারীর সাথে সম্পর্ক করবেন। সংসার করবেন। প্রেম করবেন। বাচ্চা জন্ম দিবেন। ব্লাহ ব্লাহ ব্লাহ।

১৯৬৪ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে ফরাসি ডিপ্লোমেট হিসেবে কাজ পেলেন চীনের ফ্রেন্স দুতাবাসে।
সেটা ছিল চীনের মাটিতে কোরিয়ান যুদ্ধের পর প্রথম কোনো পশ্চিমা দেশের দুতাবাস। মনে রাখবেন, সালটা ১৯৬৪
তখন কমিউনিস্ট চীন ছিল পশ্চিমাদের জন্য প্রায় নিষিদ্ধ একটি দেশ। তখন তো আর ইন্টারনেট, মোবাইল, এসব ছিল না। পশ্চিমাদের কাছে চীন অনেকটাই রহস্যময়।

তো চীনে গিয়ে এক সুন্দরী ওপেরা গায়িকার প্রেমে পড়ে গেলেন এই ভদ্রলোক।
গায়িকার নাম Shi Pei Pu, বয়স ২৬ বছর।
শুরু হল তুমুল প্রেম।
গভীর প্রেম।
দ্রুতই সম্পর্ক গড়ালো যৌনতার দিকে।
বিয়ে করলেন না। সম্পর্কটা গোপনে চালিয়ে গেলেন। কাজের ফাকে যখনই সময় পেতেন, ছুটে যেতেন পিউ'এর বাড়িতে।

কিন্তু কিছুদিনের ভেতরই এই গোপন সম্পর্কের ব্যাপারে চাইনিজ গোয়েন্দাবাহিনী জেনে গেল। তারা ফরাসি ভদ্রলোক'টিকে ইমোশন্যালি ব্ল্যাকমেইল করলো। বললো, তুমি আমাদের দেশের ওই মেয়ের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারবা না। আমরা ওই মেয়েকে মেরে ফেলবো। কারণ সে ভিন্ন জাতির সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে অন্যায় করেছে। তবে হা, যদি সম্পর্ক রাখতেই চাও, আর মেয়েটির ভালো চাও, তাহলে আমাদের কিছু গোপন নথিপত্র ফরাসি এম্ব্যাসি থেকে চুরি করে দিতে থাকো। তাহলে আর কোনো ঝামেলা হবে না। যা ইচ্ছা করতে থাকো। নো প্রবলেম।

তো প্রেমিক ভদ্রলোক এবার প্রেম ও প্রেমিকা, দুটোর জন্যেই নিজ দেশের সাথে গাদ্দারি করতে শুরু করলেন। কিন্তু আসল কাহিনী হল, তার প্রেমিকা মোটেও ইনোসেন্ট নয়।
সি পেই পিউ আসলে চাইনিজ স্পাই।
চাইনিজ গোয়েন্দাবাহিনীর হয়ে কাজ করে। পেতেছে classic honey-trap
যা হবার সেটাই হল। পরবর্তী প্রায় ২০ বছর প্রেমের সম্পর্ক চলতে থাকলো। আর প্রায় ৫০০ গোপনীয় ডকুমেন্ট চাইনিজ গোয়েন্দাবাহিনীর কাছে হাতবদল হয়ে গেল।

ডিপ্লোমেট হিসেবে কাজ করার কারণে মাঝে বেশকিছুদিন ফরাসি ভদ্রলোক চীনের বাইরে ছিলেন। পরে চীনে ফিরে যখন পিউ'এর সাথে দেখা হল, পিউ একটা বাচ্চা ধরিয়ে দিয়ে বললেন, এটা তোমার সন্তান। :P
ভদ্রলোক তো মহা খুশি।

তো ১৯৮২ সালে ভদ্রলোক তার প্রেমিকা ও সন্তান নিয়ে ফ্রান্সে চলে এলেন।
বহু কষ্টে প্রেমিকার ফরাসি ভিসা ম্যানেজ করেছিলেন।
সমস্যা হল,
বেশকিছুদিন ধরেই ফরাসি গোয়েন্দাবাহিনী ভদ্রলোকের কাজকর্মের দিকে নজর রাখছিলেন। সেহেতু ফ্রান্সের মাটিতে নামার কিছুদিন পরই ভদ্রলোক এবং তার প্রেমিকা পিউ গ্রেফতার হল।

প্রায় বিশটি বছর প্রেম করার পর ভদ্রলোক জানতে পারলেন তার জীবনের করুণ পরিনতির বিষয়টি।
তিনি প্রতারিত হয়েছেন :P
পিউ আসলে চাইনিজ স্পাই।
এবং আরো দুঃখের ব্যাপার হল, পিউ আসলে নারী নয়, পুরুষ :P সুস্থ স্বাভাবিক একজন পুরুষ।
যার অসাধারণ ক্ষমতা আছে to retract his own testicles, which, combined with the manipulation of his own penis, created the illusion of labial lips and a clitoris and allowed for shallow penetration.

হায়রে দুনিয়া। :(
বিশ বছর প্রেম করে, তথাকথিত বাচ্চা পয়দা করে, প্রেমিক জানতে পারলো প্রেমিকা আসলে নারী নয়। নারী ছদ্মবেশি পুরুষ।

আমি জানি, এবার আপনাদের মাথায় নানান চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। কিভাবে সম্ভব !!
:v যাই হোক, চিন্তাভাবনা করতে থাকুন :v
মাথায় যা আসে, ভেবে নিন :P
M.Butterfly নামে একটু মুভি আছে। ওটা দেখতে পারেন। যদিও পুরোপুরি ব্যাপারটা দেখানো হয়নি।
Kang Sheng ছিলেন Shi Pei Pu এর কনট্রোলিং ইন্টেলিজেন্স অফিসার। তার লিখা বই the Chinese Secret Service এ Shi Pei Pu এর ক্যারিয়ার কভার করা হয়েছে।

তো ফরাসি ভদ্রলোক এবং সি পেই পিউ এর জেল হয়।
কিন্তু সেইসময় পশ্চিমাদের সাথে চীনের সম্পর্ক ভালোর দিকে যেতে শুরু করেছে।
তো ফরাসি প্রেসিডেন্ট দুজনকে সাধারণ ক্ষমা প্রদান করেন। পিউ মুক্ত হয়ে চীনে ফিরে যান।
পরে মাঝেমাঝেই তিনি ফ্রান্সে আসতেন। তার পালিত সন্তানের খোজখবর নিতে।
২০০৯ সালে ফ্রান্সে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

ওদিকে ফরাসি সেই ভদ্রলোক Bernard Boursicot এই পোস্ট লিখা পর্যন্ত এখনো বেঁচে আছেন।

নিচের ছবি'তে ডান পাশের ভদ্রলোকটি ছিল সেই shi Pe Peu
নিচের ছবিতে অবশ্য ছদ্মবেশে নয়, বরং পুরুষের পোষাকেই আদালতে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

হায়রে প্রেম।
Read More »

অজিত দোভাল, The Indian James Bond


অজিত দোভাল'কে বলা হয় ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড


বাস্তবে অজিত দোভালের ক্যারিয়ার জেমস বন্ডের চেয়েও ইন্টারেস্টিং।
১৯৭১ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সবমিলিয়ে ১৭ বার ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সে হাইজ্যাকিং'এর ঘটনা ঘটেছে। এবং প্রতিবারই এই অজিত দোভাল টেরোরিস্টদের সাথে নেগোসিয়েশন করেছেন। এবং সফলভাবে।

সুতরাং বুঝতেই পারতেছেন, মুখ চালু লোক। এবং মানুষকে কনভিন্স করার অসাধারণ ক্ষমতা আছে উনার।

ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে ক্যারিয়ার শুরু। এরপর সেখান থেকে ইন্ডিয়ান ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর আন্ডারকভার এজেন্ট।
রীতিমত স্পাই।
ভারতের মিজোরামে চলছিল তখন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। অজিত দোভাল ঢুকে পড়েন Mizo National Front এর ভেতর। তাদের সাথে মিশে চীনে এবং মিয়ানমারের মাটিতে লুকিয়ে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাটিতে থেকেছেন। মিশে গিয়েছিলেন তাদের টপ লিডারদের সাথে। এরপর Mizo National Front (MNF) এর সাতজন কমান্ডারদের ভেতর ছয়জনকে তিনি কনভিন্স করাতে সক্ষম হয়েছিলেন ভারতীয় সরকারের সাথে শান্তি আলোচনায় যেতে।
এবং তাহারা কেউই বুঝতে পারেনি, দোভাল মুলত ভারত সরকারেরই স্পাই।
তাহলে বুঝে দেখুন, কনভিন্স করার ক্ষমতা তার কি অসাধারণ !!
দোভাল না হলে মিজোরাম ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রনে বাইরে চলে যেতো হয়ত।

এবং ঠিক একই কাজ তিনি করেছেন সিকিমে।
সিকিমকে ভারতের সাথে জুড়ে নেবার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করেছিলো অজিত দোভাল।
এবং সেখানেই আন্ডারকাভার স্পাই হিসেবে ঢুকে গিয়েছিলো সিকিম সরকারের উচ্চমহলে। এরপর যথারীতি তার কনভিন্সিং ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কার্যউদ্ধার করে ছেড়েছিলেন।
সিকিম আজ ভারতের অংশ।

অজিত দোভাল এরপর চলে যান পাকিস্তানে। কোরান মুখস্ত তার। পাকিস্তানে সাত বছর আন্ডারকাভার স্পাই হিসেবে থেকেছেন তিনি। এবং সেখানে মুসলিম হিসেবে থেকেছেন। রেগুলার মসজিদে যেতেন। নামাজ পড়তেন। পাকিস্তানিদের সাথে একেবারে মিশে গিয়েছিলেন।

ভারতের গোল্ডেন টেম্পেলে Sikhs ইন্সার্জেন্সি শুরু হলে দোভাল পাকিস্তানি গোয়েন্দাবাহিনীর স্পাই ছদ্মবেশ নিয়ে ঢুকে পড়েন গোল্ডেন টেম্পেলে। :P
সেখানে Sikhs বিদ্রোহীদের গিয়ে বলেছিলেন, ভারত সরকারের বিরুদ্ধে আপনাদের সংগ্রামে পাকিস্তান আপনাদের পাশে থাকবে। হেল্প করার জন্য আমাকে পাঠিয়েছে। :P অর্থাৎ তিনি আইএসআই এজেন্টের ছদ্মবেশে Sikh বিদ্রোহীদের সাথে মিশে গেলেন। এরপর তাদের কাছ থেকে ক্রিটিক্যাল সব তথ্য নিয়ে ইন্ডিয়ান ইন্টেলিজেন্সকে জানাতে শুরু করলেন। তার তথ্যের উপর ভিক্তি করে ভারতীয় সেনারা গোল্ডেন টেম্পলে Operation Black Thunder পরিচালনা করে।
In 1988, Doval was granted one of the highest gallantry awards, the Kirti Chakra, becoming the first police officer to receive a medal previously given only as a military honour.

দোভাল ইন্ডিয়ান ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর অপারেশন উইংএর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় একযুগেরও বেশি সময়।
এবং পরে Multi Agency Centre (MAC), এবং Joint Task Force on Intelligence (JTFI) এর চেয়ারম্যানও ছিলেন।

অজিত দোভাল জম্মু কাশ্মিরের একজন প্রাক্তন MLA, Mohammad Yusuf Parray কে দিয়ে Counter insurgency pro-India militant outfit, Ikhwan-ul-Muslemoon সংগঠন খুলে ফেলেন ১৯৯৬ সালে। এদের দিয়ে pro-Pakistani militants দের কাউন্টার দিতে শুরু করেন।
অর্থাৎ কাটা দিয়ে কাটা তোলা।
তখন দোভাল ছিলেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর অপারেশন উইংএর চিফ।

২০০৫ সালে অজিত দোভাল অবসর নিয়েছিলেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর চিফ হিসেবে।
এরপর কিছুদিন অবসর কাটানোর পর রাজনীতিতে আসেন।
২০১৪ সাল থেকে মোদী সরকারের national Security advisor হিসেবে দায়িত্বপালন শুরু করেন।
২০১৪ সালে সিরিয়াতে আইসিসের হাতে আটক ৪৬ জন ভারতীয় নার্সের মুক্তির জন্য Hostage negotiation এই অজিত দোভালই করেছিলেন এবং তিনি নার্সদের মুক্ত করতে সক্ষম হন।

অজিত দোভাল ভারতীয় ফরেন পলিসি'তে বেশকিছু পরিবর্তন ইতিমধ্যেই এনেছেন। ভারত সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক এখন অজিত দোভাল।

Read More »

Monday, August 5, 2019

ভেনিজুয়েলা পাঠ


হাইপোথেট্যিকাল এক পরিস্থিত। কাল্পনিক এক চরিত্র আবুল। ১০ বিঘা জমির মালিক। এই দশ বিঘা জমিতে ফসল ফলিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আবুলের সংসার চলে।
তো ১০ বিঘা জমিতে ধরে নিন একটা নির্দিষ্ট পরিমান ধান গড় অনুপাতে সারা বছরে উৎপাদন সম্ভব। যেহেতু গল্পটা কাল্পনিক এবং বোঝানোর সুবিধার জন্য লিখা, এজন্য ধরে নিন প্রতি মন ধানের বাজার মূল্য ১০০ স্বর্নমুদ্রা !!
হঠাৎ বাজারে ধানের দাম বাড়তে শুরু করলো। ওদিকে প্রতি মন ধানের উৎপাদন খরচ অপরিবর্তিত রইল। ফলে উৎপাদিত ধান বিক্রি করে অধিক মুনাফা লাভ করতে শুরু করলো আবুল।
ধানের দাম যত বাড়ে, আবুলের মুনাফাও তত বাড়ে। একসময় মন প্রতি ধানের বাজার মূল্য গিয়ে দাড়ালো ৫০০ স্বর্ণমুদ্রা !
অর্থাৎ আয় বেড়ে গেল পাঁচগুন।
আয় যত বাড়তে শুরু করলো, আবুলের জীবনযাত্রার মানও তত বাড়লো। আগে আবুল মোটর সাইকেলে ঘুরতো। সেটা বাদ দিয়ে গাড়ি কিনলো।
আবুলের আয় যত বাড়ে, খরচও তত বাড়ে। লাইফ স্টাইলের উন্নতি ঘটে।
আবুলের বৌ ছিল একজন। টাকা পয়সার মালিক হবার পর দ্বিতীয় বিয়ে করলো আবুল। পকেটে পয়সা বেড়ে গেলে পয়সার গরমও বাড়ে। জুয়া খেলতে শুরু করলো আবুল।
বাসায় কর্মচারী নিয়োগ দিলো সেবাযত্নের জন্য। আগে নিজের কাপড় নিজে ধুইতো, এখন কাপড় ধোয়ার জন্য একজন আলাদা লোকই আছে তার।
আবুলের লাইফ স্টাইলের এই বিশাল পরিবর্তন এসেছে বাজারে ধানের দামের ক্রমবৃদ্ধির কারণে। ধানের দাম যত বেড়েছে, আবুলের আয় তত বেড়েছে। ফুটানিও তত বেড়েছে।
হঠাৎ যদি ধানের দামের পতন হয়, হঠাৎ যদি বাজারে প্রতি মন ধানের মূল্য ১০০ স্বর্ণমুদ্রায় নেমে আসে, আবুলের এই জাঁকজমক মুহুর্তেই মিলিয়ে যাবে। যে বিশাল খরুচে সিস্টেম দাড় করিয়ে ফেলেছে সে, সেটা বেসামাল হয়ে যাবে। ৫০ জন কর্মচারী না হয় ছাটাই করতে পারবে, কিন্তু ইতিমধ্যে ২টা বিয়ে করেছে, ১৫টা সন্তানের জন্ম দিয়েছে, তাদের তো ছাটাই করতে পারবে না !!
যখন সুসময় ছিল, আবুল ভালোভাবেই এদের মেন্টেন করেছে, কিন্তু এবার?
আবুল যেটা করেছে, সেটা হল মিসম্যানেজমেন্ট। যখন গোলা ভরা ধান ছিল, তখন রেধেছে আর খেয়েছে। ভবিষ্যতের কথা ভাবেনি।

এবার পরিস্থিতি ভয়াবহ। আবুলের অবস্থা বেসামাল।

এবার আসি ভেনিজুয়েলার কথায়।



অনেকে ভেনিজুয়েলার বর্তমান সিচ্যুয়েশন যেভাবে এনালাইসিস করে, সেটা অনেকটা আমার বানানো কাল্পনিক এই গল্পটার মত যা উপরে লিখলাম।
দক্ষিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা বাংলাদেশের চেয়ে আয়তনে প্রায় আটগুণ বড়। মূলত স্প্যানিস ভাষাভাষীর মানুষের বসবাস সেখানে। তবে স্বীকৃত আঞ্চলিক ভাষা আছে ২৬টি। জনসংখ্যা সাড়ে তিন কোটির কাছাকাছি। মেজরিটি ক্যাথেলিক খ্রিস্টান।



কিন্তু এসবকিছুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি হল, পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় তেলের মজুদ আছে ভেনিজুয়েলার মাটির নিচে। এখানে শুরুতেই একটা কথা বলি। তেলের মজুদ থাকা এক জিনিস। আর সেই তেল তুলতে পারার, রিফাইন করার ক্ষমতা, এসব আরেক জিনিস।



https://www.worldatlas.com/articles/the-world-s-largest-oil-reserves-by-country.html

৩০ হাজার কোটি ব্যারেলের অধিক তেলের মজুদ আছে ভেনিজুয়েলার মাটির তলে।

কাগজে কলমে ভেনিজুয়েলা পৃথিবীর সবচেয়ে বিত্তশালী দেশগুলোর ভেতর পড়ে। কিন্তু সম্পদ শুধু থাকলেই হয় না, সেই সম্পদ কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং হবে, সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভেনিজুয়েলার Lake Maracaibo অঞ্চলে তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। ফলে, দ্রুতই কৃষিপন্ন রপ্তানি নির্ভর ছোট অর্থনীতি থেকে সরে গিয়ে তেল রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে ভেনিজুয়েলা। রাতারাতি গুপ্তধন পাবার মত ব্যাপার। আঙ্গুল ফুলে বটগাছ।
ভেনিজুয়েলার মানুষের জীবনযাত্রার মানের ব্যাপক উন্নতি হতে থাকে। এবং এই উত্তরণ ১৯৮০ সাল পর্যন্ত চলেছে। ছোটখাটো হোচট খেলেও বড়কোনো ডিজাস্টার হয়নি। কখনো সরাসরি ডিক্টেটরশিপের আন্ডারে আবার কখনো গনতান্ত্রিক লেবাজধারী ডিক্টেটরশিপের আন্ডারে পরিচালিত হয়েছে ভেনিজুয়েলা। হয়েছে ব্যাপক দূর্নীতি। হয়েছে Mismanagement.
কিন্তু উপরে বলা সেই আবুলের গল্পের মত, যতদিন ধানের দাম ক্রমবর্ধমান ছিল, ততদিন আবুল যা ইচ্ছা করেছে। জুয়া খেলেছে, মদ খেয়েছে, ছয়নয় করেছে, কিন্তু এরপরও সংসার চলেছে আরামছে। কারণ টাকা তো প্রচুর আয় হচ্ছিলো। সুতরাং এদিকসেদিকে অপচয় হলেও ব্যাপারটা তখন গায়ে লাগেনি।

আমি ডিটেইলস ইতিহাসে যাবো না, কারণ আলোচনা আরো জটিল হয়ে যাবে। দ্রুত ইতিহাসের কিছু অধ্যায় তুলে ধরে বর্তমানে আসার চেষ্টা করবো।

তো যা বলছিলাম। ১৯৭৬ সালে ভেনিজুয়েলার সরকার ভেনিজুয়েলার Oil Industries জাতীয়করণ শুরু করে। বেশকিছু ওয়েল ইন্ড্রাস্ট্রি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। তবে সব নয়।
সোজা বাংলায় বলি জাতীয়করণ বা রাষ্ট্রীয়করণ ব্যাপারটা। ভেনিজুয়েলাতে তেল ও গ্যাসের সবই তুলতো বিদেশী কোম্পানিগুলো। আফটার অল, বিদেশী কোম্পানিগুলোই ভেনিজুয়েলাতে তেলের সন্ধান পেয়েছিলো এবং তেল তুলে প্রক্রিয়াজাতকরণের মত টেকনিক্যাল knowhow এবং এক্সপার্টিজ বিদেশীদেরই ছিল।
ভেনিজুয়েলার সরকার বেশকিছু তেল স্থাপনা নিজ দায়িত্ব নিলো।
একটা ভিন্ন উদাহরণ টেনে আনি।
ইরানের মাটির নিচে প্রথম তেলের সন্ধান পাওয়া যায় ইরানের আবাদান এলাকায়। তো সন্ধান পেলেই শুধু হবে? তুলতে হবে না? আর তুলতে গেলে তো টেকনোলজি লাগবে। তখন ব্রিটিশরা এগিয়ে আসলো। তাদের কাছে আছে প্রযুক্তি। ইরানকে বললো, আসো, দুজন মিলে একটা কোম্পানি খুলি। তবে শর্ত যা আয় হবে, ৮৪% আমার, বাকি ১৬% তোমার !
এখন ইরান কি অফার ফিরিয়ে দেবে? চিন্তা করে দেখুন, নাই মামার চেয়ে তো কানা মামা ভালো। আফটার অল, মাটির তলে তেলের ভান্ডার রেখে লাভ কি যদি কাজেই না আসে, তুলতেই না পারে। সুতরাং অফার মেনে নিতেই হবে। মন্দের ভালো। সুতরাং নিজ দেশের তেল অথচ ভাগের ভাগ মাত্র ১৬%
চিন্তা করেন অবস্থা !! তো ইরান আর ব্রিটিশরা মিলে খুলে ফেললো Anglo Persian Oil Company Ltd.
অনেকদিন পারস্য অঞ্চলে ব্যবসা করেছে এই কোম্পানি।
এরপর ১৯৫২ সালে ইরানে বিপ্লব হল। ডক্টর মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ক্ষমতায় এলো। এবং ইরানের তেলকুপ ও তেল শোধনাগারগুলো জাতীয়করণ করলো। অর্থাৎ ইরানের সম্পদ এবার ইরানিরাই দখলে নিলো। ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ব্রিটিশদের বের করে দিলো। এরপর সেই Anglo Persian Oil Company নাম পরিবর্তন করে হয়ে গেল ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম অর্থাৎ বিপি।

তো ফিরে আসি ভেনিজুয়েলা প্রসঙ্গে। ১৯৭৬ সালে ভেনিজুয়েলা তাদের পেট্রোলিয়াম ইন্ড্রাস্ট্রিগুলো রাষ্ট্রয়ত্বকরণ শুরু করার পর থেকে ভেনিজুয়েলার সরকার আয় গেল বেড়ে। (তবে মোট প্রোডাকশন রেট কমে গেল। কারণ remainging foreign/ international oil Company গুলো নিজেদের অবস্থান নিয়েই চিন্তিত হয়ে পড়লো। তারা ইনভেস্টমেন্ট ও ডেভলপমেন্ট কমিয়ে দিলো)
স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করুন। আগে আপনি ভাগের ভাগ পেতেন ১০ থেকে ২০%। হঠাৎ যদি ৮০% দখলে পান, তাহলে আয় তো বাড়বেই। এখন সরকারের হঠাৎ আয় বেড়ে গেলে সরকারও হয়ে যায় উপরের গল্পের সেই আবুলের মত।
সরকার এবার বেশিবেশি পাবলিক স্পেন্ডিং শুরু করলো। বাজেট বাড়ালো। ব্যয় বাড়ালে। টেকসই উন্নয়নের দিকে না গিয়ে শর্ট টার্ম ফটকাবাজিতে ঝোক ছিল বেশি।

ধাক্কা খেলো আশির দশকে এসে। তেলের দাম গেল ধপাস করে নেমে।
১৯৮৫ সালে সৌদি’রা মার্কিনীদের সাথে পরামর্শ করে তেলের প্রোডাকশন ব্যাপক বাড়িয়ে বাজার তেলে সয়লাব করে দিলো। চাহিদার তুলনায় বাজারে যোগান বাড়িয়ে দাম কমিয়ে দিলো।
সৌদিদের আবার তেল তোলার ক্ষমতা ভেনিজুয়েলার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। আফটার অল, পশ্চিমা বড়বড় তেল কোম্পানি এবং মার্কিন সরকার সরাসরি সেখানে টেকনিক্যাল সাপোর্ট এবং এক্সপার্টিজ দিতো। সৌদিতে মার্কিন ইনভেস্টমেন্টেরও অভাব হইতো না। হয়ও না এখনো।
তেলের এই প্রোডাকশন বাড়ানোর পেছনে সৌদিরা অফিসিয়ালি যা বলেছিলো, সেটা হল, OPEC দেশগুলো গোপনে গোপনে প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত কোটার চেয়ে বেশি পরিমান তেল তুলে বিক্রি করতেছিলো বেশি পয়সা কামানোর ধান্দায়। তাদের শায়েস্তা করতে সৌদিরা বাজারে তেলের দাম কমিয়ে দেবার জন্য একাজটি করেছিলো।
তবে নিন্দুকেরা বলে, মূল লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনীতিতে আঘাত করা। সেসময় আফগান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সোভিয়েত’রা অর্থনৈতিকভাবে নাজুক পরিস্থিতির ভেতরে ছিল।
যাই হোক, ১৯৮৫ সালের ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বারবার মূল টপিক্স বাদ দিয়ে এদিকে সেদিকে লাফ দিচ্ছি। এজন্য দুঃখিত।
তো, এসময় পরিস্থিত সামাল দেবার জন্য যেসব ইকোনমিক্যাল মেজার্স নেবার দরকার ছিল, ভেনিজুয়েলার সরকার তা নিতে ব্যর্থ হল। ভুলভাল পলিসির ইমপ্লিমেন্টেশনের কারণে সিচ্যুয়েশন গেল আরো খারাপ হয়ে। শুরু হল প্যানিক।
একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, ভলাটাইল ইকোনমিক্যাল সিচ্যুয়েশন থাকলে দূর্নীতি যেমন বেশি হয়, বিদেশে অর্থ পাচারও তেমন বেড়ে যায়। কারণ মানুষ তার অর্জিত ধনসম্পদ হেফাজত করতে চেষ্টা করে। এটা মানুষের স্বাভাবিক প্রবনতা।
আপনি যদি জানেন, আপনার ব্যাংকে জমানো ১০ লক্ষ টাকা ক্রমশ মূল্য হারাবে, উচ্চ মুদ্রাস্ফিতি তথা ইনফ্লেশনের কারণে, তাহলে আপনি হয় বৌ’এর জন্য সোনাদানা বা গয়না কিনে ঘর ভরে ফেলবেন, আর না হয় টাকাপয়সা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করবেন।
যে দেশে সোশ্যাল সিকিউরিটি নেই,
সেই দেশে মানুষ দূর্নীতি প্রবন বেশি হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটি, অর্থাৎ বেকার ভাতা, পেনশন, মেডিকেল বা হেলথ ইন্সুরেন্স, এসব না থাকলে মানুষ দেখবেন সবসময় টাকা জমানোর দিকে ঝুকবে। বাংলাদেশে আমরা যেমন করি। সবসময় ভবিষ্যতের চিন্তা করি। একটা বড়সড় অসুখ হতে পারে। বিপদ আপদ আসতে পারে। হেলথ ইন্সুরেন্স নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যেও কিছু জমিয়ে যেতে হবে। কারণ রাষ্ট্র দায়িত্ব নেবে না। এরকম সিচ্যুয়েশনে মানুষ টাকা জমিয়ে নির্ভার হয়।
আর জমানো টাকার হেফাজত করতে কে না চায়? তো দূর্নীতি সবচেয়ে বেশি করে রুলিং ক্লাস। ক্ষমতাবানেরা। উচ্চবিত্তরা। দূর্নীতির টাকা নিজ দেশে রাখা বিপদজনক। কারণ হিসাব দেখাতে হবে, উৎস দেখাতে হবে। অন্যথায় পুলিশে বা দুদকে ধরবে। এজন্য এই টাকা হয় নামে বেনামে রাখবে, অন্যথায় বিদেশে পাচার করে দেবে। বিদেশে পাচার করে দেয়াটা দূর্নীতিবাজদের জন্য নিরাপদ।
যেমন আমাদের দেশে আমরা হরহামেশা শুনি, হাজার কোটি টাকা মালেয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে চলে যাচ্ছে। সুইস ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। তো এসব পাচার করে সমাজের উচ্চবিত্ত, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
আবার এসব প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবানেরা তাদের দূর্নীতি এবং বিত্ত পাচার চালিয়ে যেতে রাষ্ট্রযন্ত্রের ইনিস্টিটিউশনগুলো, যেমন দূর্নীতিদমক কমিশন, পুলিশ, প্রশাসন, বিচারবিভাগ, ইত্যাদি ধ্বংস করে অথবা করাপ্টেড করে ছাড়ে, অথবা ইন-ইফেক্টিভ করে রাখে।
কারণ চিন্তা করুণ। দূর্নীতিদমন কমিশন যদি শক্তিশালি থাকে, তাহলে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদগনের দুর্ণীতি বা টাকা পাচার ধরে ফেলবে, জেলে ভরবে, তখন তাদের খেল খতম।
এজন্য এরা এসব প্রতিষ্ঠানকে কখনোই ইফেক্টিভ হতে দেয় না। এসব দেশে দুর্ণীতি দমন কমিশন কেবল লোক দেখানো কিছু সরকারি আমলা পাকড়াও করবে দুর্নীতির অভিযোগ। পুটি মাছ ধরবে। কিন্তু কখনোই রাঘব বোয়ালের দিকে চোখও দেবে না।
এগুলো একটার সাথে আরেকটা ইন্টারকানেক্টেড।
একটা বাড়লে অন্যটা বাড়ে। একটার জন্য অন্যটা দায়ী।

তো Capital Flight বলে একটা টার্ম আছে। দেশের ধনী এবং মধ্যবিত্ত শ্রেনী যখন দেখবে, দেশে টাকা পয়সা রাখা নিরাপদ নয়, তখন সেই সম্পদ বিদেশে পাচারের প্রবনতা বাড়বে।
আশির দশকের শুরুতে তেলের দামের পতনের পর ভেনিজুয়েলাতে বেশকিছু পলিটিক্যাল চেঞ্জ এলো। পলিটিক্যাল সিস্টেম ডি’সেন্ট্রালাইজ করা হল। কিন্তু পরিস্থিত সবসময় থাকতো ভলাটাইল।
আন্দোলন, ক্যু, দাঙ্গাহাঙ্গামা লেগেই থাকতো। ১৯৯৮ সালে আরেক দফা তেলের দামের ভয়াবহ পতন হল।
সেইসাথে ১৯৭৬ সালে Oil industries জাতীয়করণ শুরু করার পর থেকে Oil industry গুলোর অবস্থাও খারাপ। Venezuelan state-owned oil company Petróleos de Venezuela S.A. (PDVSA) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৬ সালে। আমাদের দেশের পেট্রোবাংলার মত।
সরকারি খাতে গেলে যা হয় আরকি !! যেমন বাংলাদেশের রেলওয়ে, বিআরটিসি সহ আরো যত সরকারি মালিকানাধিন সেক্টর আছে, সবগুলোর অবস্থা চিন্তা করুণ এবং ব্যাপারটা অনুমান করতে পারবেন।
আমরা যেমন হরহামেশা বলি, সরকারি খাতে কোনোকিছু থাকলে সেগুলো ভালোভাবে চলে না। ম্যানেজমেন্ট ঠিক থাকে না। লোকসানে চলে। এবং সার্ভিসের মানও খারাপ হয়ে যায়। ব্যাপারটা তেমন।

১৯৭৬ সালে থেকে তেলের প্রোডাকশন কমে যায়। ১৯৭০ সালে ভেনিজুয়েলা সর্বোচ্চ তেল তুলেছিলো ৩.৫ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন। এবং অবাক হবার মত বিষয় হল, তেল তোলার সর্বোচ্চ লিমিট বা ক্ষমতা আজ পর্যন্ত বাড়েনি।
১৯৮৯ সালে IMF-backed austerity মেনে নিতে হয় ভেনিজুয়েলাকে।



১৯৮৯ সালে থেকে তেলের উৎপাদন আবার উর্ধমুখি হলেও মানুষের জীবনযাত্রার মানের এই পতনের কারণে ১৯৯৯ সালে Bolivarian Revolution শুরু হল। হুগো স্যাভেজ ক্ষমতায় এলো।
ইতিহাসের অনেককিছু আমি স্কিপ করে গেলাম। অতীত ইতিহাস নিয়ে বেশি ডিটেইলসে যাবো না।

হুগো স্যাভেজের সোশ্যালিস্ট সরকারি সিস্টেম ক্ষমতায় এসে ভাগ্যের সহায়তা পেলো শুরুতেই। চিত্রটা নিচে দিচ্ছি।


খেয়াল করে দেখুন, যে বছর হুগো স্যাভেজ ক্ষমতায় এলো, অর্থাৎ ১৯৯৯ সাল... তখন থেকে তেলের দাম বেড়ে ১৯ ডলার প্রতি ব্যারেল থেকে লাফাতে লাফাতে ৯৭ ডলারে গিয়ে থেমেছে ২০১৩ সালে।
অর্থাৎ ক্ষমতা গ্রহনের পর থেকে ২০১৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হুগো স্যাভেজের শাসনামলে তেলের দাম বেড়েছে।
(২০০৮-০৯ সালে গ্লোবাল ইকোনমিক ক্রাইসিসের কারনে একটু পতন হয়েছিলো। কিন্তু সেটা আবার ঠিকই বেড়েছে দ্রুত)
তেলের এই দাম বৃদ্ধির সুফল স্যাভেজ পেয়েছে।
প্রচুর সরকারি হাসপাতাল, স্কুল কলেজ, সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ার প্রোজেক্ট, হাউজিং প্রজেক্ট, এটাসেটা, নানান প্রজেক্ট গর্ভমেন্ট ফান্ডিং’এ করেছে তেল বিক্রি করা টাকায়।
সৌদি আরবের মত ভেনিজুয়েলার কোনো Social Welfare Fund (SWF) ছিল না। সৌদি আরব যেখানে ১০ টাকা আয় করলে ৭ টাকা ব্যয় করে ৩ টাকা ভবিষ্যতের আপদকালিন সময় মোকাবেলার জন্য SWF ফান্ডে রাখতো, সেখানে ভেনিজুয়েলা তেলখাতে আয় করা রেভিনিউ পুরোটাই ব্যয় করতো।

এরপরও তেলের ক্রমবর্ধমান মুল্যের কারণে, হুগো স্যাভেজের এই সময়কালে ভেনিজুয়েলার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালোই ছিল।
ইনফ্যাক্ট তখন দেশে বিদেশি ভেনিজুয়েলার প্রশংসা শোনা যেত তথাকথিত সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের মুখে।
যেমন, https://www.youtube.com/watch?v=5OqXBdCHJDc The times that Corbyn and his allies praised socialist Venezuela লিখে গুগলে সার্স দিলে উপরের ভিডিওটি পাবেন। ২০১১ সালে ব্রিটিশ পলিটিসিয়ান Jermy Corbyn ভেনিজুয়েলার সোশ্যালিস্ট সিস্টেমের অনেক প্রশংসা করেছিলাম। উপরের ভিডিওটি দেখতে পারেন।
২০১৩ সালে হুগো স্যাভেজ মারা গেলে তিনি টুইটও করেছিলেন।
https://twitter.com/jeremycorbyn/status/309065744954580992?lang=en


এমনকি বার্নি স্যান্ডার্সের মত মার্কিন পলিটিসিয়ানরাও সরাসরি নাম উল্লেখ না করেও ইনডাইরেক্টলি হুগো স্যাভেজের প্রশংসা করেছিলেন।
২০১১ সালে স্যান্ডার্স বলেছিলেন,
“These days, the American dream is more apt to be realized in South America, in places such as Ecuador, Venezuela and Argentina, where incomes are actually more equal today than they are in the land of Horatio Alger. Who's the banana republic now?”

এখন ইন্টারেস্টিং ব্যাপারটি হল, তেলের এই দামের উর্ধ্বগতির জন্য দায়ী ছিল আমেরিকা। প্রথমে আফগান যুদ্ধ, এবং পরে ইরাক যুদ্ধ। এই দুইটা যুদ্ধের কারণে তেলের দাম একসময় ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছিলো।
আর এই সময়টার সুফল পেয়েছে ভেনিজুয়েলা আর রাশিয়ার মত দেশ।

হুগো স্যাভেজের বিভিন্ন সোশ্যালিস্টিক প্রোগ্রামের কারনে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর কাছে হুগো স্যাভেজের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি হয়েছিলো। এই সময়টাতে ইকোনমি ডাইভার্সিফাই করলে ইন দা লং রান ভেনিজুয়েলার জন্য ভালো হত। কিন্তু হুগো স্যাভেজ সেই সিস্টেমটি দাড় করিয়ে যেতে পারেননি। বরং তার আমলে যে ইকোনমিক বাবল তৈরি হয়েছিলো, তার মৃত্যুর কিছুকাল পরই সেটা ফেটে গিয়ে আজকের অবস্থায় নিয়ে এসেছে ভেনিজুয়েলাকে।


এবার দেখুন ২০১৪ সালের পর থেকে তেলের দামের পতন। ৯৩ ডলার থেকে কমে পরের বছর হয়েছে ৪৮ ডলার। প্রায় অর্ধেক কমেছে। এবং সেটা আগের মত রিকোভার করেনি।
সেই ৯০+ ডলার প্রতি ব্যারেল তেলের দামের যুগ আর নেই। হগো স্যাভেজের রেখে যাওয়া সেই সিস্টেমের অবস্থা আবার সেই উপরের গল্পের আবুলের মত।
আবুলের কমে গেছিলো ধানের দাম। আর ভেনিজুয়েলার তেল।
লিমিটেড গর্ভমেন্ট আর বিগ গর্ভমেন্টের এটাই পার্থক্য।
আর হুগো সাভেজের আমল থেকে অর্থনীতি ডাইভার্সিফাই হয়নি। বরং আরো তেলের উপর নির্ভরশীল হয়েছে। সোজা বাংলায়, তারা মাটি থেকে তেল তোলে। বিক্রি করে। আর সেই টাকা দিয়ে আবুলের মত চলে।


উপরের Graphical depiction of Venezuela's product exports দেখলেই বুঝতে পারবেন অবস্থা। ভেনিজুয়েলার রফতানি খাত প্রায় পুরোপুরিই পেট্রোলিয়াম আর প্রেট্রোলিয়ামজাত পণ্য নির্ভর।
ভেনিজুয়েলার জিডিপির মাত্র ৩% কৃষি নির্ভর। ওয়ার্কফোর্সের মাত্র ১০% কৃষিখাতে নিযুক্ত। খাদ্রে ভেনিজুয়েলা আত্মনির্ভরশীল নয়। তিনভাগের দুইভাগ খাদ্র ভেনিজুয়েলাকে বাইরের থেকে ইমপোর্ট করতে হয়। এবং ভয়াবহ ব্যাপার হল, এই আমদানিকৃত খাদ্যের তিনভাগের একভাগ আসে আমেরিকার কাছ থেকে যারা কিনা ভেনিজুয়েলার শত্রু ভাবাপন্ন দেশ।
আর ভেনিজুয়েলাকে চলমান ভয়াবহ সংকটের শুরুটা এই খাদ্য নিয়েই। সেগুলো একটু পর বলবো।

হুগো সাভেজের পলিসিগত বেশকিছু ভুল ছিল যেগুলো সুসময়ে বোঝা যায়নি। ক্ষমতাগ্রহনের তিন বছরের মাথায় তিনি সকল সরকারি সেক্টরে নিজের অনুগত লোকজন বসানো শুরু করেন। ভেনিজুয়েলার মেজরিটি মানুষের জীবন জীবিকা তেল ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে সরকারি তেল কোম্পানি PDVSA ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ২০০২ সালে হুগো সাভেজ কোম্পানির বড়বড় হর্তাকর্তাদের সরিয়ে সেখানে নিজের অনুগত লোকজন এবং লয়ালিস্ট বসাতে শুরু করেন। ফলে শ্রমিক সংগঠনগুলো হরতাল ডাকে। হুগো সাভেজের পলিটিক্যাল অপনেন্টরা সেখানে বাতাস দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই একসময় আন্দোলন শুরু হয়। পলিটিক্যাল ক্রাইসিস দেখা দেয়। মিলিটারি ক্যু, প্লাটা ক্যু পর্যন্ত হয়। বেশকিছু মানুষের প্রাণ ঝড়ে পড়ে। কিন্তু সাভেজ ঠিকই ক্ষমতায় টিকে থাকে। পলিটিক্যাল অপজিশনকে সাভেজ দেশের শত্রু, আমেরিকার দালাল, জাতীয় বেইমান টাইপের ট্যাগ দেয়া শুরু করে।
PDVSA তে meritocracy বাদ দিয়ে দলীয় আজ্ঞাবহ “ইয়েস স্যার” লয়ালিস্ট নিয়োগ শুরু হয় ঢালাওভাবে। আন্দোলনে সম্পৃক্ত ট্রেড ইউনিয়নের নেতা কর্মী থেকে শুরু করে PDVSA এর স্কিল ওয়ার্কারদের পর্যন্ত অপসাহর করা শুরু হয় আন্দোলন এবং অপজিশন পার্টির সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে। ২০,০০০ কর্মী ছাটাই হয় একদিনে।
আর এইসময় থেকেই সাভেজের সাথে মার্কিন সরকারের সম্পর্ক ব্যাপকহারে খারাপ হতে শুরু করে।

২০০৩ সালে Capital Flight এবং ইনফ্লেশন ঠেকানোর জন্য হুগো সাভেজ প্রাইস কন্ট্রোল শুরু করে। ব্যাপারটা সংক্ষেপে বলি। ধরুণ বাংলাদেশে আলুর দাম ১০ টাকা প্রতি কেজি। (কথার কথা)। ভারতে আলূর দাম ৮ রুপি প্রতি কেজি। কথার কথা,
বাংলাদেশের ১০ টাকা ভারতের ৮ রুপির সমান।
তো বাংলাদেশ সরকার যদি এখন, আলুর দাম ৫ টাকা প্রতি কেজি নির্ধারিত হারে বেধে দেয়,
তখন কৃষক আলু ইন্ডিয়াতে ব্ল্যাক মার্কেটে পাচর শুরু করবে। কারণ একই আলু ইন্ডিয়াতে বেশি দামে বিক্রি হবে। সুতরাং লাভও সে বেশি পাবে।
এবং এই জিনিসটা কেবল আলু’তে নয়, আরো অনেককিছুতেই হবে। হয়েছে। কিন্তু এরপরও সমস্যা হয়নি, কারণ তখন তেলের দাম ছিল ক্রমবর্ধমান। সুতরাং খাদ্যে ভর্তুকি দিয়ে খাদ্য রফতানি করেছে সাভেজ। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে ভর্তুকি দিয়ে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার প্রোগ্রাম চালিয়ে দরিদ্রমানুষের ভেতর জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং ভোটেও জিতেছে।
তেল বেচা টাকা যতদিন এসেছে ভুড়িভুড়ি, কোনো সমস্যা হয়নি।
কিন্তু সবকিছু এতো ফ্রি দেয়া সবসময় ভালো হয় না। কর্মসংস্থান তৈরি না করে, জনগনের মাঝে প্রোডাক্টিভিটি না বাড়িয়ে, খালি ফ্রি ফ্রি সুবিধা দিয়ে ভোট পেয়ে গেছে সেসময়।

আগে আসুন, চলমান ভয়াবহ পরিস্থিতিটা তথ্য উপাত্ত দিয়ে তুলে ধরি।
প্রথমেই আসি, ভেনিজুয়েলার হাইপার ইনফ্লেশন প্রসঙ্গ। মনে আছে, ২০০৬-০৯ সালের জিম্বাবুয়ের কথা? এক হালি ডিম কিনতেও মিলিয়ন জিম্বাবুয়িয়ান ডলার খরচ করতে হইতো। সেগুলো নিয়ে মানুষ ঠাট্টা তামাশা করতো। কিছু ছবি দিচ্ছি সেইসময়কার জিম্বাবুয়ের।
জিম্বাবুয়ের হাইপার ইনফ্লেশন এমন পর্যায়ে পৌছেছিল যে, জিম্বাবুয়ের দশ মিলিয়ন ডলারের সমান ছিল আমেরিকার মাত্র ১০ ডলার।
একটা মুর্গী কিনতে হলেও বস্তা ভরে টাকা নিয়ে যেতে হত।
ফকিরেরা ভিক্ষা পেতো মিলিয়ন ডলার। টাকা না গুনে ওজন করে লেনদেন হত। কারণ এতো টাকা গোনার সময় নেই।


অর্থাৎ টিস্যু পেপারের চেয়েও কারেন্সির মূল্য কম।
হাইপার ইনফ্লেশন এতটাই ভয়াবহ জিনিস।
২০১৮ সালে ভেনিজুয়েলার ইনফ্লেশন রেট প্রায় ১০ লক্ষ পারসেন্ট অর্থাৎ ১০,০০,০০০% এর কাছাকাছি হয়ে যায়। অর্থাৎ টোটাল ডিজাস্টার।



ইনফ্লেশন বা মুদ্রাস্ফিতি ব্যাপারটা সহজভাবে বলি। আপনার দেশের মুদ্রাস্ফিতি যদি প্রতিবছর ৫% হারে থাকে, তাহলে আপনার হাতে মজুদ ১ লক্ষ টাকার যে পারসেসিং পাওয়ার, বা ক্রয় ক্ষমতা, সেটা ১৪ বছরে অর্ধেক হয়ে যাবে।
উল্টোভাবে বললে, আজ যেটার দাম ১ লাখ টাকা, ১৪ বছর পর সেটার দাম হয়ে যাবে ২ লাখ টাকা।
এটাই মুদ্রাস্ফিতি।
কমপাউন্ড ইন্টারেস্ট রেটের ম্যাথমেটিক্যাল ইকুয়েসন ইউজ করে আপনি এটা বের করে পারেন সহজেই।
আপনার দেশের বার্ষরিক মুদ্রাস্ফিতির হার যদি টানা ১০ বছর ৭% হারে থাকে,
তাহলে দশ বছর পর সবকিছুর দাম ডাবল হয়ে যাবে।
এবার চিন্তা করুন, আপনি আমাকে ১ লাখ টাকা ধার দিবেন কিনা এই শর্তে যে আমি ঠিক দশ বছর পর আপনাকে ১ লাখ টাকা রিটার্ন দেব। হাহাহা। অথবা ১ লাখ টাকা মাটির ব্যাংকে রেখে দেবেন কিনা, দশ বছর পর ব্যাংক ভেঙ্গে ইউজ করার স্বপ্নে।

এজন্য দেখবেন, ত্রিশ বছর আগে মানুষ ৮০০ টাকা বেতন পেয়ে সংসার চালিয়েছে, আর আজ ৮০ হাজার টাকা বেতন দিয়ে চলতেও হিমসিম খাচ্ছে। যাই হোক। বাংলাদেশ, ভেনিজুয়েলা এবং গ্লোবাল ওভারঅল ইনফ্লেশন রেট নিচের গ্রাফে তুলে ধরলাম।


ভেনিজুয়েলার অবস্থা কি ভয়াবহ, এই গ্রাফ সেটা তুলে ধরে। Y axis লগারিদমিক স্কেলে। কারণ লিনিয়ার স্কেলে গ্রাফে আটাতে পারেনি। হাহাহাহা।



২০১৩ সালে হুগো স্যাভেজের মৃত্যু পর নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় আসে। ভেনিজুয়েলার এই ভয়াবহ সিচ্যুয়েশনের জন্য তার প্রশাসনকে অনেকাংশে দায়ী করা হয়। কেউ আবার সরাসরি সোশ্যালিস্ট সিস্টেমকে দায়ী করে।
অন পেপার, সোশ্যালিস্টিক প্রোপজালগুলো জনবান্ধব এবং শুনতে ভালো শোনালেও প্রোপার ম্যানেজমেন্ট এনসিওর না হলে অন্য যেকোনো ইকোনমিক্যাল সিস্টেমের মত এটাও ভয়াবহ পরিনতি বয়ে নিয়ে আসতে পারে, ভেনিজুয়েলা সেটারই প্রমাণ।
অনেকে ভেনিজুয়েলার এই পরিস্থিতির জন্য মোটা দাগে তেলের মূল্য পতন ও ইকোনমিক্যাল মিসম্যানেজমেন্টকে দায়ী করেছে।
কেউ আবার সোশ্যালিস্ট সিস্টেমকেই সবসমস্যার মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

এদের পক্ষে এরা যেসব যুক্তি দেখায়, সেগুলো কিছু তুলে ধরি।

শুরুতেই একটা গল্প বলি ছোট করে।
এক রাজনীতিবিদের ব্যাপারে শুনলাম, তার আশেপাশে নাকি স্থানীয় কলেজ পড়ুয়া ছেলেপেলে ঘুরাঘুরি করে। অর্থাৎ পলিটিক্যাল চ্যালাপুলো।
ছেলেগুলোকে প্রতিমাসে দশ হাজার টাকা করে হাতখরচ দেয়া হয়। কোনো কাজ করুক আর না করুক।
প্রতিমাসে ফ্রি ফ্রি একটা ছেলেকে যদি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা আপনি ধরিয়ে দিতে শুরু করে, তাহলে তার লাইফ স্টাইলে পরিবর্তন আসবে। সে অতিরিক্ত ১০ হাজার ফাউ টাকা তার লাইফ স্টাইলে ইনক্লুড করে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
তখন এই টাকার সোর্স যদি অফ হয়ে যায়, তাহলে ছেলেটি বিপদে পড়ে যাবে। এমতাবস্থায় ওই পলিটিসিয়ানের উপর ছেলেটি ডিপেন্ডেবল হয়ে যাবে। এই সুযোগে ওই পলিটিসিয়ানও ছেলেটিকে দিয়ে ঝোপ বুঝে কোপ মারার মত কোনোএকটি কাজ করিয়ে নিতে পারবে।
নির্ভরশীলতা এভাবেই তৈরি হয়। টাকা দিয়ে, মাদক দিয়ে। নানানভাবে।
মানুষকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ালে মানুষের কাজ করার ক্ষমতা কমে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।
সেইসাথে কম্পিটেটিভ ইনভায়রমেন্টও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষ তথাকথিত “ভালো স্কুল” বা “ভালো কলেজে” ছেলেমেয়ে কেনো পড়ায়? এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের জন্যই।
ধরুণ আপনি স্কুলে পড়েন।
গেলেন এমন একটি স্কুলে, যেখানে ফাস্ট বয় ৬০% মার্ক পেয়ে ফাস্ট হয়। সেকেন্ড বয় ৫০% মার্ক পেয়ে সেকেন্ড হয়।
এমন একটা স্কুলে গেলে ফাস্ট হবার জন্য ৬১% মার্ক পেলেই আপনার যথেষ্ট।
সুতরাং আপনার চেষ্টাটাও থাকবে ৬১% মার্কের জন্য।

আবার যদি এমন স্কুলে ভর্তি হন, যেখানে ফাস্ট বয় ৯৮%, সেকেন্ড বয় ৯৭% মার্ক পায়, অর্থাৎ হাইলি-কম্পিটেটিভ ইনভায়রমেন্ট, সেখানে আপনি আপনার সর্বোচ্চ বা বেস্ট পারফর্মেন্স দিয়েই ৯৯% মার্ক তোলার চেষ্টা করবেন। হয়ত ব্যর্থ হবেন। কিন্তু আপনি আপনার সাধ্যের পুরোটাই দেবেন।

সিস্টেম খুব গুরত্বপূর্ণ। জার্মানির লোকেরা এতো পরিশ্রমী, গ্রিসের লোকেরা তেমনটি নয়। কেন এমন হয়? শুধুই কি জাতিগত? নাকি সিস্টেমের ব্যাপারস্যাপার জড়িত?
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অবশ্যই সিস্টেম।
ভেনিজুয়েলার সোশ্যালিস্ট ইকোনমিক্যাল পরিবেশ স্বাভাবিকভাবেই বিগ গভর্মেন্ট নির্ভর। এখানে মানুষের কাছ থেকে সর্বোচ্চ আউটপুট আশা করাটা কঠিন। আপনি বাংলাদেশের দিকেই তাকান। বাংলাদেশের সরকারি যেসব সেক্টর আছে,
সরকারি টেলিকমিউনিকেশন, সরকারি পোস্টাল সার্ভিস, রেলওয়ে, সরকারি ট্রান্সপোর্টেশন, এটাসেটা, যা কিছু সরকারি মালিকানাধিন বা সরকার নিয়ন্ত্রিত, সেসবকিছুতে সার্ভিসের মান দেখুন, আর প্রাইভেট সেক্টরে একই ধরণের খাতে সেবার মান তুলনা করুণ। বুঝবেন।
আপনি সরকারি ব্যাংকগুলোতে যান। জনতা, পুবালি, রুপালি, আরো যা যা আছে। এগুলোতে গিয়ে একটা হেল্প চান। সার্ভিস দেখুন। আর বেসরকারি কোনো ব্যাংকে গিয়ে সার্ভিস দেখুন। আকাশ পাতাল ব্যবধান।
অথচ যে মানুষটা সরকারি সেক্টরে নিযুক্ত, সেই একই মানুষকে যদি আপনি বেসরকারি সেক্টরে নিয়োগ দেন, অবশ্যই সে বেটার পারফর্মেন্স দিবে। দিতে বাধ্য। কারণ সেখানে বেটার পারফর্মেন্স না দিলে তার চাকরি যাবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কম্পিটিশন করে টিকে থাকে (ব্যতিক্রম ব্যতিত) । তাদের বেটার সার্ভিস দিতেই হবে।
এখন চিন্তা করুণ, একটা দেশে নামকাওয়াস্তে প্রাইভেট সেক্টর। বাকিসবকিছু চলে সরকারি খাতে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খুব একটা ভালো হয় না। তবে ব্যতিক্রম আছে। কিছুকিছু জাতি বা রাষ্ট্রের উদাহরণ আপনি চাইলে দেখাতে পারবেন। তবে সেটা এক্সেপশন্যাল হিসেবেই পাবেন।

অন্যদিকে বিগ গভর্মেন্টের সমস্যা হল, এটা যদি ডিক্টেটর দিয়ে পরিচালিত হয়, তাহলে সেই পুরনো কথা।
Power tends to corrupt; absolute power corrupts absolutely.
এটারও এক্সেপশনাল আপনি খুঁজে পাবেন। কিন্তু এক্সেপশন ইজ নট এন এক্সাম্পল।

ভেনিজুয়েলা ভয়াবহ করাপশনে ডুবে আছে গত শতাব্দীর পুরোটা জুড়েই। এবং এখন পর্যন্ত।
Venezuela has been ranked one of the most corrupt countries on the Corruption Perceptions Index since the survey started in 1995. The 2016 ranking placed Venezuela at number 166, out of 178 ranked countries in government transparency.
Similarly, the World Justice Project ranked Venezuela 99th out of 99 countries surveyed in its 2014 Rule of Law Index.

এখানে বিষয়গুলো ইন্টার কানেক্টেড। এখানে resource curse বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে।
ব্যাপারটা সহজে বলার চেষ্টা করি।
মধ্যপ্রাচ্যের উদাহরণ দেখুন। যখন মধ্যপ্রাচ্যে তেল ছিল না, অর্থাৎ মধ্যযুগে। তখন দেশবিদেশের জ্ঞানীগুনী ব্যক্তিরা জ্ঞান অর্জনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে আসতো। ইনবে সিনা, জাবির ইবনে হাইয়ানদের সময়কালগুলো দেখুন। তখন তো মাটি খুড়ে এতো সম্পদ বের হতো না। কিন্তু জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চাটা তখন ঠিকই হত। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতাও এখনকার চেয়ে বেশি ছিল।
আর এখন এতো অর্থ সম্পদ। এতোকিছু। অথচ একটা ভালো ইউনিভার্সিটি খুঁজতে গেলে হারিকেন লাগে। জ্ঞানীগুনী ব্যক্তিদের মধ্যপ্রাচ্যে এখন আর দেখা যায়না। আর গবেষনা তো বহুত দূর কি বাত।
মোটা দাগে কারণ এই রিসোর্স অভিশাপ।
মাটির তলে তেল আছে। সুতরাং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকারের রেভিনিউ জেনারেট করতে মানুষের ইনকামের উপর ট্যাক্স বসানোর খুব একটা বেশি দরকার নেই। তেল তোলো। বিক্রি করো। পয়সা কোষাগারে জমা করো। সেই টাকা দিয়ে রাস্তাঘাট উন্নত করো। মিলিটারি পুষে জনতা নিয়ন্ত্রন করো। উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে ভোগ বিলাস, আমোদ ফুর্তি করো। সহজ হিসাব। জনগনের মন জুগিয়ে চলার দরকার নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল আছে। জনসংখ্যা কম। সুতরাং তাদের অন্তত বিল গেইটস, স্টিভ জবস, সার্গে ব্রাইন, ইলোন মাক্স’দের মত লোকের দরকার নেই। আমেরিকার অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় কন্ট্রিবিউটার যদি গুগল, Apple, Microsoft হয়, তাহলে চিন্তা করে দেখুন, এগুলো সবই নলেজবেইজড বিজনেস। এদের মালিকেরা টেকনোক্র্যাট। মাটি ফুড়ে তেল তুলে বিক্রি করতে অনেকেই পারে। কিন্তু এসব টেকনোক্র্যাট, জ্ঞানীগুনী মেধা তৈরি করতে সবাই পারে না। মধ্যপ্রাচ্যের ডিক্টেটরদের জন্য এসব ইন্টেলেকচুয়াল লোকের দরকার নেই। আর সেই পুরনো কথা তো আছেই। হীরক রাজার দেশের ডায়লগ, “এর যত বেশি পড়ে, তত বেশি জানে, তত কম মানে”
সেইসাথে সোশ্যালিস্ট করাপ্টেড ডিক্টেটরিয়াল গভর্মেন্টের কারণ প্রাইভেট সেক্টর বলে কার্যত কিছু নেই।
একটা উদাহরণ দেয়া যাক।
কিছুদিন আগে একটা নিউজ দেখলাম,
আমেরিকার বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান Amazon গতবছর কোনো ট্যাক্স দেয়নি।
ওদিকে Amazon এর মালিক দুনিয়ায়র শ্রেষ্ঠ ধনী।
প্রশ্ন হল, এমাজন কি ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছে? ব্যাপারটা তেমন নয়।
এখানে, ইনসেন্টিভ (incentive) জড়িত।
ইনসেন্টিভ হল a thing that motivates or encourages someone to do something.
আপনি বিশাল করপোরেশনের জন্য একটা ইনসেন্টিভ চালু করলেন। বললেন, যদি ১০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারো, তাহলে তোমার জন্য ট্যাক্স মাফ। তো চিন্তা করেন এরপর কি হবে। সেই করপোরেশন নিজের ব্যবস্থা প্রসারের জন্য সর্বশক্তি দেবে। কারণ ব্যবসা বড় করলে তার যেমন কোনো ক্ষতি নেই, উল্টো লাভ।
ওদিকে সরকার ১০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করলো।
আবার যদি সরকার বেকুবের মত বিশাল ট্যাক্স বসিয়ে দেয় করপোরেশনের উপর, তাহলে বড়বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেশ ছেড়ে ভাগবে। ভিন্ন দেশে, যে দেশে কর্পোরেট ট্যাক্স কম, দরকার হয় সেই দেশে গিয়ে ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন করাবে।
এমন তো হরহামেশা হচ্ছে। হয়।
সুতরাং আপনাকে ব্যবসা বান্ধব ইনসেন্টিভ দিতে হবে।
করপোরেশনের ট্যাক্স কাট দিলেন, এতে কর্পোরেশন যদি তিন ডাবল কর্মসংস্থান তৈরি করে, তাহলে সেটা তো বেশি লাভ। সরকার তখন কর্মচারীদের ইনকাম থেকে ট্যাক্স ঠিকই পাবে। আর আয় রোজগেরে মানুষগুলো অর্থনীতিতেও কনট্রিবিউট করবে।
সুতরাং লাভ তো বাড়বে। কমবে না।

সরকারকে এজন্য ইনসেনটিভ দিতে হয়। সেইসাথে কম্পিটেটিভ পরিবেশও তৈরি হয়। জিডিপির গ্রোথ রেট বাড়ে।
সোশ্যালিস্ট অনেক এজেন্টা শুনে ভালো লাগে, কিন্তু আউটকাম ভালো নাও আনতে পারে।
সবসময় মাথায় রাখবেন, পলিটিসিয়ানরা লাভ ব্যাতিত কোনো কিছুর জন্য ফাইট করে না। উইথআউট এনি বেনিফিট, একটা টিনেজ ছেলে হয়ত কিছু করতে পারে, কিন্তু একটা ত্রিশোর্ধ ব্যক্তি বেনিফিট না থাকলে এক পা সামনেও আগায় না আজকাল।
বার্নি স্যান্ডার্সের মত মার্কিন সোশ্যাল ডেমোক্রেট পলিটিসিয়ানরা যখন মিনিম্যান ওয়েজ, অর্থাৎ শ্রমিকের নুন্যতম মজুরি ১৫ ডলার বেধে দিতে দাবি করে, তখন ভুলেও এটা মনে কইরেন না জনদরদি হয়ে মানুষের জন্য চিল্লাইতেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখুন, তাদের পেছনে বিশাল বিশাল মেগা ডোনার কর্পোরেশন আছে। স্পেশ্যাল ইন্টারেস্ট ফান্ডিং দিতেছে তাদের। তাহলে মিনিম্যান ওয়েজ, বা নুন্যতম মজুরি ১৫ ডলার নির্ধারণ করলে এসব কর্পোরেশনের ফায়দা কি?

চিন্তা করে দেখুন। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়াতে লিভিং কস্ট, আর লুইজিয়ানা স্টেটের লিভিং কস্ট এক কিনা। মোটেও এক নয়। লুইজিয়ানাতে যে শ্রমিক ১০ ডলার প্রতি ঘন্টা মজুরীতে সংসার চালাতে পারবে, সেই শ্রমিক কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়াতে গিয়ে ১০ ডলার প্রতি ঘন্টা মজুরিতে চলতেও পারবে না। কারণ ওখানে সবকিছুর দাম বেশি।
আমেরিকাতে আছে ৫০টা স্টেট । এখন ক্যালিফোর্নিয়াতে একটা প্রোডাক্ট তৈরি করলেন ১০ জন শ্রমিক’কে ১০ ঘন্টা খাটিয়ে। ১৫ ডলার প্রতি ঘন্টা মজুরী দিয়ে। অর্থাৎ ১৫০০ ডলার শ্রমিকের পেছনে ব্যয় হল প্রোডাক্ট তৈরিতে। অন্যদিকে একই প্রোডাক্ট লুইজিয়ানা’তে ১০ জন শ্রমিক ১০ ঘন্টা খাটিয়ে ৮ ডলার প্রতি ঘন্টা মজুরি দিয়ে তৈরি করা সম্ভব। অর্থাৎ শ্রমিক খাটানো বাবদ ব্যয় হল ৮০০ ডলার। অর্থাৎ ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে ৭০০ ডলার কম।
কিন্তু খেয়াল করুণ, ক্যালিফোর্নিয়া আর লুইজিয়ানের শ্রমিকের লাইফ স্টাইল কিন্তু একই হবে। যদিও একজন ঘন্টা প্রতি আয় করে ১৫ ডলার, আরেকজন ৮ ডলার। ওই যে বললাম, ক্যালিফোর্নিয়া অনেক ব্যয়বহুল শহর।
তো স্বাভাবিকভাবেই লুইজিয়ানাতে প্রোডাকশন কস্ট কম। এজন্য একই প্রোডাক্ট লুইজিয়ানার কোনো কোম্পানি তৈরি করলে ক্যালিফোর্নিয়ার কোম্পানির চেয়ে সে বেটার পজিশনে থাকবে। হোক ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিষ্ঠানটি জায়েন্ট বিজনেস, এবং লুইজিয়ানার প্রতিষ্ঠানটি স্মল বিজনেস।
এবার ভেবে দেখুন, যদি গোটা আমেরিকাতে নুন্যতম মজুরি ১৫ ডলার প্রতি ঘন্টা আপনি নির্ধারন করে দেন, তাহলে কি হবে? এমাজন বা গুগলের মত বিগ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতি ঘন্টা ১৫ ডলার মজুরি দেয়া সহজ। লোক ছাটাই করে অটোমেশন দিয়ে লেবার খরচের মোট হিসাব কমিয়ে রাখা এদের পক্ষে সম্ভব। কিন্তু স্মল বিজনেস সব শেষ হয়ে যাবে। বিগ কর্পোরেশনগুলো সম্ভাব্য প্রতিপক্ষগুলোকে খেয়ে দেবে।
কর্পোরেশনের উদ্দেশ্য থাকবে মনোপলি তৈরি করা। আর সরকারের উদ্দেশ্য থাকবে এই মনোপলি যাতে না হয়, সেটার ব্যবস্থা করা। স্মল বিজনেস, স্টার্ট আপ বিজনেসগুলোকে সুযোগ করে দেয়া। এই চেক এন্ড ব্যালান্স যদি থাকে, তাহলে সিস্টেম ভালোভাবে চলে। কম্পিটিশন থাকে।
হিলারি যখন নুন্যতম মজুরি ১৫ ডলার প্রতি ঘন্টা দাবি নিয়ে চিল্লাপাল্লা করে, তখন উনার লবিস্টদের স্বার্থ এখানে জড়িত থাকে।
আবার বাস্তবেই নুন্যতম মজুরি বাড়ানোর পক্ষেও যোক্তিক কারণ দেখানো যায়। যদিও অনেক রথি মহারথীরা দাবি করে, মুন্যতম মজুরি নির্ধারিত করার কিছু নেই। মার্কেটের উপর বিষয়টি নির্ভর করবে। কিন্তু তেমন করতে দিলে আবার হিতে বিপরীত হবার চান্স থাকে। যেমন আমাদের দেশের গার্মেন্টসের কথা চিন্তা করুণ। গার্মেন্ট মালিকেরা তো পারলে আমাদের দেশের মানুষকে মাগনা খাটাবে। সারাদিন অমানুবিক পরিশ্রম করিয়ে দিনশেষে ১০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলবে, ভালো লাগলে নাও, না নিলে ভাগো। এক্ষেত্রে সরকারকে ইন্টারভিন করতেই হবে। পুঁজিবাদীরা অন্যথায় একচেটিয়া লাভ করবে। এদের অর্থের পিপাসা অনেক বেশি।
অর্থাৎ মুদ্রার দুই পিঠই আছে। পলিটিসিয়ানেরা অধিকাংশ সময় আপনাকে মুদ্রার এক পিঠ দেখাবে। অন্য পিঠ নিয়ে কথা বলবে না।
যেমন আমেরিকাতে যদি নুন্যতম মজুরি ১৫ ডলার প্রতি ঘন্টা ফেডারেল সরকার নির্ধারন করে দেয়, তাহলে মেক্সিকো থেকে আমেরিকাতে বৈধ অবৈধ অভিবাসন আরো বাড়বে।
আবার মুদ্রাস্ফিতিও বাড়বে। মুদ্রাস্ফিতি বাড়ানোর ব্যাপারটা কিছুদিন আগে ছোট একটা উদাহরণ দিয়ে একজনকে বুঝিয়েছিলাম।
ধরুণ একটি সরকারি আবাসিক কোয়াটার। তাতে ৩০০ অফিসার, ১২০০ স্টাফ থাকেন।
অফিসারদের মাসিক আয়ের নুন্যতম লিমিট ১০০০ টাকা, (কথার কথা)
আর স্টাফদের মাসিক আয়ের সর্বোচ্চ লিমিট ৫০০ টাকা।
এখন মাছের বাজারে ৮০০ টাকার দামের মাছটি হয়ত ঘুরেফিরে অফিসারেরাই ক্রয় করে।
তো হঠাৎ সবার স্যালারি বাড়িয়ে দেয়া হল। ফলে এবার অফিসারের মাসিক আয়ের নুন্যতম লিমিট ২০০০ টাকা,
আর স্টাফের ১০০০ টাকা।
ফলাফল, এবার স্টাফেরাও সেই ৮০০ টাকার মাছ ক্রয় শুরু করবে।
মাছের বিক্রেতা দেখবে, আগে তার ক্রেতা ছিল ৩০০ জন। এখন হয়ে গেছে ১৫০০ জন।
সুতরাং সে এবার মাছের দাম বাড়িয়ে ১৬০০ টাকা করে দেবে।
অফিসার এবার ১৬০০ টাকা দিয়ে সেই মাছ কিনবে।
সুতরাং যেই লাউ, সেই কদুই হয়ে গেল।
আগের ১০ টাকা আর এখনকার ২০ টাকা সমান।
যাই হোক,
সুতরাং সবকিছুরই প্রোস এন্ড কনস আছে।
জনতার যদি বিচার বুদ্ধি থাকে, জনতা যদি well informed থাকে, তখন জনতা হিসাব কিতাব করে ভালো মন্দ বিচার করে একটা ডিসিশনে যেতে পারে।
সবকিছুতে গভর্মেন্ট কনট্রোল ভালো না। আবার সবকিছুতে ছাড় দিলেও সমস্যা।
তবে একটা কথা সত্য, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ না থাকলে সিস্টেমে সমস্যা হতে বাধ্য।

যাই হোক, ভেনিজুয়েলাও এই রিসোর্স অভিশাপ এবং সোশ্যালিস্ট ডিক্টেটরিয়াল সিস্টেমের অপরিনামদর্শী পলিসি মেকিংএর ভয়াবহ যুগলবন্দীর খপ্পড়ে আটকা পড়েছে।
ভেনিজুয়েলার ম্যানেজম্যান্ট, পলিসিমেকিং, কোনো জায়গাতেই যোগ্য ইন্টেলেকচুয়াল লোকের সুযোগ হয়নি। এই ভয়াবহ মিসম্যানেজমেন্টের জন্য সিস্টেম অবশ্যই দায়ী। তবে একমাত্র দায়ী নয়।
যেমন ২০১৪ সালে যখন তেলের দাম ধপাস করে কমে গেল, তখন আমেরিকার দেয়া অনেক অর্থনৈতিক অবরোধের পরও রাশিয়া কিন্তু ঠিকই টিকে ছিল। রাশিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু ধ্বসে পড়েনি। ঠিকই ঘুরে দাড়িয়েছে। এসময়কালে খুব গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করেছিলো রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর Elvira Nabiullina
এই ভদ্রমহিলার মত কেউ ভেনিজুয়েলাতে ছিল না। কোনো পদেই না।
অন্যথায় কেবলমাত্র তেলের দামের পতনের কারনে ভেনিজুয়েলার এমন অবস্থা হবার কথা না।
নিচের গ্রাফটি দেখুন।


https://www.worldometers.info/population/world/

সৌদি আরব ঠিক ভেনিজুয়েলার মতই। প্রায় কাছাকাছি জনসংখ্যা। এবং দুইটি দেশের অর্থনীতিই সিংহভাগ পেট্রোলিয়াম নির্ভর।
তাহলে সৌদি আরব ক্রাইসিসের ভেতর পড়লো না, ভেনিজুয়েলা কেনো পড়লো?

এবার এই লিখার শেষ অংশে ইন্টারকানেক্টেড ভেরিয়েবলগুলো এবং ঘটনাগুলোকে তুলে ধরবো।

কথার কথা, আমি একজন ভেনিজুয়েলান সিটিজেন।
বয়স ৩০ বছর। ব্যাংকে ৫০ লাখ বলিভার (ভেনিজুয়েলার মুদ্রা) মজুদ আছে।
ধরুণ এটাকে টাকা হিসেবে ধরলাম।
অর্থাৎ ব্যাংকে আছে ৫০ লাখ টাকা।
সাল ১৯৮৫। সৌদি আরব আর আমেরিকা মিলে যুক্তি করে তেলের দাম একেবারে কমিয়ে দিয়েছে। ফলে ভেনিজুয়েলার অর্থণীতি একেবারেই shrink করেছে। কারণ তেলের দাম কমে যাওয়াতে সরকারের রেভিনিউ কমে গেছে। বাজেট কমে গেছে। সুতরাং আমার দেশে ইনফ্লেশন শুরু হয়েছে।
আমার দেশের মানুষ এখন আমেরিকাকে ব্লেইম করে এই পরিস্থিতির জন্য।
আমার দেশের ইনফ্লেশন বাড়তে থাকার মানে কি?
যদি আমার দেশের ব্যাংকে সুদের হার ৫% হয়, এবং ইনফ্লেশন প্রতিবছর ২৫% হয়, তাহলে এভাবে চলতে থাকলে ৪ বছরেরও কম সময়ে আমার ক্রয় ক্ষমতা অর্ধেক হয়ে যাবে। গানিতিকভাবে আমার টাকা বাড়বে, কিন্তু সেই টাকা মূল্য হারাবে।
চার বছরে হবে অর্ধেক।
এমন পরিস্থিতিতে আমি কি করতে পারি? গয়না কিনে মজুদ করতে পারি। কিন্তু সেটা অনেক ডিফিকাল্ট। আমি যেটা করতে পারি, টাকাগুলো বিদেশে পাচার করে দিতে পারি। হেফাজত করতে পারি। সেক্ষেত্রে আমি হুন্ডি ধরে বাইরে টাকা পাচার করলাম। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে ১ ডলার = ১০ বলিভার না করে ১ ডলার = ১৫ বলিভার করলাম। কারণ হুন্ডি’রা এমনই রেট ধরবে। এটাই তাদের লাভ।
তো আমি না হয় এভাবে টাকা পাচার করলাম। কিন্তু এই কাজটা কেবল আমি না। করতেছে আমার মত আরো অনেকে। ফলে ভেনিজুয়েলার ইনফ্লেশন আরো বাড়তেছে। চেইন রিয়াকশনের মত।
এমনকি সবজি বিক্রেতাও তার ফসল ব্লাক মার্কেটে ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করতেছে। সেই ফসল চলে যাচ্ছে পাশের দেশ কলম্বিয়াতে। সেখানে গিয়ে কালোবাজারিরা ফসল বিক্রি করতেছে। কৃষক ডলার কামিয়ে নিজের ছেলেকে দিচ্ছে। ডলার হাতে দিয়ে বলতেছে, যা’রে খোকা। এই দেশে ভবিষ্যৎ নাই। এই ডলারগুলো নিয়ে পাশের দেশে পাড়ি জমা। সম্ভব হলে বর্ডার ক্রস করে আমেরিকা ঢোকার চেষ্টা কর। এই ডলারগুলো সাথে রাখ। দুনিয়ার যেখানেই যাবি, ডলারগুলো ঠিক গোল্ডের মত তোকে সাহায্য করবে। ডলার দুনিয়ার সবজায়গায় বিক্রি করে ভালো দাম পাবি।

আর এভাবেই আমরা সবাই মিলে ইনফ্লেশন আরো বাড়িয়ে দিলাম। এরপর যখন ১৯৯৬ সাল এলো, তখন ইনফ্লেশন ১০০% ছুয়ে গেল।
কিন্তু এরকিছুদিন পর সোশ্যালিস্ট বিপ্লব হয়ে হুগো সাভেজ ক্ষমতায় এলো।
কিন্তু সোশ্যালিস্টরা ক্ষমতায় এলো আরেক ঝামেলা বেধে গেল। সমাজের বিত্তবানেরা এবার সংকটে। সোশ্যালিস্ট সরকার তাদের উপর বিশাল বিশাল ট্যাক্স বসাবে। তাদের বিত্ত ধরে টান দেবে।
ফলাফল, বড়লোকেরা আরো মরিয়া হয়ে এবার ক্যাপিটাল ফ্লাইট, সোজা বাংলায়, টাকা পাচার করতে শুরু করলো আমেরিকার ফ্লোরিডায়, ব্রাজিলে, বা কলম্বিয়ায়।
ল্যাটিন আমেরিকা এমনিতেই ড্রাগ লর্ড’দের কার্যকালাপের জন্য বিখ্যাত। এখানে আন্ডার ওয়ার্ল্ড অনেক শক্তিশালি। সুতরাং হুন্ডি বা কালোবাজারি খুজলেই মেলে।
সহজ সুত্র হল, যতবেশি অর্থ বাইরে পাচার হবে, ডলারের বিপরীত বলিভারের ভ্যালু তত কমবে।
ফলে সরকারের আমদানি ব্যয় ততবেশি বাড়বে। আগেই বলেছি, ভেনিজুয়েলা প্রচুর খাদ্রদ্রব্য আমদানি করে। সুতরাং পরিস্থিতি আশা করি বুঝতে পারতেছেন।

হগো সাভেজ এবার নানান কিসিমের আইন করে, control mechanism দিয়ে Capital Flight বা অর্থপাচার কমিয়ে দিলো।
সরকার সরাসরি মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ করলো। ডলারে থাকা ফরেন রিজার্ভ দিয়ে নিজ দেশের মুদ্রা কিনতে লাগলো। এতে ইনফ্লেশন কমে গেল। এটা মুলত ম্যানুপুলেশন। কারেন্সি রেট আর্টিফিসিয়ালি কনট্রোল করতে শুরু করলো। CADIVI চালু করলো ২০০৩ সালে। স্টেটরান এক্সচেঞ্জ ব্যুরো CADIVI বানিয়ে নিজ দেশের জনগনের কাছে বেধে দেয়া রেটে ডলার বিক্রি শুরু করলো। কিন্তু এখানে বেশকিছু শর্ত দিয়ে দিলো। যেমন, আমি (একজন ভেনিজুয়েলান) তখনই ডলার কিনতে পারবো, যখন আমি বাইরে ঘুরতে যাবো, অথবা ফরেন কিছু ইনপোর্ট করবো, অথবা ফরেন কোনো ব্যাংক’কে আমার পাওনা ঋণ ফেরত দেবো। ব্লাহ ব্লাহ।
এবং সরকারি বেধে দেয়া রেট ধরুণ, ১ ডলার = ৬ বলিভার।

তো এবার মানুষজন শুরু করলো অন্যকাহিনী। তারা প্লেনের টিকেট কাটলো বলিভারে। বোঝার সুবিধার জন্য, ধরুণ টাকায়। আপ ডাউন টিকেট কাটলো কারাকাস টু ফ্লোরিডা।
এরপর ক্রেডিট কার্ডে ১ ডলার =৬ টাকা এক্সচেঞ্জ রেটে ৩ হাজার ডলার এনডোর্স করে ফ্লোরিডা গেল। ফ্লোরিডা গিয়ে কিছুদিন আত্মীয় স্বজনের বাসায় ঘুরলো। এরপর সেখানে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩ হাজার ডলার ক্যাশ আউট করলো।
এরপর সেই ক্যাশ টাকা নিয়ে ভেনিজুয়েলায় ফিরে এলো। এসে সেই তিন হাজার ডলার, যেটা কিনা সরকারি ভাবে বেধে দেয়া ১ ডলার = ৬ টাকা এক্সচেঞ্জ রেটে তোলা,
সেটা ব্ল্যাক মার্কেটে বিক্রি করলো ১ ডলার = ৬০ টাকা হারে।
অর্থাৎ মোট ১৮,০০০ টাকার সমপরিমান ৩ হাজার ডলার এনডোর্স করিয়ে নিয়ে গেছিলাম। এবার সেটা দেশে এনে ৬০ টাকা/ডলার এক্সচেঞ্জ রেটে ব্ল্যাকমার্কেটে বিক্রি করলাম। ফলে আমার পকেটে এখন ১,৮০,০০০ টাকা। কি এক আজব ব্যবসা করে ফেললাম !!
অথচ এই ধান্দা করতেছে আরো অনেকে।
এবং এই ধান্দা করতে গিয়ে ব্ল্যাক মার্কেটেও ডলার প্রতি বলিভারের রেট বেড়ে যাচ্ছে।
ব্ল্যাক মার্কেটে ডলারের বিশাল চাহিদা।

এসবকিছুই সামাল দেয়া যাচ্ছিলো যখন তেলের দাম ভালো ছিল। কিন্তু যেই না তেলের দাম কমে গেল ২০১৩ সালে। ওমনি আবার ক্রাইসিস।
এবং মানুষ যত প্যানিকড হবে, অর্থপাচার তত বাড়তে থাকবে। মানুষের আস্থা যত কমতে থাকবে নিজ দেশের মুদ্রা এবং অর্থণীতির উপর, ততবেশি মুদ্রা বাজারে ধ্বস নামবে।
শেয়ার বাজারে যেমন গুজব রটিয়ে ধ্বস নামানো যায়, ব্যাপারটা তেমনই।
আপনি কালই যদি গুজব রটিয়ে দিতে পারেন, আগামীকাল দেশের অর্থনীতি কোনোএক কারনে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, ওমনি দেখবেন মানুষ হুমড়ি খেয়ে টাকা পাচার শুরু করবে। শেয়ার বিক্রি শুরু করবে। Chaos লাগিয়ে দেবে।
আর এই ব্যাপারটি ভাইরাসের মত কাজ করে। এবং এর ইফেক্ট হয় exponential


নিকোলাস মাদুরো নিজ দেশের আর্মিকে দায়িত্ব দিয়েছে খাদ্র রফতানির কাজে। সমস্যা হল, আর্মিতেও তো খারাপ মানুষ কম নেই। বেধে দেয়া ডলার রেটে খাদ্য কিনে আর্মিও ব্ল্যাকমার্কেটে খাবার বিক্রি করে ডলার কামাচ্ছে। ব্যবসা করতেছে।

চাকরি নেই। আর্থিক নিরাপত্তা নেই। খাদ্য নেই। হাইপার ইনফ্লেশন চরমে। এহেন পরিস্থিতিতে দেশের যুবসমাজ পালাচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ ভেনিজুয়েলা ছেড়ে পাশের দেশগুলোতে রিফিউজি হিসেবে পাড়ি দিচ্ছে। আর যতবেশি মানুষ বর্ডার ক্রস করে পাড়ি দিচ্ছে, সবার কাছে আর কিছু থাকুক আর না থাকুক, ডলার ঠিকই আছে। কারণ বাইরের একটা অপরিচিত দেশে যেতে গেলে ডলার দরকার।
এভাবে সিস্টেম গুণোত্তর হারে খারাপ হচ্ছে।
আর ডলারের ভ্যালু ব্ল্যাক মার্কেটে দিনের পর দিন বাড়তেছে।
সেইসাথে দেশে খাবার দাবার নেই।
ফলাফল, ভয়াবহ হাইপার ইনফ্লেশন।
হাইপার ইনফ্লেশন একেবার সহজ করে বলি। বছরের শুরুতে যে জিনিসের দাম ১ টাকা ছিল, বছরের শেষদিনে সেই জিনিসের দাম বেড়ে যদি ১৩০ টাকা হয়, থাওলে সেই দেশে হাইপারইনফ্লেশন শুরু হয়ে গেছে।
Too much money chasing too few products.

তো ভেনিজুয়েলার এই সিস্টেমের অন্যতম রুপকার Jorge Giordani


তিনি ভেনিজুয়েলার পরিকল্পনামন্ত্রী। এবং হুগো সাভেজের ডাই হার্ড সাপোর্টার। এই ফিক্সড কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট সিস্টেমের অন্যতম প্রবর্তক তিনি।
২০১৩ সালে শুরুর আভাস দেখা দিলে নিকোলাস মাদুরো অর্থমন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলাম গণিতবিদ Nelson Merentes কে।


অর্থপাচার বা ব্ল্যাকমার্কেট মুলত রোগের লক্ষণ, কিন্তু মূল সমস্যা ভেনিজুয়েলার এই ফিক্সড কারেন্সি এক্সচেঞ্জ সিস্টেম, যাকে ফল্টি সিস্টেম হিসেবে চিহ্নিত করে এটা সংস্কার করার কথা ভেবেছিলেন তিনি। এই ফিক্সড এক্সচেঞ্জ সিস্টেমকে বাতিল করার জন্য কাজ শুরু করলে তখন তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়। সবচেয়ে বড় সমালোচক ছিলেন Jorge Giordani.
গিওর্দানি ছিলেন পলিটিক্যাল আইডিওলজি ড্রিভেন। পরিস্থিত না বুঝে বরং গোয়াড়ের মত হুগো সাভেজের ফিক্সড এক্সচেঞ্জরেটকে হুগো সাভেজের লেগাসি হিসেবে নিয়ে সেটাকেই রেখে দেয়া হয়। যুক্তি দেখানো হয়, ফিক্সড এক্সচেঞ্জ রেট তুলে দিলে হাইপারইনফ্লেশন শুরু হবে।
তো Nelson merentes কে অর্থমন্ত্রনালয় থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ২০১৪ সালে যদিও তাকে আবার ডেকে এনে ভেনিজুয়েলার সেন্ট্রাল ব্যাংকের দায়িত্ব দেয়া হয়।
কিন্তু এতোকাল যে bubble ফুলে ফেপে উঠেছে,
সেটা ততদিনে brust হয়েছে।
তেলের দামের পতন, এবং সেই পতন লাগাতার চলতে থাকলে ক্রমশ ভেনিজুয়েলার অবস্থা তলানিতে যেতে শুরু করে। সেইসাথে ভয়াবহ করাপশন, মেরিটোক্রেসির অভাব, এবং পরিকল্পনার অভাব, ভেনিজুয়েলাকে আজকের অবস্থানে এনেছে।
আইডিওলজি ড্রিভেন এই সিস্টেমে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললে, সরকারের পলিসি নিয়ে সমালোচনা করলে সেটাকে দমন করা হয়, কখনো আবার মার্কিন দালাল ট্যাগ দেয়া হয়।
ফলাফল, এসব সমস্যার সমাধান তো হয়ই না, বরং সেগুলো আরো বাড়ে।
ভেনিজুয়েলার গল্পটা অনেকটা সেই ঘাসফড়িং আর পিপড়ার মতই। যা ছোটবেলা পড়েছিলাম।

পলিটিক্যাল মিসম্যানেজমেন্ট, দূরদর্শিতার অভাব, দূর্নীতি এবং মেরিটোক্রেসির অভাব একটি আপাত সম্পদশালী দেশকে তিলেতিলে কিভাবে শেষ করে দিতে পারে, তার ক্লাসিক উদাহরণ হয়ে থাকবে ভেনিজুয়েলা।

--
--
--
নানাবিধ রেফারেন্স উপরে লিখার ভেতরে ভেতরে প্রোভাইড করা হয়েছে।
(*** বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ এটিএম গোলাম কিবরিয়া ভাই এবং ক্ষিরোদ মোহন বোস স্যার )



Read More »