Monday, May 29, 2017

ইন্ডিয়ান আন্ডারওয়ার্ল্ড (মাফিয়া)



১৪ জানুয়ারি, ২০০০ সাল।
ঋত্বিক রোশন অভিনীত প্রথম মুভি “কাহো না প্যায়ার হে” রিলিজ পায়। ব্লক বাস্টার হিট হয় মুভিটি। এই মুভি দিয়ে বলিউডে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌছে যায় ঋত্বিক রোশন।
২০ জানুয়ারি, ২০০০ সাল।
মুভি রিলিজের এক সপ্তাহের মাথায় মুভির পরিচালক, ঋত্বিক রোশনের বাবা, রাকেশ রোশনের উপর দুইজন অস্ত্রধারী হামলা চালায়। দুইবার গুলি করা হয় রাকেশ রোশনকে। একটি গুলি তার হাতে, আরেকটি বুকে লাগে। সেইসাথে তার গাড়ি লক্ষ করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায় দুই ব্যক্তি।
রাকেশ রোশন সেই যাত্রায় বেঁচে যান। সুস্থ হবার পর তিনি বলেছিলেন, অস্ত্রধারীরা তাকে খুন করতে আসেনি। যদি আসতো, তাহলে মেরে ফেলতে পারতো সহজেই। তারা এসেছিলো তাকে আহত করতে। সেইসাথে গোটা বলিউডের জন্য একটা সতর্কতা সংকেত পাঠাতে।
প্রশ্ন হল, কিসের সতর্কতা সংকেত? আর রাকেশ রোশনকে গুলি করা হল কেনো?





১৯৭০ সালে ভারত সরকার বলিউডের জন্য ব্যাংক ঋণ প্রদান নিষিদ্ধ করে।
এই ব্যান ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ছিল।
অর্থাৎ এই সময়টাতে বলিউডকে “ইন্ড্রাস্ট্রি” হিসেবে ভারত সরকার স্বীকৃতি দিত না। ফলে ব্যাংকও লোন দেয়া হত না। একারণে পরিচালকেরা মুভির ফাইন্যান্সিংএর জন্য প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান, ধনী বিত্তশালী ও কিছু প্রতিষ্ঠিত মুভি স্টুডিওর উপর নির্ভর করতো।
আর এখানেই সুযোগ নিয়েছিল ভারতীয় মাফিয়ারা।
তাদের কাছে কালো টাকার অভাব ছিল না। সুতরাং মুভিতে তারা নগদ ইনভেস্ট করে দ্রুত রিটার্ন পেতো।
ভারতীয় মাফিয়াদের জন্য বলিউড হয়ে ওঠে লোভনীয় ব্যবসা।
যে পরিচালক মাফিয়াদের সাথে যত ভালো সম্পর্ক রাখতো, সে ততবেশি নগদ অর্থ পেতো, সুতরাং তার মুভির প্রোডাকশন ও পাবলিসিটিও তত ভালো হত।

এটা চেইন রিয়াকশন।
মাফিয়াদের কাছে প্রচুর টাকা আছে। টাকা দিয়ে তারা পলিটিসিয়ান পকেটে রাখে। সেন্সর বোর্ডের লোকদেরও পকেটে রাখে। সিনেমা হল গুলো নিয়ন্ত্রন করে। রন্ধে রন্ধে তাদের ইনফ্লুয়েন্স।
সুতরাং তাদের সাথে হাত মেলালে সবকিছু সহজ হয়ে যাবে।
ওই যে বললাম, চেইন রিয়াকশন। অর্থাৎ আপনি ওদের সাথে হাত মিলিয়ে নিজের সুবিধা আদায় করবেন। আবার আপনাকে সুবিধা দিয়ে ওরা আরো বেশি অর্থ কামাবে। তখন কামানো আরো বেশি অর্থ দিয়ে ওরা আরো বেশি ইনফ্লুয়েন্স তৈরি করতে পারবে। আরো শক্তিশালি প্রভাবশালী হবে। এই তো।

১৯৯৯ সালে এই ব্যান তুলে নেয়া হয়। অর্থাৎ এখন একজন পরিচালক এখন মুভির জন্য ব্যাংক লোন পাবেন। বলিউডকে অফিসিয়ালি ইন্ড্রাস্ট্রি হিসেবে ভারত সরকার স্বীকৃতি দেয়।
মাফিয়াদের স্বার্থে তখন আঘাত লাগে।
এতোদিন তারা বলিউডের রন্ধে রন্ধে প্রভাব বিস্তার করেছে। প্রভাবটা এতোটাই প্রকট, খোদ বলিউডকে পর্দার অন্তরাল থেকে চালায় মাফিয়ারা। মুভি দেশে বিদেশে ব্যবসা করুক আর না করুক, মাফিয়াদের মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয় মুভির পরিচালকদের।
তো রাকেশ রোশনের কাছে বাহরাইন ভিক্তিক একটি মাফিয়া দল চাঁদা চেয়েছিলো। রাকেশ রোশন চাঁদা দিতে অস্বীকার করাতে তাকে গুলি করা হয়। Ali Baba Budesh নামের কুখ্যাত বাহরাইন ভিক্তিক ইন্ডিয়ান মাফিয়া দল রাকেশ রোশনের উপর গুলি চালিয়েছিলো। এখন এই আলী বাবা বুদেশ গ্যাং নিয়ে পরে বলবো। আগে তো শুরু করি প্রথম থেকে।

সমগ্র ব্যাপারটা বুঝতে হলে ইন্ডিয়ান মাফিয়াদের কথা বলতে হবে। নেপথ্য নায়কদের কথা বলতে হবে।
সমস্যা হল, শুরু করবো কোথাথেকে?
অর্গানাইজড ক্রাইমের ইতিহাস তো হাজার বছরের পুরনো।
তবে আধুনিক ইন্ডিয়ান আন্ডারওয়ার্ল্ড বলতে আমরা যা বুঝি, সেটা বলা যাক।
আর কাহিনীর সূচনা যাকে দিয়ে, তাকে দিয়েই শুরু করা যাক। শুরু করবো তাকে দিয়ে, আর শেষ করে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আন্ডারওয়ার্ল্ড “ডন” দাউদ ইব্রাহিমের কাহিনী দিয়ে।

যারা ২০১০ সালের অজয় দেবগান অভিনীত Once upon a time in Mumbai মুভিটি দেখেছেন, তাদের জন্য আমার এই ধারাবাহিক লিখার প্রথম অংশের কাহিনীগুলো কমন পড়বে।
ওই মুভিতে অজয় দেবগান করেছে Mastan Haider Mirza অর্থাৎ হাজি মাস্তানের রোল, আর ইমরান হাসমী অসাধারণ অভিনয় করেছে ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত ডন দাউদ ইব্রাহিমের চরিত্রে।
আধুনিক মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের জন্ম যার হাতে, তিনি হলেন হাজি মাস্তান।



হাজি মাস্তানের জন্ম তামিল নাড়ু’তে। ১৯২৬ সালে। একেবারে দরিদ্র পরিবারে জন্ম।
মাত্র আট বছর বয়সে বাবার সাথে মুম্বাই এসেছিলো হাজি মাস্তান। বাই সাইকেলের দোকানে কাজ করতো। দিন মজুরি করতো। এসব করে পেটের ভাত জুটতো না।
সেই ছোট বয়সে মুম্বাই বন্দরে দিনমজুরের কাজে লেগে গেলো। সারাদিন কাজ করতো হায়দার মির্জা, ওরফে হাজি মাস্তান। হায়দার মির্জা থেকে হাজি মাস্তান হয়ে ওঠার কাহিনী সেই মুম্বাই বন্দর থেকেই।
মুম্বাইয়ের এক পাশে সাগর। আর এই সাগর হয়েই স্বর্ণ চোরাকারবারিরা ভারতে স্বর্ণ পাচার করে নিয়ে আসে।
পুলিশের চোখ ফাঁকি দেবার জন্য স্বর্ণ চোরাকারবারি’দের দরকার ছিলো হাজি মাস্তানের মত বাচ্চা ছেলেদের। ভোলাভালা চেহারার হাজি মাস্তানের সাথে পরিচয় হল কিছু স্বর্ণচোরাকারবারির। সেই ছোট বয়সে হাজি মাস্তান নিজের মুখের ভেতর স্বর্ণ লুকিয়ে মুম্বাই বন্দর পার করে দিতো পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে।
আর এভাবেই বাচ্চা বয়সে পেটের দায়ে প্রবেশ করে মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডে।
বয়স বাড়তে থাকে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সিঁড়ি বেয়ে আরো উপরে উঠতে থাকে হাজি মাস্তান।
মুলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসব অবৈধ স্বর্ণ ভারতে আসে। (আমাদের বাংলাদেশেও আসে। তবে বিমানবন্দর হয়ে)

একসময় কেবল স্বর্ণ নয়, আরো যত বেআইনে ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া প্রোডাক্ট মুম্বাই বন্দর দিয়ে ঢোকে, সবগুলোর সাথেই নিজেকে জড়াতে শুরু করলো হাজি মাস্তান।
মাথায় ভালো বুদ্ধি ছিল হাজি মাস্তানের। ফলে বাইরের স্মাগলারদের নজরে পড়ে গেলো সে। ওরা বুঝে গেলো, ছেলে রিসোর্সফুল।
একসময় হাজি মাস্তান হয়ে গেলো স্মাগলার। টাকা পয়সা কামানো শুরু করলো ভালোমতই। নিজের একটা বাহিনী তৈরি করলো। মুম্বাই বন্দরে অন্য যেসব স্মাগলাররা ছিল, একসময় তাদেরকেও নিজের পথ থেকে সরিয়ে দিতে শুরু করলো সে।
স্বপ্ন তার মুম্বাই বন্দরের শাহেনশাহ হবার।

(** আমাদের দেশে বিদেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ প্রতিবছর বিমান বন্দর দিয়ে ঢোকে, সে খবর সবাই জানে। মাসে মাসে স্বর্ণ আটকের নিউজও আসে। কিন্তু এরপরও সেটা বন্ধ হয় না। কারণ স্বর্ণ চোরাকারবারিরা বিমান বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে ঠিকই যোগাযোগ রাখে। এবং মাঝেমাঝে কিছু চালান চোরাকারবারীরা ইচ্ছা করেই স্যাক্রিফাইস করে। যাই হোক, সেসব আলোচনা পরে)

তো হাজি মাস্তান একসময় মুম্বাই বন্দরের স্মাগলিং নিজের নিয়ন্ত্রনে আনে।
হিসাবটা সহজ। আবার কঠিনও।
বাইরের স্মাগলারদের সাথে যোগযোগ রাখতে হবে। বাইরে থেকে অবৈধ মালামাল মুম্বাই বন্দর হয়ে হাজি মাস্তান পৌছে দেবে মুম্বাইয়ের অন্যসব মাফিয়াদের কাছে। অর্থাৎ সাপ্লাই বিজনেস।
আর এই করে মোটা টাকা। সেইসাথে কিছু অসাধু পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে হাজি মাস্তানের পরিচয়। তাদের ভায়া হয়ে অসাধু পলিটিসিয়ানদের সাথে পরিচয়। অর্থাৎ যেভাবে সবকিছু হয় আরকি।
কান টানলে মাথা আসার মত ব্যাপার।

হাজি মাস্তানের টাকা যত বাড়তে থাকে, ক্ষমতাও তত বাড়তে থাকে। দলবলও তত বড় হতে থাকে। প্রভাবও বাড়তে থাকে। রিচও বাড়তে থাকে। সমাজের হাইক্লাস মানুষের সাথে মেলামেশাও শুরু হয়।
সেই সাথে মুম্বাই ভিক্তিক অন্যান্য মাফিয়া লিডারদের সাথেও তার ওঠাবসা চলতে থাকে। মুম্বাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংগুলো নিজেরা নিজেদের ভেতর মারামারি করতো। হাজি মাস্তান তাদেরকে একসাথে একটেবিলে বসায়। ঠিক যে কাজটি আমেরিকাতে Lucky Luciano করেছিলো, একই কাজ হাজি মাস্তান করে।
মুম্বাই গ্যাংগুলোকে এলাকা ভাগ করে দেয়। ব্যবসা ভাগ করে দেয়। অর্থাৎ অমুক এই অঞ্চল, তমুক ওই অঞ্চলে রাজত্ব করবে। কেউ কারো বিজনেসে ভাগ বসাবে না।
হাজি মাস্তানের এই পদক্ষেপের কারণ মুম্বাই গ্যাংগুলোর ভেতর হানাহানির অবসান হয়।
ওদিকে সাগর ও মুম্বাই পোর্টের নিয়ন্ত্রন রাখে হাজি মাস্তান।

হাজি মাস্তান মাস্তান ষাট ও সত্তরের দশকে উপলব্ধি করে, অর্থ বিনিয়োগের সবচেয়ে লোভনীয় খাত হতে পারে ভারতীয় ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রি। মুম্বাই ভিক্তিক ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রি, যা এখন বলিউড নামে পরিচিত, সেখানে তখন চরম অর্থঅভাব। পরিচালকেরা ছবি তৈরির জন্য ব্যাংক লোন পাচ্ছেন না। বিনিয়োগ দরকার। ক্যাশ টাকা দরকার।

হাজি মাস্তানের কাছে কালো টাকার অভাব নেই। ট্যাক্স ফ্রি বিনিয়োগ। পেছনের দরজা দিয়ে।
মুম্বাই ফ্লিম পরিচালকদের কাড়িকাড়ি টাকা ইনভেস্ট করতে শুরু করে হাজি মাস্তান।

বেশি টাকা পেলে ভালো মুভি বানাতে পারে পরিচালকেরা। আর ভালো মুভি বানালে সেটা ভালো ব্যবসা করবে। আর ভালো ব্যবসা করলে ভালো লাভ আসবে।
হাজি মাস্তান বিনিয়োগ তো উসুল করবেনই। সাথে সুধ আসল সহ।

মুম্বাই ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ করে বেশ ভালো লাভবান হতে শুরু করে হাজি মাস্তান।
মুভির পরিচালকদের সাথে সক্ষতা গড়ে ওঠে হাজি মাস্তানের।
সেইসাথে নায়ক নায়িকাদের সাথেও।
দিলিপ কুমার, রাজ কাপুর, ধর্মেন্দ্র, সঞ্জিব কাপুর, ফিরোজ খানের মত তখনকার সুপারস্টাররা ছিলেন হাজি মাস্তানের বন্ধু তালিকায়।

কথায় বলে, টাকায় টাকা আনে। সেইসাথে আনে ক্ষমতা। প্রভাব। খ্যাতি।
ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রিতে হাজি মাস্তান রীতিমত নামকরা প্রযোজক, ফ্লিম ফাইনান্সার।
এছাড়া রিয়েল স্টেট, ইলেকট্রনিক, হোটেল বিজনেসেও ইনভেস্ট করে হাজি মাস্তান।


তখন দক্ষিণ মুম্বাইয়ের Bhendi Bazar, Dongri, Nagpada টাইপের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর অবস্থা ছিলো ভয়াবহ। চরম হতদরিদ্র মানুষগুলোর কাছে হাজি মাস্তান ছিল রীতিমত রবিন হুড।
মানুষ ঝামেলায় পড়লে পুলিশের কাছে যেতো না। ‘গডফাদার’ হাজি মাস্তানের কাছে যেত।
চাকরি বাকরির দরকার, হাজি মাস্তান তো আছে। চাকরি দিয়ে দেবে। হাজি মাস্তানের ব্যবসা বানিজ্যের অভাব নেই। একটা না একটা জায়গায় তো ব্যবস্থা ঠিকই করে দেবে।
দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মুসলিম অধ্যুষিত এসব অবহেলিত জায়গায় হাজি মাস্তান অনেক বড় সেলিব্রিটি।

অর্থাৎ সেই গডফাদার মুভিতে যেটা দেখায়।
দেশে দেশে ঘটনাগুলো ঠিক একই রকম। কিছুটা ভিন্ন মোড়কে।
সেইসাথে আরো একটা জিনিস ভাবার বিষয় আছে। নিউইয়র্ক আন্ডারওয়ার্ল্ডের লাকি লুচিয়ানো, ভিটো জেনোভিচ, বাকসি সিগ্যাল, এরা সবাই উঠে এসেছিলো ইহুদি বস্তিগুলো থেকে। অবহেলিত, চরম দরিদ্র বস্তি থেকে।
মুম্বাইয়ের দাউদ ইব্রাহিমের উত্থানও হবে মুম্বাইয়ের সংখ্যালঘু হতদরিদ্র এলাকা থেকে। সেই গল্প একটু পরে।

তো হাজি মাস্তান ছিল মুম্বাইয়ের প্রথম সেলিব্রিটি গ্যাংস্টার। যাকে মাফিয়া ডন, বা গডফাদার আপনি বলতেই পারেন।
হাজি মাস্তান অন্যান্য মুম্বাই ও তামিলনাড়ু ভিক্তিক গ্যাংস্টারদের সাথে লিয়াজো করেই চলতো। ব্যবসা বানিজ্য ভাগভাটোয়ারা করে নিয়েছিলো। যাতে আন্ধকার জগতের এসব খলনায়কদের ভেতর বড়ধরণের যুদ্ধ শুরু না হয়।

হাজি মাস্তানের ব্যবসা ছিল অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালান, ট্যাক্স বহির্ভুত মদ, ইলেকট্রনিক্স, বেআইনিভাবে আনা অস্ত্র, এসব ছিলো হাজি মাস্তানের মুল ব্যবসা। সেইসাথে একসময় রিয়েলস্টেট, ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রি, হোটেল বিজনেসে ইনভল্ভ হয়েছিলেন হাজি মাস্তান। কিন্তু তার নামে Narcotics অর্থাৎ মাদক দ্রব্যের অর্থাৎ হেরোইন, কোকেনের মত দ্রব্যের ডিলিংসের কোনো অভিযোগ ছিল না। সেগুলো অন্যরা করতো।

তো ১৯৯৪ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হাজি মাস্তান।
অজয় দেবগানের Once upon a time in Mumbai মুভির শেষটা যেভাবে দেখানো হয়েছে, সেভাবে নয়।

হাজি মাস্তান নিজেকে পরিচয় দিতেন “সোলেমান মির্জা” হিসেবে।
হাজি মাস্তান নামটি মিডিয়ার দেয়া।

হাজি মাস্তান পেটের দায়ে খারাপ হয়েছিলো।
আর এবার যার কথা বলবো, সে খারাপ হয়েছিলো স্বভাবগতভাবেই।
আন্ডারওয়ার্ল্ডে যে নাম সবচেয়ে পরিচিত, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম।



বাপ তার পুলিশ। মুম্বাই পুলিশের কন্সটেবলের চাকরি করতেন। মা গৃহিনী।
বেড়ে ওঠা দক্ষিন মুম্বাইয়ের Dongri এলাকাতে।
ছোটবেলা থেকে গোঁয়ার, ডানপিটে ছিল দাউদ ইব্রাহিম।
পরিবার থেকে যতটুকু সম্ভব সাপোর্ট দেয়া হলেও উচ্চভিলাসী দাউদ বখে যাওয়া বন্ধুবান্ধবের সাথে ছোটবেলা থেকেই চুরি, ছিনতাই শুরু করে।
দাউদের বাবার কাছে অভিযোগ আসতো। দাউদ মার খেতো। কিন্তু এতে দাউদ আরো বখে যেতে শুরু করে।
লিখাপড়া বাদ দিলো দাউদ।
সারাদিন এলাকায় টো টো করে ঘুরতো। এলাকার মাস্তানে পরিনত হয় সেই বয়সে।
এরপর দাউদের বাবা পুলিশের লোক হয়েও ধর্না দিলেন হাজি মাস্তানের কাছে।
সেটা ষাটের দশকের শেষদিকের কথা।
হাজি মাস্তান দাউদের জন্য ছোটখাটো একটা কাজ জোগাড় করে দিলেন। কিন্তু সেটা দাউদের পোষালো না।
সে ধনী হতে চায়।
হাজি মাস্তানের কারবার সম্পর্কে দাউদের বেশ ভালো ধারণাই ছিল।
দাউদ ছুটে গেল হাজি মাস্তানের কাছে।
বললো, আমি আপনার কাছের লোক হতে চায়। আপনার ব্যবসায় যোগ দিতে চাই।

দাউদের ভেতর হাজি মাস্তান কিছু একটা দেখেছিলো। এই ধরণের ছেলেকে দিয়েই কাজ হবে। ওর ভেতর কিছু একটা আছে !!
দাউদ ঢুকে গেলো হাজি মাস্তানের স্মাগলিং বিজনেসে।
হাজি মাস্তানের খাস লোক হতে শুরু করে সে।

হাজি মাস্তানের সাথে থেকে থেকে স্বর্ণলতার মতই বেড়ে ওঠে দাউদ।
হাজি মাস্তান যে কাজটা কখনোই করেনি, দাউদ এবার সেই কাজটি করা শুরু করে। হাজি মাস্তানের স্মাগলিং বিজনেসে ঢুকে narcotic অর্থাৎ মাদক দ্রব্য মুম্বাই বন্দর দিয়ে স্মাগলিং শুরু করে দাউদ।
আর এই নিয়ে হাজি মাস্তানের সাথে দাউদের বিবাদ তৈরি হয়।
দাউদ হাজি মাস্তানের মত কেবল মুম্বাইএর বন্দরের রাজা হতে চায়নি। সে চেয়েছিলো গোটা মূম্বাই শহরে রাজত্ব করতে। গোটা মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড নিজের দখলে নিতে।
দাউদের মাদকপাচারে হাজি মাস্তান বাধা দেয়। দাউদের দুইজন খাস লোক’কে হাজি মাস্তানের লোকেরা আক্রমন করলে অফিসিয়ালি হাজি মাস্তানের দল থেকে বেরিয়ে যায় দাউদ ইব্রাইম।

তৈরি করে তার "The Young Company" যেটা পরবর্তীকালে “D-Company” নামে গোটা দুনিয়াতে পরিচিত হয়।

মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড আশির দশকের শুরুর দিকে এসে বদলে যেতে শুরু করে। দাউদের প্রভাবে।
হাজি মাস্তান মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডে যে নিয়ন্ত্রন এনেছিলো, দাউদ ঝড়ে সেটা বেসামাল হয়ে যায়। দাউদের কোনো ক্ষুদ্র অঞ্চল নয়, গোটা ব্যবসা চায়। গোটা মুম্বাই সে চায়।

মুম্বাইয়ের অন্যান্য গ্যাংদের সাথে গুটিবাজি শুরু করে প্রথমে সে হাজি মাস্তানের প্রভাব কমাতে শুরু করে। ঘটনা চক্রে সেসময় অর্থাৎ আশির দশকের দিকে হাজি মাস্তানও অবৈধ স্মাগলিং ব্যবসা বাদ দিয়ে ফ্লিম ইন্ড্রাস্ট্রি আর রিয়েল স্টেট নিয়েই পড়ে থাকে। আর এই ভ্যাকুয়াম দাউদ পুরন করতে শুরু করে।
গোটা আশির দশকে দাউদ মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের উপর প্রভাব বিস্তার করতে থাকে।

এবং আশির দশকের শেষ দিকে, মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডে একচেটিয়া দাউদ ইব্রাহিমের রাজত্ব।
হাজি মাস্তানের গ্রুপ ততদিনে দাউদের নিয়ন্ত্রনে।

হাজি মাস্তান মুম্বাই ও ভারতের অন্যান্য জায়গার ক্রাইম সিন্ডিকেটগুলোর সাথে পার্টনারসিপ ভিক্তিতে ব্যবসা চালাতো। কিন্তু দাউদ এসে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রনে নেয় সবকিছু। হয় তার কথামত চলতে হবে, অন্যথায় মরতে হবে।

দাউদের হাত কেবল ভারতে সীমাবন্ধ থাকেনি। দাউদ তার অন্ধকার সম্রাজ্য বিস্তার করে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। আর্মেনিয়ান মাফিয়া, রুশ মাফিয়া, এশিয়ান মাফিয়াদের সাথে মিলে বিশাল এক ক্রাইম নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যায় দাউদ।
মানি লন্ডারিং ব্যবসা, নারী পাচার, আফগানি হেরোইন এশিয়া ও ইউরোপে ছড়িয়ে দেয়া, আফগানিস্তানে সোভিয়েত বিরোধি যুদ্ধে অস্ত্র পাচার করেও দাউদ প্রচুর অর্থ কামানো শুরু করে।
নব্বয়ের দশকের শেষদিকে দাউদ ইব্রাহিম তালিবান প্রটেকশন নিয়ে আফগানিস্তানে গিয়ে ওসামা বিন লাদেনের সাথে দেখা করে। মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং আফ্রিকাতে অস্ত্র ব্যবসা, ইংল্যান্ড সহ ইউরোপের বড়বড় দেশে বিপুল পরিমাণ আফগানি হেরোইন সাপ্লাই দিতে থাকে দাউদ।
মুম্বাইয়ের রিয়েলস্টেট ব্যবসাতেও দাউদ ভাগ পেতে শুরু করে।
ধরুন, কোনো রিয়েলস্টেট ব্যবসায়ী মেগা প্রজেক্ট করবে এমন একটা জায়গায় যেখানে বিশাল বস্তি। তো এই বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে।
এই ধরণের কাজে দাউদের ক্রাইম সিন্ডিকেট বেশ ইফেক্টিভ। রাতের আধারেই এরা গোপনে কাজ করবে। ভয় ভীতি দেখিয়ে, আতংক তৈরি করে বস্তি উচ্ছেদ করবে দাউদের দল। এবার সেখানে যখন রিয়েল স্টেট ব্যবসা রমরমা হবে, তখন দাউদ ভাগ পাবে।
মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রিতে তখন দাউদের দাপট।





মধ্যপ্রাচ্যে শারজাহ কাপ চলে, আর দাউদের জুয়া খেলার বিজনেসও রমরমা হয়।
ম্যাচ ফিক্সিং কেন হয়?
এসব বেটিং যারা করে, জুয়া যারা খেলে, তারাই এই ম্যাচ ফিক্সিং করে।




ভারতের সাবেক ক্রিকেটার দিলিপ ভেন্সারকার ২০১৩ সালে এক ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, ১৯৮৬ সালে দাউদ ইব্রাহিম শারজাহ কাপ চলার সময় ইন্ডিয়ান ক্রিকেট দলের ড্রেসিংরুমে ঢোকে, এবং প্রতিটি ইন্ডিয়ান ক্রিকেটারকে একটা করে ব্রান্ড নিউ গাড়ি অফার করে যদি তারা ফাইনাল ম্যাচ পাকিস্তানকে হারাতে পারে।

ব্যাপারটা হল, দাউদ ইব্রাহিম ফাইনাল ম্যাচে ইন্ডিয়ার হয়ে বেট ধরবে। এজন্য ইন্ডিয়ার জেতাটা তার জন্য জরুরী।
সিম্পল হিসাব।

দাউদ ইব্রাহিমের আন্ডারওয়ার্ল্ড আশির দশকের শেষদিকে রীতিমত রমরমা। ওই যে বললাম, আশির দশকে আফগানিস্তানের যুদ্ধে দাউদ ইব্রাহিম অস্ত্র ব্যবসা করেছিলো, আর সেই সুবাদেই দাউদের সাথে পাকিস্তানি গোয়েন্দাসংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স, অর্থাৎ ISI এর সখ্যতা তৈরি হয়। আর আইএসআই এর সাথে দাউদের এই সম্পর্ক মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডকে একেবারেই বদলে দেবে।
সেই কাহিনী এবার বলছি।

১৯৯২ সাল। অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা নিয়ে ভারতে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। সেই দাঙ্গায় দুই হাজারের উপর মানুষ মারা যায়। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি হবে, কম নয়।
মুম্বাইয়ের অবহেলিত মুসলিম অধ্যুষিত দক্ষিণ অংশের এলাকাগুলোতেও দাঙ্গায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড রীতিমত বদলে যায়।

দাউদ ইব্রাহিম যত অকাম কুকামই করুক, ভারতে মুসলিম পরিবারে জন্ম নেবার সুবাদে তার ভেতরও সেই সময় আইন্ডেন্টিটি ক্রাইসিস কাজ করেছিল। এছাড়া হাজি মাস্তানের দেখাদেখি দাউদ দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মুসলিম অধ্যুষিত গরিব এলাকাগুলোতে “রবিন হুড” গীরি করতো।
মানুষ সমস্যায় পড়লে পুলিশের কাছে না গিয়ে দাউদের লোকেদের কাছে যায়। দাউদ এলাকার মুসলিম বেকার ছেলেপেলেদের জন্য কাজেরও ব্যবস্থা করে দেয়।
দক্ষিন মুম্বাইয়ের এসব মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাতে দাউদের বেশ জনপ্রিয়তা ছিল।
খেয়াল করে দেখুন, বিখ্যাত কলম্বিয়ান ক্রাইম বস পাবলো এসকোবার কিন্তু তার এলাকা মেডিলিনের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ছিল। এখানে ভোটে দাঁড়িয়ে পার্লামেন্টের মেম্বারও হয়েছিল। ‘রবিন হুড’ রোল সেও প্লে করতো।
দুইটা কারণে।
নিজের এলাকার মানুষের কাছে একটা ভালো ইমেজ ধরে রাখতে। অর্থাৎ আমি চুরি করি আর যাই করি, তোমার জন্য করি। তোমাদের বিপদে আমি আছি, সুতরাং কোনোদিন আমার বিপদ হলে তোমরা আমার সাথে থাকবা।
আবার আরেকটা কারণ হল,
এই ধরণের হতদরিদ্র মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের উপকার করলে চরম লয়েল সাপোর্ট পাওয়া যায়। লয়েল সাপোর্টার তৈরি করা যায়।

তো যাই হোক, দাউদ সিদ্ধান্ত নেয়, সে মুম্বাই উড়িয়ে দেবে। ভারত সরকারকে উচিৎ শিক্ষা দেবে।
এরপর সে যা করে, সেটা রীতিমত ভয়ংকর।

১৯৯৩ সালের মার্চ মাসের ১২ তারিখ।
• Mumbai Stock Exchange Building
• Passport Office
• Masjid- Mandvi Corporation Bank Branch
• Fisherman's Colony in Mahim causeway
• Zaveri Bazaar
• Plaza CinemaCentury Bazaar
• Katha BazaarHotel Sea Rock
• Terminal at Sahar Airport (now known as CSIA)
• Air India Building
• Hotel Juhu Centaur
• Worli
ভারতের মুম্বাই শহরের এই গুরুত্বপূর্ন স্থানগুলো সিরিজ বোমা হামলায় কেপে ওঠে। ২৫৭ জন মানুষ মারা যায়। ৭১৭ জন হতাহত হয়।
বোমা হামলা মুম্বাই শহর থমকে যায়।











এই হামলার ফলে আরেকটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয় গোটা ভারত জুড়ে। যার ফলে আরো মানুষের প্রাণ যায়।

দাউদ ইব্রাহিম দুবাইতে তার বিলাসবহুল বাড়িতে বসে এই হামলার অর্ডার দিয়েছিলো। আর সমগ্র হামলার প্লান তৈরি করেছিল দাউদের ডান হাত হিসেবে পরিচিত “টাইগার মেনন”
টাইগার মেনন এখনো ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে আছে।



গাড়ি বোমা থেকে শুরু করে মোটর সাইকেল বোমা, ব্রিফকেস বোমা, এসব ব্যবহার করা হয়েছিলো এই হামলায়।
এটা ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা।

দাউদ ইব্রাহিমের যেসব ফুট সোলজার এই হামলাতে অংশগ্রহন করেছিল, এদের অধিকাংশ ছিল বেকার যুবক। বাবরি মসজিদ ধ্বংস পরবর্তী দাঙ্গার সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে এসব ছেলেদের রিক্রুট করা হয়েছিলো।
এই হামলা পরিচালনায় অংশগ্রহনকারী ফুট সোলজারদের দাউদ পাকিস্তানে বা দুবাইতে নিয়ে যেতে পারেনি। ভারতীয় পুলিশ তাদের কয়েকজনকে আটক করে। বাকিরা এনকাউন্টারে মরে, কেউ আবার আটকের হাত থেকে বাঁচতে আত্মহত্যা করে।
২০০৭ সালের মুভি Black Friday তে মুম্বাই হামলার পর পুলিশ যেভাবে হামলাকারি ফুট সোলজারদের ধরেছিল, সেটার উপর ভিক্তি করে বানানো। মুভিটি দেখতে পারেন।

দাউদ ভেবেছিলো এই হামলার পর ভারতের মুসলিমদের কাছে তার জনপ্রিয়তা বাড়বে। কিন্তু হয়েছে উল্টাটা। দাউদ ইব্রাহিম যে কত বড় সন্ত্রাসী, সেটাই বরং সবার সামনে আরো পরিস্কার হয়ে যায় এই হামলার পর।
ঠিক পাবলো এসকোবারও কলম্বিয়াতে এই একই ভুল করেছিল। বিশাল গাড়ি বোমা হামলা চালিয়ে কলম্বিয়ার রাজধানী কাঁপিয়ে দিয়েছিলো। প্রচুর নিরীহ মানুষ খুন করেছিল।


এখানে বলে রাখি, ভারতের নামকরা অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত এরেস্ট হয়েছিল এই মুম্বাই হামলার পর। Terrorist and Disruptive Activities (Prevention Act) এর অধিনে সঞ্জয় দত্ত এরেস্ট হয় অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে। পুলিশ অভিযোগ এনেছিল, সঞ্জয় দত্ত মুম্বাই হামলার কথা আগে থেকেই জানতো। পুলিশের অভিযোগ, মুম্বাই হামলার পর সৃষ্টি হওয়া দাঙ্গায় অস্ত্র সরবরাহ করার কাজটি সঞ্জয় দত্তকে দিয়ে করাতে চেয়েছিল দাউদ।
যাই হোক, সঞ্জয় দত্তের পাঁচ বছরের জেল হয় পরে। সঞ্জয় দত্তের বাবা তখন ভারতের এমপি।
http://www.dnaindia.com/india/report-here-s-why-sanjay-dutt-is-in-jail-2046779

মুম্বাই হামলার পর মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডে পরিবর্তন আসে। দাউদের ডি কোম্পানি’তে যেসব হিন্দু গ্যাং মেম্বার ছিল, তারা আলাদা হয়ে যায়। দাউদের আন্ডারওয়ার্ল্ডে ভাঙ্গন ধরে।
দাউদের একসময়কার ডান হাত ‘ছোট রাজন’ দাউদের শত্রু হয়ে যায়।



এরপর মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডে শুরু হয় মারামারি। দাউদের লোকেরা ছোট রাজনের লোকদের মারে। ছোট রাজনের লোকেরা দাউদের লোকদের মারে।
এই মারামারি আজও চলতেছে।

২০০০ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নাটকীয় কায়দায় দাউদ ইব্রাহিমের লোকেরা ছোট রাজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। কিন্তু সে যাত্রায় ছোট রাজন অল্পের জন্য বেঁচে যান।

২০১৫ সালে ছোট রাজন গ্রেফতার হল ইন্দোনেশিয়ার বালি উপদ্বীপে। এখন ভারতের আদালতে তার বিচার চলতেছে।



ওদিকে দাউদ ইব্রাহিম কখনো দুবাই, কখনো পাকিস্তানে অবস্থান করে।
মার্কিন প্রশাসন তাকে মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীর লিস্টে রেখেছে।
বর্তমান দুনিয়ার শীর্ষ ১০ মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তির তালিকাতে দাউদ ইব্রাহিম আছে তিন নাম্বারে।

শত কোটি টাকা তার মাথার মুল্য।
অথচ সে দিব্যি ঘুরে বেরাচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন দাউদ ইব্রাহিম এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
২০০৬ সালে দাউদ ইব্রাহিমের মেয়ে Mahrukh Ibrahim, এর সাথে বিয়ে হয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াদাদের ছেলের।
এই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল দুবাইয়ে। ধুমধাম করে এই বিয়ে হয়েছিল। এবং বিয়ের সময় ইন্টারপোল রেড এলার্ট জারি করে রেখেছিল। কিন্তু দাউদ সামহাউ সেই বিয়েতে এসেছিল।
টাকা থাকলে আর আইএসআই’এর মত এতো কুখ্যাত একটা গোয়েন্দা বাহিনী পকেটে থাকলে এসব হয়ত করাই যায়। ফিল্মি স্টাইলে।

দাউদ ইব্রাহিমের আরেক মেয়ে মেহরিনের বিয়ে হয় পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত এক মার্কিন নাগরিকের সাথে।
তার ছেলের বিয়ে হয়েছে লন্ডনের এক ধনুকুব ব্যবসায়ীর মেয়ের সাথে।


হাজি মাস্তান মুম্বাইয়ের বন্দর থেকে শুরু করেছিল তার কারবার। মুম্বাই বন্দর হয়েই ১৯৯৩ সালের বোমা হামলার জন্য প্রচুর পরিমাণ বোমা ও অস্ত্রসস্ত্র ভারতে ঢুকেছিল।
আবার এই ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলায় অংশগ্রহনকারী সন্ত্রাসীরাও মুম্বাইয়ে ঢুকেছিল সাগর দিয়ে।


লিখার শুরুতেই বলেছিলাম, রাকেশ রোশনের উপর গুলি চালিয়েছিলো আলী বুদেশ।
এই আলী বুদেশ প্রথম জীবনে ছিল একজন পকেটমার।




মুম্বাইয়ের বস্তি এলাকায় পকেটমারী ও ছিচকে চুরি করতো।
এরপর যা হবার, অর্থাৎ একসময় দাউদ ইব্রাহিমের লোকেদের নজরে এলো। এরপর দাউদ ইব্রাহিমের ডি কোম্পানিতে যোগ দিয়ে বড় গুন্ডা হয়ে গেলো।
একসময় দাউদ ইব্রাহিমের সাক্ষাৎপেতে সে দুবাই গেল। মুম্বাই মাফিয়াদের জন্য ইহা নাকি এক বিরাট সম্মান। অর্থাৎ দাউদ ইব্রাহিমের দেখা পাওয়া।

যাই হোক, একসময় বুদেশ দাউদ ইব্রাহিমের কিছু লোকজন নিয়ে আলাদা হয়ে গেল। বাহরাইনে ঘাটি গেড়ে সেখান থেকে অকাম কুকাম চালিয়ে যাচ্ছে সে।

দাউদ ইব্রাহিম তাকে হত্যার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে বহুদিন ধরে। দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছোট সাকিলের উপর দায়িত্ব পড়েছে আলী বুদেশকে শেষ করার।
কিন্তু এখন পর্যন্ত সে বুদেশ বেঁচে আছে।

আলী বুদেশও অন্যান্য মাফিয়াদের মত বলিউডের প্রতি ইন্টারেস্টেড। আফটার অল, ইনভেস্ট করার জন্য বলিউড সবসময় লোভনীয় জায়গায়। কাঁচা টাকা ইনভেস্ট করে নগদে প্রচুর কাঁচা টাকা কামানো যায়।

বলিউডে মাফিয়াদের এই প্রভাব, আজ পর্যন্ত আছে।
ওদিকে আফগানিস্তানে হেরোইনের রমরমা উৎপাদন হচ্ছে।
Golden Crescent আর golden Triangle এই দুইটা জায়গার নিয়ন্ত্রণে রাখা এশিয়ান মাফিয়া দলগুলোর জন্য মুল ব্যাটলফিল্ড।




( পরের পর্বে থাকবে অন্যকোনো দেশের অন্যকোনো মাফিয়া চক্র নিয়ে লিখা।
আমি বেশি ডিটেইলসে যাবো না। জাস্ট একটা ধারণা দিয়ে যাবো )

( চলবে......... )















Read More »

Tuesday, August 2, 2016

Koch Brothers, American Puppet Masters



আমেরিকার বিখ্যাত Massachusetts Institute of Technology অর্থাৎ MIT-এর একটি নাম করা ক্যান্সার রিসার্চ ইন্সটিউট আছে।
নাম হল, Koch Institute for integrative Cancer Research.
বর্তমানে এই ক্যান্সার গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি দুনিয়ার সবচেয়ে নামকরা এবং উন্নত ক্যান্সার গবেষণাকেন্দ্র। ক্যান্সারের প্রতিরোধ ও প্রতিষেধক আবিস্কার এবং পৃথিবী থেকে ক্যান্সার নির্মুল করার মত মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে।
ক্যান্সার গবেষণাতে কিছু যুগান্তকারী সাফল্য ইতিমধ্যে দেখিয়েছে এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

খুবই ভালো। তাই না? কিন্তু প্রদীপের নিচেই থাকে অন্ধকার।
যার ডোনেশনে এই উন্নত ক্যান্সার প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হয়েছে, যার নামে এই প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছে, তার নাম ডেভিড কোখ।
Koch brothers হিসেবে পরিচিত দুই ভাইয়ের একজন।
এবং অগনিত আমজনতার ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পরোক্ষ এবং ক্ষেত্রে বিশেষে প্রত্যক্ষ কারণও তিনি ও তাদের প্রতিষ্ঠান !


১৯৯২ সালে এই ভদ্রলোক মুত্রথলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
বাঁচার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন ডেভিড কোখ। আমেরিকার সবচেয়ে নামকরা ডাক্তাররা মিলে তার চিকিৎসা করেছে। নিজে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর ক্যান্সার রিলেটেড গবেষণায় তিনি টাকা ঢালা শুরু করেন।
Prostate cancer Foundation-এর বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের একজন সদস্য হন তিনি।
সেই আমলের ৪১ মিলিয়ন ডলার ডোনেট করেন এই ফাউন্ডেশনে। ৫ মিলিয়ন ডলার ডোনেট করেন ন্যানোটেক গবেষণাতে।
২০০৬ সালে Johns Hopkins University of Medicine-এর ক্যান্সার রিসার্চ ইন্সটিটিউটের জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার ডোনেশন দেন তিনি।
সেই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিল্ডিংটির নাম ‘David H. Koch Cancer Research Building’

২০০৭ সালে MIT-এর জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার ডোনেশন দিয়ে তৈরি করেন ১ লক্ষ ৮০ হাজার বর্গফুটের Koch Institute for integrative Cancer Research. যেটার কথা শুরুতেই বললাম।

একই বছর ৩০ মিলিয়ন ডলার ডোনেশন দেন Memorial Sloan Kettering Cancer center ফ্যাসিলিটির জন্য।
২০১৫ সালে এসে এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ২৩ তলা একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির David H. Koch Center for cancer care তৈরির কাজ নিয়েছেন তিনি। যেটার কাজ এখন চলমান।
(** আমাদের হুমায়ুন আহমেদের জীবনের শেষসময়ে ক্লোন ক্যান্সারের চিকিৎসা হচ্ছিলো এই Memorial Sloan Kettering Cancer Center হাসপাতালেই)

এছাড়াও ২০০৮ সালে University of Texas, Houston এর জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার ডোনেশন দিয়ে তৈরি করেন David Koch Center for applied Research in Genitourinary Cancers.

২০১৯ সাল নাগাদ আরো ২ বিলিয়ন ডলার ক্যান্সার, চিকিৎসা ও এমবুলেন্স সার্ভিসের কাজে ব্যয় করবেন ডেভিড কোখ।

এতোটুকু পড়ার পর যে কেউ বলবে, লোকটা অনেক উদার। মানবিক। দায়িত্ববান। সচেতন। একজন সম্মানিত নাগরিক। তাকে অবশ্যই শ্রদ্ধা করা উচিৎ।
তাহলে প্রশ্ন, খোদ নিজের দেশেই কেনো এই দুইভাই রীতিমত ভিলেন ইমেজ?

ওই যে বললাম, প্রদীপের নিচেই থাকে অন্ধকার।
এবার আসুন, মুদ্রার অন্যপিঠটাও দেখি।

ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট কার্টুনটি দেখেছেন ছোটবেলা?
ক্যাপ্টেন প্ল্যানেটের যে ভিলেনগুলো থাকে, তারা কি করে? হয়ত মনে আছে, তারা পরিবেশ দূষণ করে।
মানুষের জীবনের তোয়াক্কা না করে নদী নালা, খালবিল আবাদী জমি, বাতাস, পানি ধ্বংস করে।
ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট কার্টুনের সেই ভিলেনগুলোর দুনিয়াবি ভার্সন হিসেবে এই কোখ ভাইদের বিবেচনা করতে পারেন।
তারা কেবল আমেরিকার পরিবেশ নয়, পলিটিক্সকেও দুষিত করেছে। তারা একরকম আইনের উর্ধে। টাকা দিয়ে তারা যেমন আইন তৈরি করে, আবার টাকার জোরে আইন ভাঙ্গে। পলিটিসিয়ান, বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টি এখন একরকম কোখ ভাইদের পকেটে।
এদের অসংখ্য ফ্যাক্টরি থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সেটার সঠিক পরিসংখ্যান হয়ত নেই। তবে প্রতিবাদ হয়েছে জোরেসোড়ে। কোখ ভাইদের কাজকারবার কোনো গোপনীয় বিষয় নয়। একেএকে সকল কিছু নিয়েই আলোচনা হবে। শুরু করতে হবে একেবারে শুরু থেকে।
সবার আগে আলোচনা করা যাক, কোখ ভাই কারা; কোথাথেকে এসেছে; কি করে।



ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুসারে কোখ ইন্ডাস্ট্রি আমেরিকার দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় প্রাইভেট কোম্পানি। যার রেভিনিউ ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। মাইক্রোসফটের রেভিনিউ যেখানে ৯৩ বিলিয়ন ডলার।
(** এখানে গুলিয়ে ফেলবেন না আশা করি। মাইক্রোসফট একটা পাবলিক কোম্পানি। কোখ ইন্ডাস্ট্রি একটা প্রাইভেট কোম্পানি। মাইক্রোসফটের শেয়ারের মালিক আমেরিকার যেকেউ হতে পারে। শেয়ার মার্কেটে গিয়ে জাস্ট মাইক্রোসফটের শেয়ার কিনতে হবে। কিন্তু কোখ বা কার্গিলের মত প্রতিষ্ঠান একেবারেই প্রাইভেট।
এজন্য মাইক্রোসফটের asset কত, সেটা সহজে পাওয়া গেলেও Koch industries Ltd এর asset হিসাব সঠিকভাবে জানা যায় না। স্পেকুলেশন করা যায় )

তো David Koch এবং তার ভাই চার্লস কোখ মিলে কোম্পানির ৮৪% মালিকানা হোল্ড করে। বাকিগুলো নিকট বন্ধুবান্ধব ও ব্যবসায়িক পার্টনারদের ভেতর।

ডেভিড কোখ এবং চার্লস কোখ দুইজনই দুনিয়ার সেরা ১০ শীর্ষ ধনীর লিস্টে আছেন। কারণ দুইজনের সম্পদের পরিমাণ আলাদা আলাদাভাবে এই মুহুর্তে ৪৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার করে। অর্থাৎ দুইভাইয়ের মোট আছে ৮৯ বিলিয়ন ডলার। (বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ এখন ৭৯.৪ বিলিয়ন ডলার )
অর্থাৎ দুইভাইয়ের সম্পদ এক করলে তারা দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী।



Wait a minute !!!!
তারা দুই ভাই নয়। তারা আসলে চার ভাই।
তাদের অন্যদুই ভাই Bill Koch এবং ফেড্রিক কোখের সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে ২ এবং ৪ বিলিয়ন ডলার করে।
অর্থাৎ চার ভাইয়ের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ এই মুহুর্তে প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার।



সমস্যা হইলো, বিল আর ফেড্রিক এক গ্রুপ। এবং চার্লস আর কোখ আরেক গ্রুপ।
আপন মায়ের পেটের একই রকম চেহারার এই চার ভাইয়ের ভেতর দুইটা গ্রুপ। দুইভাই মিলে অন্য দুইভাইয়ের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেসব পরে বলবো।


শুরুতেই বলি। তাদের ব্যবসা শুরু হল কিভাবে।
ব্যবসা পেয়েছে তারা তাদের বাপের কাছ থেকে। উত্তরাধিকার সুত্রে।

চার ভাইয়ের বাবা ফ্রেড কোখ। (উচ্চারণ আসলে “কোওক” ) /kouk/


ফ্রেড কোখ ১৯২২ সালে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংএর উপর গ্রাজুয়েশন করেন MIT থেকে।
এরপর পেট্রোলিয়াম কোম্পানিতে চাকরি করেন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।
একসময় নিজেই একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের মালিক হয়ে যান।
নাম Winkler-Koch Engineering Company

১৯২৭ সালে ফ্রেড কোখ অধিক কার্যকর thermal Cracking process উদ্ভাবণ করেন যেটা দিয়ে ক্রুড ওয়েল থেকে আরো সহজে গ্যাসোলিন বিয়োজিত করা যায়।
সেইসময় আমেরিকার অন্যান্য পেট্রো কোম্পানিগুলো ফ্রেড কোখ’কে ভয়ংকর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তাদের ব্যবসার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত করতে শুরু করে।
এটা অবশ্য দুনিয়ার সব জায়গার নিয়ম। যখন কোনো ছোট কোম্পানি খুব ভালো করা শুরু করে, তখন বড়বড় কোম্পানিগুলো সেই ছোট কোম্পানিকে থ্রেট মনে করে এবং সেটাকে ধ্বংস করার জন্য চেষ্টা করে। ফ্রেড কোখের হয়েছিলো সেই দশা।
জঙ্গলের বড় খাদকগুলোর সাথে টিকতে পারছিলেন না ফ্রেড কোখ। তাকে পেটেন্ট সঙ্ক্রান্ত নানান মামলা দিয়ে জর্জরিত করে রেখেছিলো আমেরিকার বড়বড় তেল গ্যাস কোম্পানিগুলো।
ফলে ফ্রেড কোখ বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।

ফ্রেড কোখের কোম্পানি সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ডিল করে।
জোসেফ স্তালিনের সম্মতিতে ফ্রেড কোখ সোভিয়েত ইউনিয়নে পেট্রোলিয়ামের ডিস্ট্রিলিউশন প্ল্যান্ট প্রতিষ্ঠা করে। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে কোখের ব্যবসা। সোভিয়েত ইউনিয়নের ইঞ্জিনিয়ারদের ট্রেনিং দেবার দায়িত্ব পড়ে কোখের উপর। একসময় প্রায় ১৫ টি তেল শোধনাগার তৈরি হয় সোভিয়েত ইউনিয়নে। কোখের তত্ত্বাবধানে।
আরেক মার্কিন ব্যবসায়ী উইলিয়াম ডেভিসের সাথে মিলে কোখ হিটলারের জার্মানিতে জার্মানির তৃতীয় সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার তৈরি করেন। এই উইলিয়াম ডেভিস ছিলো অনেকটা হেনরি ফোর্ডের মতই এলিট ক্লাসের মার্কিন ধনুকুব, যারা হিটলারের নাৎসি বাহিনীর ফান্ডিং দিতো।

তো এভাবেই কোখের ব্যবসা একসময় বড় হয়। কোখ শক্তিশালি হতে শুরু করে। অনেক অর্থসম্পদের মালিক হয়ে যায়।
এবার আমেরিকাতে কিছু বিজনেস পার্টনারকে সাথে নিয়ে তিনি ১৯৪০ সালে তৈরি করেন Wood River Oil and Refining Company
এটাই পরবর্তীকালে Koch industries lnc হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ফ্রেড কোখ একজন বর্ণবাদী ছিলো।
আমেরিকার তখনকার সিভিল রাইটস মুভমেন্টকে কমিউনিস্ট প্রোপাগান্ডা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
কালো এবং সাদা চামড়ার ছেলেমেয়ে একসাথে স্কুলে যাবে, বিয়ে করবে, এসবের বিরোধি ছিলেন ফ্রেড।
ফ্রেডের ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে যে গৃহপরিচায়িকার তত্ত্বাবধানে, সেই জার্মান মহিলা ছিলো হার্ডকোর নাৎসি।

ফ্রেড কোখের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা কোখ ইন্ডাস্ট্রির দায়িত্ব বুঝে নেয়।

কোখ ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান CEO এবং চেয়ারম্যান চার্লস কোখ MIT থেকে মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংএর উপর মাস্টার্স করেছেন।
আর ডেভিড কোখ MIT থেকেই কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংএর উপর এম,এস করেছেন।

অন্য দুইভাই বিল কোখ MIT থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংএর উপর এম,এস এবং ফেডরিখ কোখ বিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করা।

সমগ্র আমেরিকা জুড়ে কোখ ভাইদের রকমারি ব্যবসা।
মূল ব্যবসা পেট্রোলিয়ামের।
এছাড়া সারকারখানা, কাগজ, কেমিক্যালস, ম্যানুফ্যাকচারিং, টিস্যু পেপারসহ নানান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে কোখ ইন্ডাস্ট্রির মালিকানায়।
এক লক্ষের অধিক মানুষের কর্মসংস্থান করেছে কোখ ইন্ডাস্ট্রি।


অর্থবিত্ত তো অনেকের থাকে। কিন্তু কোখ ভাইরা আলোচিত তাদের ক্ষমতা ও প্রভাবের জন্য।
কোখ ভাইদের পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্স তাদের এতোটা আলোচিত করে রাখে। তারা তাদের অর্থ দিয়ে পলিটিসিয়ান পকেটে রাখে। তাদের ইচ্ছামত আইন পাস করায়। রিপাবলিকান পার্টির সবচেয়ে বড় ডোনার এই কোখ ভাইয়েরা। আপনি যদি রিপাবলিকান পার্টিকে কোখ ভাইদের পার্টি বলেন, তাহলে ভুল কিছুই বলা হবে না। মার্কিন কংগ্রেস আর সিনেটে যদি রিপাবলিকানরা মেজোরিটি থাকে, তাহলে কোখ ভাইয়েরা তাদের দিয়ে ইচ্ছামত আইন পাস করিয়ে নেয়।

তাদের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভয়ানক রকমের পরিবেশ দূষণ করে। এজন্য রিপাবলিকানরা যখন হাউজ মেজোরিটি থাকে, তখন US Environmental Protection agency, অর্থাৎ EPA-এর ফান্ডিং রিপাবলিকানরা একেবারেই কমিয়ে রাখে। এবং তাদের কর্মকান্ডকে নানানভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেকরে কোখ’দের মত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক সুযোগ দিয়ে থাকে।
( ** এখানে একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরী। বিল গেইটস বা স্টিভ জবস যেধরণের ব্যবসার সাথে জড়িত, সেই ধরণের ব্যবসাতে খুব একটা পলিটিসিয়ানদের হাতে রাখার দরকার হয় না।
কারণ তারা টেকনোলজি বেজড প্রোডাক্ট তৈরি করতেছে, বাজারে বিক্রি করতেছে। ভোক্তাদের ভালো লাগলে তাদের প্রোডাক্ট কিনবে বা ইউজ করবে। ভালো না লাগলে করবে না। এখানে কারো ক্ষতি হচ্ছে না। কিন্তু পেট্রোলিয়াম বা রিয়েল স্টেট বা মিডিয়া বিজনেসের সাথে জড়িত থাকলে রাজণীতিবিদ হাতে রাখার দরকার হয়। এখানে আইনের ফাক ফোকড় ইউজ করার দরকার হয়। এজন্য দেখবেন এই ধরণের ব্যবসায়ীরা রাজনীতিবিদদের সাথে সখ্যতা বজায় রাখে। রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। পলিসিগুলোকে নিজেদের অনুকুলে আনার চেষ্টা করে। )

তো যেটা বলছিলাম।
কোখ ইন্ডাস্ট্রি আমেরিকার পলিটিক্সে ভয়ংকর প্রভাব তৈরি করেছে। পুঁজিবাদের স্বর্ণযুগের কার্নেগি, রকারফেলার বা মরগ্যানের মতন করে না হলেও, অনেকাংশে তাদের মতই।

আমেরিকার ABC চ্যানেলের এক ইন্টারভিউতে কোখ ইন্ডাস্ট্রির CEO Charles Koch প্রকাশ্যে বলেছিলেন,
“Koch industries lnc. has a philosophy that profits are above everything else.”

ব্যাপারটা আসলেই তেমন।
রিপাবলিকান দলের অনেক আইডিওলজির সাথে কোখ ভাইদের বিরোধ আছে। কিন্তু রিপাবলিকানদের লিমিটেড গভর্মেন্ট রুলস এন্ড রেগুলেশন আইডিয়াকে কোখ ভাইয়েরা পছন্দ করে।
জাস্ট এটাই মূল কারণ রিপাবলিকান দলের পেছনে কোখ ভাইদের এই নিরঙ্কুশ সমর্থনের।
রিপাবলিকান দল অনেক বেশি করাপ্টেড। সেটা NRA অর্থাৎ national Rifles association এর টাকা খেয়েই হোক, আমেরিকা ইসরাইলের লবিং AIPAC এর টাকা খেয়েই হোক অথবা কোখ ভাইদের টাকা খেয়েই হোক, রিপাবলিকান দলের অধিকাংশ পলিসি আসলে আমেরিকার বড়বড় ধনুকুব আর এলিট শ্রেনীদের স্বার্থ হাসিলের পলিসি।

ডেমোক্রেটরাও যে খুব ভালোকিছু, সেটাও না। ওয়াল স্ট্রিটের বড়বড় ফাইন্যান্সার, যেমন জর্জ সোরাস বা বড়বড় সিলিকন ভ্যালির টেকনোক্রেটরা ডেমোক্রেট দলের পেছনে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে। সেখানেও আর্থিক স্বার্থ জড়িত।
(** বার্নি স্যান্ডার্স বর্তমানে বহুল আলোচিত। এখানে মনে রাখতে হবে, বার্নি স্যান্ডার্স কিন্তু ইন্ডিপেন্ডেট পলিটিসিয়ান। উনি গতবছর ডেমোক্রেট পার্টিতে এসেছেন মুলত প্রেসিডেন্টসিয়াল নির্বাচনে নাম লিখানোর জন্য। উনি তার নীতির কারণে ডেমোক্রেটদের সাথেই তাল মিলিয়ে চলেন মাঝেমাঝে। কারণ রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্রেট তার কাছে অনেক বেটার অপশন )


মার্কিন পলিটিসিয়ানদের ফান্ডিং দেবার জন্য কোখ ভাইয়েরা বেশকিছু সংগঠন বানিয়েছে।
যেমন Americans for prosperity,
American Commitment,
American Future fund,
American Energy alliance,
Libre Initiative Trust,
Public Notice,
Center to protect patient rights,
এই টাইপের ৮০+ সংগঠন আছে কোখ ভাইদের। এসব সংগঠনে তারা টাকা ডোনেট করে। লবিস্ট নিয়োগ করে। এরপর এসব প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা এজেন্ডা নিয়ে পলিটিসিয়ানদের টাকা ঢালে। পলিসি তৈরি করে।
যেমন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান নমিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সদ্য বিদায়ী ক্যাম্পেইন ম্যানেজার কোরী লুইনডোস্কি ছিলেন Americans for Prosperity সংগঠনের একজন কর্মকর্তা। ঠিক একইভাবে জেব বুশ, মার্কো রুবিও সহ আরো যত বড়বড় রিপাবলিকান নেতা আছে, আপনি সবার সাথেই এমন কোনো না কোনো কোখ প্রতিষ্ঠানের লোকজন দেখবেন।

২০১২ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্টসিয়ান নির্বাচনের সময় কোখ ভাইয়েরা মোট ৪০০+ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলো রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনিকে জেতাতে।
এবারের ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে তাদের ৯৯০ মিলিয়ন ডলার খরচ করার কথা ছিলো রিপাবলিকানদের জেতানোর জন্য।
কিন্তু সকল প্ল্যান প্রোগ্রাম ভেস্তে যাচ্ছে ডোনান্ড ট্রাম্প নমিনেশন জেতার কারণে। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে এতো বিপুল অর্থ ইনভেস্ট করার সাহস কোখ ভাইরা পাবে কিনা সন্দেহ। অন্তত যতক্ষণ পর্যন্ত ট্রাম্প নির্বাচন পোলে হিলারির চেয়ে পিছিয়ে আছে, ততক্ষন পর্যন্ত কোখ ভাইরা এগোবে না। রিক্স নেবে না।

হিলারি আরেক করাপ্টেড পার্সন।
এজন্য ট্রাম্প নমিনেশন জেতার পর চার্লস কোখ হিলারিকে প্রোপজ করেছিলো নির্বাচনে ফান্ডিং দেবার। অর্থাৎ রিপাবলিকানদের বাদ দিয়ে ডেমোক্রেট হিলারিকে ফান্ডিং দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। বিনিময়ে keystone pipeline টাইপের কিছু ইস্যুতে হিলারি কোখ ভাইদের পক্ষে থাকবে, এটাই ছিলো তার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য।
কিন্তু প্রথমে উত্তর না দিলেও ডেমোক্রেটদের ভেতর থেকে হিলারির উপর প্রেসার তৈরি হয়। সেইসাথে বার্নি স্যান্ডার্সের মত কট্টর কোখবিরোধি পলিটিসিয়ান তখন হিলারির বিরুদ্ধে প্রাইমারি নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছিলেন। সুতরাং কোখ ভাইদের সমর্থন বা ডোনেশন গ্রহন করাটা হিলারির জন্য হতে পারতো আত্মঘাতি। সম্ভবত এই কারণেই হিলারি টুইট করেছিলো কোখ ভাইদের রিফিউজ করে।
নিচের ছবি ও লিংকে দেখতে পারেন। হিলারির করা ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৬ সালের টুইট।
https://twitter.com/hillaryclinton/status/724313224305360896





কোখ ভাইদের জন্য বিষয়টা শ্রেফ অপমানের।
আর ট্রাম্পের জন্য বিষয়টা ছিলো শ্রেফ বিনোদন। কোখ ভাইদের বাধ্য হয়েই এখন ট্রাম্পকে ডোনেশন দিতে হবে। অথবা ডোনেশন দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
ব্যাপারটা এখন hobson’s choice
অর্থাৎ হয় ট্রাম্পকে ফান্ডিং দাও। অন্যথায় একুল ওকুল দুইকুলই হারাবে।

তো কোখরা এখন ট্রাই করতেছে ট্রাম্পের দিকে মনোযোগ না দিয়ে সিনেট ও কংগ্রেসের দিকে মনোযোগ দিতে।
অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা হিলারি, যেই হোক না কেনো, কংগ্রেস আর সিনেটে যদি রিপাবলিকান মেজোরিটি থাকে, তাহলে কোখ ভাইরা তাদের দিয়ে ইচ্ছামত পলিসি বা আইন পাস করিয়ে নিতে পারবে। কে প্রেসিডেন্ট হইলো না হইলো, সেটা ম্যাটার করবে না।

কোখ ভাইদের পরিবেশ দূষণের রেকর্ড জাহির করলে রীতিমত ভয় পাবেন।

টেক্সাসের Smithvile এলাকায় Koch Pipeline leak হয়ে প্রায় ১৭ হাজার গ্যালন অপরিশোধিত তেল পরিবেশে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের তেল শোধনাগার থেকে।
এজন্য প্রায় ৫০+ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে হয়েছিলো কোখ ভাইদের।

এছাড়া গ্রিনপিসের ওয়েবসাইটে গেলে কোখ ভাইদের পরিবেশ দূষণ ও মানুষের জীবনমালের ক্ষতি করার আরো অনেক খতিয়ান পাওয়া যায়।
http://www.greenpeace.org/usa/global-warming/climate-deniers/koch-industries/koch-industries-pollution/

• A Koch-owned cellulose facility in Taylor County Florida was responsible for two successive-chlorine dioxide chemical leaks in May, 2014.

• Koch Pipeline Company spilled 17,000 gallons of crude oil (400 barrels) near Austin Texas in October, 2013. (যেটা বললাম)
A road had to be built to access the spill site for cleanup, which contaminated livestock ponds.

হাস্যকর ব্যাপার হল,
Months before the spill, Koch Pipeline was gifted it’s second annual “Environmental Performance Award”from the American Petroleum Institute, the top U.S. oil and gas lobbying organization.

• Subsidiaries of Koch Carbon have accumulated massive piles of petroleum coke in U.S. cities like Detroit and Chicago, where the toxic dust has blown into peoples’ homes from a 5-story-tall pile of pet-coke.
Petcoke is a byproduct of refining tar sands that is usually burned like coal.

• Facing “enormous” cleanup costs for soil and groundwater contamination and high crude oil prices,
Flint Hills announced in 2014 that it would permanently close its North Pole refinery outside of Fairbanks, Alaska. Koch blames contamination on the refinery’s previous owner, Williams Companies.

• Ongoing, permitted releases of hazardous chemicals including benzene, sulfuric acid, hydrogen cyanide from Koch’s oil refinery in Corpus Christi, Texas, where refinery communities experience high rates of illnesses known to be associated with the chemicals released.

• Millions of gallons of toxic paper mill waste from Koch-owned Georgia-Pacific facility in Crossett, Arkansas.
A 2011 complaint to regional and national Environmental Protection Agency offices, filed by Public Employees for Environmental Responsibility (PEER) and Ouachita Riverkeeper, alleged that Koch’s plant was
“Discharging 45 million gallons per day of paper-mill waste, including ammonia and chloride, and metals such as zinc, copper, and mercury.”

এবার দেখুন, পরিবেশ দূষণের জন্য ও জনদুর্ভোগ তৈরির জন্য কোখ ভাইরা কি পরিমাণ শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে।

• In 2009, the US Justice Department and EPA announced in 2009 that Koch Industries’Invista subsidiary would pay a $1.7 million penalty and spend $500 million to fix environmental violations at facilities in seven states, in an agreement with the US EPA and Department of Justice.

• In May 2001, Koch Industries paid $25 million to settle with the US Government over a long-standing suit brought by Bill Koch – one of the brothers bought out in 1983 – for the company’s long-standing practice of illegally removing oil from federal and Indian lands.
The value of oil that brother Bill Koch accused Koch Industries of stealing was worth $133 million – over $255 million in 2014 dollars.

• In late 2000, the company was charged with covering up the illegal releases of 91 tons of the known carcinogen benzene from its refinery in Corpus Christi.
Initially facing a 97-count indictment and potential fines of $350 million, Koch cut a deal with then-Attorney General John Ashcroft to drop all major charges in exchange for a guilty plea for falsifying documents, and a $20 million settlement. Informing the federal case, a former Koch employee blew the whistle on the company for allegedly falsifying its emissions reports, downplaying the amounts of toxic chemicals it released.

• In 2000, the EPA fined Koch Industries $30 million for its role in 300 oil spills that resulted in more than three million gallons of crude oil leaking into ponds, lakes, streams and coastal waters.

• In 1999 a Koch subsidiary pleaded guilty to charges that it had negligently allowed aviation fuel to leak into waters near the Mississippi River from its refinery in Rosemount, Minnesota, and that it had illegally dumped a million gallons of high-ammonia wastewater onto the ground and into the Mississippi.

In 1996, a rusty Koch pipeline leaked flammable butane near a Texas residential neighborhood.
Warned by the smell of gas, two teenagers drove their truck toward the nearest payphone to call for help, but they never made it.
Sparks from their truck ignited the gas cloud and the two burned alive. The National Transportation Safety Board determined that “the probable cause of this accident was the failure of Koch to adequately protect its pipeline from corrosion” and the ineffectiveness of Koch’s program to educate local residents about how to respond during a pipeline leak.


তাদের পরিবেশ দূষণের কারণে কত মানুষ নানাবিধ রোগে ভুগে মারা গেছে, কত মানুষের আর্থিক ও শারিরীক ক্ষতি হয়েছে,
সেটার সঠিক হিসাব না থাকলেও উপরের তথ্যগুলো থেকে সহজেই অনুমান করতে পারেন।
আমেরিকাতে ক্যান্সার চিকিৎসার খরচ কিন্তু কম নয়। প্রচুর।
কোখ ভাইদের পরিবেশ দুষণের কারণ যেসব মানুষ ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে, তারা কিন্তু কোখ ভাইদের ফান্ডিংএ চলা হাইফাই দামী মেডিকেল ফ্যাসিলিটিগুলোতে চিকিৎসা করার সুযোগ পাচ্ছে না।

এছাড়া পরিবেশ দূষণকারী ফ্রাকিং পদ্ধতিতে তেল তোলার কারণেও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।
আমেরিকা আর চীন মিলে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি কার্বন ইমিশনের জন্য দায়ী। পরিবেশ দুষনের জন্য দায়ী। গ্লোবাল ওয়ার্মিংএর জন্য দায়ী।
ভুক্তভুগী কিন্তু সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বাংলাদেশের মত দেশগুলো।
উন্নতবিশ্বগুলো পরিবেশ দূষণ করে বাংলাদেশের মত দেশগুলোকে অল্পকিছু নগদ টাকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। আর সেই নগদ টাকা পেয়েই আমরা অনেক খুশি।

আমেরিকার রিপাবলিকান পার্টি সরাসরি ক্লাইমেট চেঞ্জ ডিনাই করে। কারণ আর কিছুই না। কারণ হল, কোখ ইন্ডাস্ট্রির কাঁচা ডলারের লোভ।

নির্বাচনের ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্সিংএর জন্য আমেরিকাতে আগে রুলস এন্ড রেগুলেশন ছিলো।
কোখ ভাইরা সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের টাকা খাইয়ে এবং টেড ওলসন নামের এক উকিল নিয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট থেকে citizen united রুল পাস করিয়ে নেয়। ফলে এখন একজন ধনুকুব যত ইচ্ছা অর্থ ডোনেট করতে পারে পলিটিক্যাল ক্যাম্পেইনে।
ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি।
ধরুন, বাংলাদেশের দুইটা দল নির্বাচনে লড়তেছে। নির্বাচনের প্রচার প্রচারণায় প্রচুর টাকা লাগে।
তো ধরুণ, দুইটা দল নানান ব্যক্তিদের কাছ থেকে ডোনেশন নিয়ে ১০-১৫ কোটি টাকার ফান্ডিং করেছে। এখন হঠাৎ করে একজন ধনুকুব এসে যদি একটি দলকে একাই ১০০ কোটি ডলার ডোনেট করে, তাহলে কি হবে ভেবে দেখুন। নির্বাচনে একটি দল ১০-১৫ কোটি টাকার প্রচার প্রচারনা করবে।
আরেকটি দল ১১০-১১৫ কোটি টাকার ক্যাম্পেইন করবে।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই দ্বিতীয় দলটি এগিয়ে থাকবে। তার জেতার সম্ভাবনা অনেকবেশি হয়ে যাবে। এখন দলটি যদি জিতে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই যেই ব্যক্তি ১০০ কোটি টাকা ডোনেট করেছিলো, সে দলটির কাছে আগ্রাধীকার পাবে। তাকে সবার আগে সুযোগ সুবিধা করে দেয়া হবে। তাই না?
তো আগে ডোনেশনের একটা লিমিট থাকলেও এখন আর নেই আমেরিকাতে। ফলে ২০১৬ নির্বাচনে কোখ ভাইয়েরা একাই ৯৯০ মিলিয়ন ডলারের ফান্ড নিয়ে বসে আছে।
বাই দা ওয়ে, টেড ওলসন নামের সেই উকিল মুলত কোখ ভাইদের পার্সোনাল উকিল। অথচ আমেরিকার এতোবড় একটা পলিসি সে চেঞ্জ করে দিয়েছে।

কোখ ভাইদের আরো একটা ভয়াবহ উদ্দেশ্য হল আমেরিকাতে Public education বন্ধ করে দেয়া।
অর্থাৎ দেশের সকল স্কুল কলেজ প্রাইভেটাইজেশন করা।
এখন আমাদের দেশে ব্যাপারটি চিন্তা করে দেখতে পারেন।
আমাদের দেশের সকল সরকারি স্কুল কলেজ যদি প্রাইভেটাইজেশন হয়, তাহলে আমাদের বাংলাদেশে লিখাপড়ার সিস্টেমটা কেমন হয়ে যাবে, সেটা একবার ভেবে দেখুন।
বড়লোকের ছেলেরা শিক্ষাদিক্ষায় সুযোগ পাবে বেশি।
সেইসাথে equal opportunity এবং equal education বলে কিছুই থাকবে না। যার টাকা আছে, সে ভালো শিক্ষা পাবে।
যার টাকা নেই সে ভালো স্কুল কলেজের দেখা পাবে না।
আমেরিকাতে আরো বাজে একটা ব্যাপার হবে। সেটা হল, সাদা আর কালোরা আলাদা আলাদা স্কুলে পড়তে বাধ্য হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারনেই সাদা আর কালোরা আলাদা আলাদা স্কুলে যেতে বাধ্য হবে। আফটার অল, সাদারা আমেরিকাতে প্রিভিলেজড, ডমিনেটিং ফোর্স। আর কালোরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।
কোখ ভাইরা প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে পাবলিক স্কুল সিস্টেমের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে চলমান মার্কিন প্রেসিডেন্টিসিয়াল নির্বাচনে রিপাবলিকানরা common core education সিস্টেম নষ্ট করে state based local education সিস্টেম চালু করার কথা বলতেছে।
তারা ক্ষমতায় গেলে common core education বাতিল করবে। এটা মুলত কোখ ভাইদের একটা স্বপ্ন। অর্থাৎ লিখাপড়াকে প্রাইভেটাইজেশন করা।


এবার বলি, ইউনিভার্সিটিগুলোর কথা।
আমেরিকার নামকরা ইউনিভার্সিটিগুলো অধিকাংশই বেসরকারি। এখানে ডোনেশন অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর। কোখ ভাইয়েরা আমেরিকার ১৫০+ ইউনিভার্সিটি এবং কলেজে ডোনেশন দেয় প্রতিবছর। এবং অনেক বড়বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তাদের ফাইন্যান্সিয়াল এগ্রিমেন্ট আছে।

ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই দেখবেন Climate change is a hoax টাইপের আর্টিকেল পাবেন, যাতে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমুক প্রফেসর, তমুক প্রফেসরের গবেষণাপত্র দেখবেন যেখানে বলা হয়েছে আসলে ক্লাইমেট চেঞ্জ বলে কিছু নেই।
এই টাইপের প্রোপাগান্ডা সাইন্স পেপারগুলো কোখ ভাই টাইপের লোকেদের টাকা খেয়েই এসব প্রফেসরেরা পাবলিশ করে।
এছাড়া নানাবিধ কারণে ইউনিভার্সিটি প্রফেসর পকেটে রাখতে হবে।
পলিটিক্যাল সাইন্স প্রফেসর থেকে শুরু করে বড়বড় পলিটিক্যাল জার্নালে বা পেপারে কলাম লেখক বড়বড় ডিগ্রীধারী ব্যক্তি, সাংবাদিক ও অর্থনীতিবিদ’দেরও পে-রোলে রাখতে হয় রিপাবলিকানদের নানাবিধ এজেন্ডার পক্ষে একাডেমিক সাফাই গাওয়ার জন্য।

কোখ ভাইরা শ্রমিকের নুন্যতম মজুরী সীমা বাতিল করার পক্ষে।
তাদের যুক্তি হল, স্টেট বাই স্টেট মজুরী নির্ধারণ হবে পরিস্থিতি বুঝে।
অর্থাৎ কোনো স্টেটে যদি প্রতিঘন্টা ৪ ডলার মজুরিতে শ্রমিক খাটানো সম্ভব হয়, তাহলে খাটাবে। এখানে কোনো রুলস এন্ড রেগুলেশন থাকবে না।
কিন্তু ডেমোক্রটরা বা বার্নি স্যান্ডার্সরা বলে ভিন্ন কথা। তারা শ্রমিকের ১৫ ডলার প্রতি ঘন্টা ন্যুনতম মজুরির কথা বলে। অর্থাৎ শ্রমিক এক ঘন্টা খাটালে এই পরিমাণ অর্থ তাকে দিতেই হবে।

কোখ ভাইরা যেহেতু মালিক শ্রেনী, স্বাভাবিকভাবেই তারা এই রুলস এন্ড রেগুলেশন পছন্দ করে না। আমাদের বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি বাড়ানো নিয়েও কম কাহিনী হয়নি। মালিকপক্ষ আপ্রাণ চেষ্টা করে মজুরি কমিয়ে রাখতে। এতে তাদের বেশিবেশি লাভ হয়। সরকার যদিও শক্তহাতে শ্রমিকের মজুরি বাড়ানোর চেষ্টা করে।

যাই হোক, কোখ ভাইদের দৈনিক আয় ১৩ মিলিয়ন ডলার মাত্র। (per day)
কোখ ভাইয়েরা এক দিনে যে অর্থ আয় করে, সেই পরিমাণ অর্থ একজন ১৫ ডলার ঘন্টা প্রতি বেতন পাওয়া শ্রমিকের আয় করতে ৬৯০ বছর কাজ করা লাগবে।
কোখ ভাইয়েদের বিলাসী জীবন নিয়ে কমেডিয়ান জন স্টুয়ার্ট এবং স্টিভেন কোলবেয়ার বেশকিছু প্রতিবেদন করেছে।

কোখ ভাইদের সবচেয়ে জঘন্য পলিটিক্যাল ম্যানুপুলেশনের দৃষ্টান্ত সম্ভবত খুব সম্ভবত আমেরিকার ভোটিং রাইট রিলেটেড।
ভোটিং রাইট সাপ্রেশনের জন্য তাদের ফান্ডিংএ করা বেশকিছু লেজিসলেশন আমেরিকার নির্বাচনের ফলাফলে সুদুর প্রসারে প্রভাব রেখে চলেছে।

Koch Brothers, Exxonmobil এবং National rifle association (NRA) মিলে Alec অর্থাৎ American legislative exchange council বানিয়েছে, যার কাজ মুলত পলিটিসিয়ানদের অর্থ দিয়ে তাদের সুবিধামত আইন তৈরি করা। সমগ্র আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটগুলোতে এরা নানান ধরণের ভোটিং রাইট আইনকানুন বানিয়েছে।
অর্থাৎ ভোট দিতে আপনার আইডি কার্ড লাগবে। এবং সেই আইডি কার্ড করতে হলে নানান শর্ত পুরণ করতে হবে।
ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি।
যেমন ধরুণ, কালো বর্ণের আমেরিকানরা তুলনামুলক অস্বচ্ছল পরিবারে জন্ম নেয়।
তাদের ভেতর স্বাভাবিক ভাবেই ক্রাইম করার প্রবনতা, গাজা টাইপের নেশার বস্তু সেবনের প্রবনতা বেশি থাকে।
সেইসাথে সমস্যা হইল, একজন কালো বর্ণের আমেরিকানকে পুলিশ সহজেই ছোটখাটো ক্রাইম করার জন্য গ্রেফতার করে জেলে ভরতে পারে।
কিন্তু একজন শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানকে পারে না।
এখন চিন্তা করে দেখুন, আপনার স্টেটে যদি একটা নিয়ম করা হয়, কোনো পুলিশি মামলা কারো বিরুদ্ধে অতীতে বা বর্তমানে থেকে থাকলে সে ভোটার আইডি কার্ড পাবে না, তাহলে ফলাফল কেমন হবে?
যা ভেবেছেন, ঠিক তাই।
অর্থাৎ তুলনামুলকভাবে প্রচুর কালো বর্ণের আমেরিকান ভোটার আইডি কার্ড পাবে না। ভোট দিতেও তারা পারবে না।
এবার উপরে যা বললাম, সেটার সাথে নিচের তথ্যগুলোকে কানেক্ট করূণ। দেখুন, কোনো অর্থ খুজে পান কিনা !!
আমেরিকার Bureau of Justice statistics এর প্রতিবেদন অনুসারে,
2013 সালে আমেরিকার প্রতি ১১০ জনের ১ জন জেলে গেছে কোনো না কোনো ক্রাইম করে। এবং প্রতি ৫১ জনের ১ জন প্যারোলে আছে।
যেমন এই মুহুর্তে আমেরিকার প্রায় ২৩ লক্ষ মানুষ জেলে আছে। যেখানে আমেরিকার জনসংখ্যা ৩১ কোটি।
অর্থাৎ প্রতি ১ লক্ষ মানুষের ভেতর প্রায় ৭০০ জন মানুষ জেলে আছে।
আমেরিকাতে দুনিয়ার মাত্র ৪.৪% মানুষ বসবাস করে। অথচ দুনিয়ার ২৩% কয়েদী আছে আমেরিকাতে।
দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি জেলখানাও আছে আমেরিকাতে।
এসব জেল খানাগুলোকে কাজেও লাগাচ্ছে বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি। সস্তা শ্রম পাচ্ছে। অর্থাৎ কার্যত সেগুলো লেবার ক্যাম্প।

খোদ আমেরিকার ব্যুরো অফ জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিক্স অনুসারে, প্রতি ১৫ জন কালোবর্ণের আমেরিকানদের ভেতর ১ জন,
প্রতি ৩৬ জন হিস্প্যানিকের ভেতর ১ জন,
এবং প্রতি ১০৬ জন শ্বেতাঙ্গ মার্কিনীর ভেতর ১ জন জেলে আছে।
আমেরিকার জনসংখ্যার ৩০% জনগণ অশ্বেতাঙ্গ।
অথচ আমেরিকার জেলখানাগুলোর ৬০% কয়েদী অশ্বেতাঙ্গ অর্থাৎ হয় কালো অথবা হিস্প্যানিক।
প্রতি ৩ জন কালোবর্ণের আমেরিকানের ভেতর ১ জন জীবনের কোনো না কোনো সময় পুলিশি মামলায় ফেঁসেছে বা ফাঁসার চান্স আছে।

১৯৮০ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ড্রাগ রিলেটেড মামলায় গ্রেফতার হয়েছে।
আমেরিকার নেশাখোড়দের ভেতর কালোবর্ণের মানুষের সংখ্যা ১৪% হলেও ড্রাগ রিলেটেড মামলায় জেলে যাওয়া আসামীদের ভেতর কালোবর্ণের মানুষের সংখ্যা ৩৭%
এছাড়া কিশোর অপরাধের দিক দিয়েও কালোবর্ণের মানুষেরা জেলে বেশি যাচ্ছে।
এর জন্য দুইটা ব্যাপার দায়ী।
প্রথমত, কালো’রা আমেরিকার পিছিয়ে পড়া বা তুলনামুলক কম প্রিভিলেইজড জনগোষ্ঠী।
দ্বিতীয়ত, একই অপরাধ করে একজন শ্বেতাঙ্গের চেয়ে একজন কৃষ্ণাঙ্গের জেলে যাওয়ার প্রবাবিলিটি অনেক বেশি। এবং খুব মাইনর ক্রাইম করেও একজন কৃষ্ণাঙ্গ জেলে চলে যেতে পারে সহজেই। এর কারণ, law enforcement agency গুলোতে সাদা’দের তুলনামুলক প্রাধান্য।

এবার চিন্তা করূণ, ভোটার আইডি আইনে যদি উল্লেখ করে দেয়া হয়, যাদের নামে পুলিশি মামলা আছে, বা যারা অতীতে কোনো না কোনো সময়ে পুলিশি মামলায় ফেঁসে গেছিলো, তারা সরকারি চাকরিতে ঢুকতে পারবে না + ভোটার আইডি কার্ড পাবে না, তাহলে কি হতে পারে?
কারা সবচেয়ে বেশি ভোটিং রাইট থেকে বঞ্চিত হবে?

ঠিকই ধরেছেন।
কালোরা।

আমেরিকাতে রিপাবলিকানরা সর্বদা ভোটার আইডি আইন কঠিন থেকে আরো কঠিন করার চেষ্টা করে। কারণটা সহজেই বোধগম্য।
people with color, অর্থাৎ কালো এবং নন শ্বেতাঙ্গ অন্যান্য আমেরিকানদের ভেতর রিপাবলিকানদের জনপ্রিয়তা কম। ভোট কম।
এজন্য তারা কঠিন ভোটার আইডি আইনের পক্ষে।
এতে বিপুল পরিমাণ people with color অর্থাৎ নন শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান মানুষ ভোটারাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
ফলাফল, রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।

আবার ডেমোক্রেটরা সবার জন্য ভোটারাধিকার সহজ করার জন্য চেষ্টা করে। এর পেছনেও কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই। আছে সেই ভোটের রাজনীতি। কালো এবং হিস্পেনিক জনতার ভোট ডেমোক্রেটরা বেশি পায়। সহজ হিসাব।
এজন্য ডেমোক্রেটরা ড্রাগস আইন সহজ করার চেষ্টা করে। গাজা টাইপের নানান মাদক দ্রব্যকে বৈধতা দেবার চেষ্টা করে। কারণ মারুয়ানা বা গাজা বৈধ করতে পারলে বিপুল পরিমাণ ভোটার পাবে তারা।

Koch brothers’ funded, ALEC এবং America for prosperity টাইপের প্রতিষ্ঠানগুলো সমগ্র আমেরিকাতে ভোটিং রাইট শক্ত করার জন্য লবিং করে।
এখানে বলে রাখি, আমেরিকান রাজনীতিতে লবিং একেবারে বৈধ।
অথচ ওই জিনিসটা আমাদের দেশে করলে সেটা একেবারেই অবৈধ।
ব্যাপারটা ক্লিয়ার করার জন্য, আরো একটা উদাহরণ দেয়া যাক।
ধরূণ, আপনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হতে চাচ্ছেন। তো ভোটে দাঁড়িয়েছে।
অর্থমন্ত্রী হবার আগে আপনাকে ভোটে জিতে সংসদ সদস্য হতে হবে তো। তাই না?
তো আপনি ভোট করতেছে। ভোটের ক্যাম্পেনিং করতে বিপুল অর্থ খরচ করতে হবে আপনাকে। অন্যথায় জিতবেন কিভাবে?
আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী ভোটে জেতার জন্য কোটি কোটি টাকার প্রচারণা চালাচ্ছে। তো আপনাকেও তো চালাতে হবে। নাকি?
তো টাকা আসবে কোথাথেকে? আপনার বাপের তো আর জমিদারি নেই।
তো ধরূণ, একটি বিদেশি Car কোম্পানি আপনার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে মোটা টাকা ডোনেশন দিলো। শর্তটা হল, আপনি ভোটে জিতলে অর্থমন্ত্রী হয়ে প্রথম বছরেই বিদেশী গাড়ির উপর আমদানি শুল্ক কমাবেন।
তো আপনি ভোটে জিতে গেলেন।
অর্থমন্ত্রী হলেন।
অর্থমন্ত্রী হয়ে আমদানি শুল্ক কমালেন। ব্যস, গাড়ি কোম্পানির বিক্রি বেড়ে গেলো। কারণ গাড়ির দাম কমে গেছে। বেশি মানুষ কিনতেছে।
সংসদে দাঁড়িয়ে আপনি নানান যুক্তি তর্ক তুলে ধরলেন। দেশের উন্নতির জন্য বিদেশি গাড়ির উপর শুল্ক কমানো কেনো দরকার, সেই মর্মে এক জালাময়ী ভাষণ দিয়ে জনগনকে ভুগোল বোঝালেন।
তো এটাই হল লবিং।

এটা বাংলাদেশে কেউ করলে, সেটাকে আমি আপনি দুর্ণীতি বলবো।
আমেরিকাতে এটা একেবারেই বৈধ।
এটাকে আপনি যদি দুর্ণীতি হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে আমেরিকা নির্সন্দেহে দুনিয়ার সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ দেশের তালিকায় সবার উপরে থাকবে।
কারণ আমেরিকাতে এখন লবিং বিজনেস অন্যতম প্রফিটেবল বিজনেস।

ভুলে গেলে চলবে না, আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গরা ভোটারাধিকারের জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছে।
খুব বেশি আগের কথা না। মাত্র ছয় দশক আগেও আমেরিকাতে সাদা আর কালোদের জন্য আলাদা আলাদা স্কুল ছিলো, টয়লেট ছিলো, ট্রান্সপোর্টেশন ছিলো। সবই ছিলো আলাদা আলাদা।
সেই বিভেদ কাগজে কলমে মুছে গেলেও সেটা ধীরে ধীরে আবার ফিরে এসেছে। একটু ভিন্নভাবে। স্যাগগ্রিগেশন প্রসেসটা এবার হচ্ছে আরো সুক্ষভাবে।

আমাদের বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করলে ইউরোপ আমেরিকা থেকে নানান পর্যবেক্ষক দল আসে। দেশের নির্বাচন আবাধ, নিরপেক্ষ এবং সঠিক হয়েছে কিনা, সেই সার্টিফিকেট তারা দিয়ে থাকে। আমাদের দেশের পলিটিসিয়ানরা সেগুলোকে অনেক মুল্য দেন।
প্রশ্ন হল, আমেরিকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ হয়েছে কিনা, সেটা দেখার জন্য পর্যবেক্ষক আসে কোথা থেকে?
উত্তর হল, তাদের ভেতর থেকেই।
বাইরের কোনো দেশের পর্যবেক্ষক তারা ডাকে না।
True the vote টাইপের Koch funded প্রতিষ্ঠানগুলো আমেরিকার ভোটকেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করে।
True the vote-এর প্রায় ১০ লক্ষ সেচ্ছাসেবক আছে, যারা মার্কিন সরকারের ছাড়পত্র নিয়ে সমগ্র আমেরিকাতে নির্বাচনী ভোটকেন্দ্রগুলো নজরদারি করে। বলাবাহুল্য, সেচ্ছাসেবকদের অধিকাংশ সাদা মার্কিনী। এদের বিরুদ্ধে নানান সময়ে কালোবর্ণের মানুষদের ভোটকেন্দ্র হয়রানী করার অভিযোগ এসেছে।
বিশেষ করে টেক্সাসের মত স্টেটগুলোতে black voter suppression করার কাজটি এরা ভালোমতই করে।
যে county গুলোতে কালো ভোটার বেশি, সেখানে ভোটিং বুথ বসাবে কম করে। ফলাফল, বেশি ভোট পড়বে না। সেইসাথে ভোটিং প্রসেসটাও slow করে দেবে।
ব্যাপারটাকে টিকেট কাউন্টারে প্রচন্ড ভিড়ের সময় টিকেট কাটার সাথে তুলনা করতে পারেন।
অথবা ঈদের আগে ব্যাংকের সামনে টাকা তোলার লাইনের সাথে তুলনা করতে পারেন।
বুথ বেশি হলে কিন্তু সময় কম লাগবে। হয়রানিও মানুষ কম হবে।
ভোট দিতে গিয়ে যদি এতো ভোগান্তিতে মানুষ পড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই কেউ ভোট দিতে যাবে না। সহজ হিসাব।

আরো একটা জিনিস বেশ ভয়াবহ।
আমেরিকাতে General Election যেদিন হবে, সেইদিনটিকে তারা সরকারি ছুটি ঘোষণা করে না !!!
সেইদিনটি হবে একেবারে কর্মব্যস্ত দিন। ফলে, ওয়ার্কিং ক্লাস আমেরিকানদের জন্য ভোট দিতে যাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।
এবার বার্নি স্যান্ডার্স দাবি জানিয়েছিলো, ২০১৬ সালের General Election day টাকে ছুটি ঘোষণা করতে।
কিন্তু ছুটি হবে বলে মনে হয় না।
এবার চিন্তা করে দেখুন। আপনি এক একজন শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান। আপনি মনেমনে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক। আপনার ফ্যাক্টরিতে প্রচুর কৃষ্ণাঙ্গ কম বেতনে চাকরি করে। তো আপনার ধারণা, তারা সবাই ডেমোক্রেটদের ভোট দেবে। সুতরাং ভোটের দিন আপনি কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলেন। এমন ব্যবস্থা করলেন, যাতে তাদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগই না হয়।
এই টাইপের নানান কায়দায় ভোটার suppression হয়।

আমেরিকাতে জেনারেল ইলেকশনে ভোটার টার্ন আউট মাত্র ৪০-৬০% এর ভেতরে থাকে। আমেরিকান স্ট্যান্ডারে এটা কমই।
এর কারণ মুলত এই ভোটার সাপ্রেশন।

১৯৮১ সালের দিকে আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ জনতার পরিমাণ ছিলো ৮৪%
তখন রিপাবলিকান দলের পক্ষে ভোটে জিতে আসাটা যত সহজ ছিলো, এই ২০১৬ সালে এসে তত সহজ নয়।
এখন ৭২% আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ। হিস্প্যানিকদের বাদ দিলে শ্বেতাঙ্গ আছে ৬৩%
রিপাবলিকানদের ভোটের সিংহভাগই আসে এই নন হিস্প্যানিক শ্বেতাঙ্গদের ভেতর থেকে।
অর্থাৎ ক্রমেই রিপাবলিকানদের জন্য ভোটে জেতাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
এজন্যে নানান ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে তারা। যার ভেতরে আছে voter right suppression, (যেটা নিয়ে উপরে বললাম) ... সেইসাথে আছে gerrymandering

Gerrymandering জিনিসটা কি?
এটা আশা করি অনেকেই জানেন। আমি বেশি ডিটেলসে যাবো না। যদি কেউ Gerrymandering না বোঝেন, তাহলে অন্তত এটা চিন্তা করুন, ঠিক যেকারণে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুইভাগ করা হল, সেটাই gerrymandering.

যেমন টেক্সাসে নন হিস্প্যানিক আমেরিকান এবং কালোবর্ণের মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।
টেক্সাস রিপাবলিকানদের ঘাটি। সেখানকার স্টেট গভর্মেন্টও রিপাবলিকানদের দখলে। কিন্তু নন হিস্প্যানিক ও কালোবর্ণের মানুষ বাড়তে থাকলে একসময় টেক্সাসও ক্যালিফোর্নিয়ার মত ডেমোক্রেট ঘাটিতে পরিনত হবে। সুতরাং টেক্সাসের ভেতরে ইচ্ছামত gerrymandering করা হচ্ছে। লোকাল গভর্মেন্ট নির্বাচনে যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়াচ্ছে।

যেসব এলাকাতে সাদারা বেশি থাকে, সেগুলোকে ছোটছোট county তে ভাগ করা হচ্ছে। ফলে সাদাদের এলাকা থেকে নির্বাচিত আইনপ্রনেতার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আর কালোদের বসবাসের এলাকাকে একসাথে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে কালোদের বসবাসরত এলাকা থেকে কম legislator আসে স্টেট গভর্মেন্টে।

এতোটুকু পড়ার পর হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন, বারাক ওবামা কি এসব জানেন না? তিনি কি এসব সমাধান করতে পারেন না? তিনি তো ডেমোক্রেট + একজন মিক্সড রেসের মানুষ। অর্থাৎ তার বাবা কৃষ্ণাঙ্গ আর মা শ্বেতাঙ্গ।
উত্তর হল, বারাক ওবামা যত সহজে একটা executive order জারি করে ইরাক বা সিরিয়ার মত একটি দেশকে ধ্বংস করে দিতে পারেন, তত সহজে নিজের দেশের সমস্যার সমাধান করতে পারেন না। কারণ নিজের দেশের ভেতর তার এতো ক্ষমতা নাই।
যেমন, বর্তমানে আমেরিকাতে কি হচ্ছে, সেটাই দেখুন। বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট। ওদিকে কংগ্রেস এবং সিনেট দখল করে আছে রিপাবলিকানরা।
বারাক ওবামা আজ প্রায় ৮ বছর ক্ষমতা থাকলেন। এখন পর্যন্ত একটা gun control law পাস করতে পারলেন না।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তার নিজ দেশে কখনোই ডিকটেটরের মত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাকে কংগ্রেস এবং সিনেট, সেইসাথে স্টেট গভর্নরদের সাথেও কাজ করতে হয়।
আর মার্কিন কংগ্রেস এবং সিনেট, সেইসাথে প্রতিটি স্টেট গভর্মেন্টে চলে লবিং অর্থাৎ টাকার খেলা।
দিনশেষে পুঁজিবাদী আমেরিকাতে পুঁজিপতিরাই মুল ক্ষমতায় থাকে।

একসময় ভ্যান্ডারবিল্ড, মরগ্যান, ফোর্ড, কার্নেগী, রকারফেলার, কোল্ট, ফোর্ডরা ছিলো।
এরপর এখন ল্যারি পেজ, সার্গে ব্রাইন, ব্লুমবার্গ, গেইটস, বাফেট, ট্রাম্প, এডেলসন, সোরাস আর কোখ ভাইদের রাজত্ব।
দিনশেষে আমেরিকাতে কি ধরণের আইন পাস হবে, আমেরিকার ভবিষ্যৎ কোনদিকে যাবে, এটা নির্ভর করে এসব ধনুকুবদের উপর।
কোনো ধনুকুব শ্রেনী ডেমোক্রেটদের পেছনে টাকা ঢালে। (যেমন সিলিকন ভ্যালির টেকনোক্রেটরা)
আবার আরেক ধনুকুব শ্রেনী রিপাবলিকানদের পকেটে টাকা ঢালে।
পলিটিসিয়ানরা জাস্ট পাপেট।
তাদের ডোনার আর স্পেশ্যাল ইন্টারেস্টের রাবার স্টাম্প।

এজন্য আপনি এতোশত shooting ইনসিডেন্টের পরও আমেরিকাতে শক্ত অস্ত্র আইন করতে দেখবেন না।
কারণ রিপাবলিকান, এবং সেইসাথে কিছু ডেমোক্রেট পলিটিসিয়ান রেগুলার NRA এর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা পায়।
আমেরিকার mass shooting ইনসিডেন্টে রেগুলার প্রতিবছর হাজার পঞ্চাশের উপর মানুষ মারা যায়। অথচ একটা শক্ত gun law কেউ করে না। কারণটা সবাই জানে।
বড়বড় অস্ত্র কোম্পানিগুলো এবং বিশেষ করে gun manufacturers কোম্পানিগুলো প্রতিবছর আমেরিকার ভেতরে অস্ত্র বিক্রি করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করে। আমেরিকার মানুষের অস্ত্রের প্রতি ফ্যাসিনেশন অনেক পুরনো। শিকার করা এবং আত্মরক্ষার নাম দিয়ে অস্ত্র কেনা যায় সহজেই। একজন শ্বেতাঙ্গ মার্কিনীর জন্য দোকানে গিয়ে একটা AR-15 assault rifle কেনা ঠিক ততটাই সহজ, যতটা সহজ তার জন্য দোকানে গিয়ে একটা ফ্রিজ বা টেলিভিশন কেনা !

কোখ ভাইদের America for Prosperity টাইপের সংগঠন anti union আইনের জন্য লবিং করেছে। করে যাচ্ছে।
সেইসাথে আছে পুঁজিবাদের পোষা মিডিয়া।
শ্রমিকদের দাবিদাওয়া আদায় করার জন্য লেব্যার ইউনিয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। পুঁজিবাদীরা স্বাভাবিকভাবেই সেটা পছন্দ করে না।
মে দিবস, অর্থাৎ শ্রমিক দিবসের সেই রক্তে ভেজা ইতিহাস কিন্তু আমেরিকারতেই হয়েছিলো।
অথচ আজকের আমেরিকাতে শ্রমিকদের জন্য দাবিদাওয়া আদায় করা আরো কঠিন হয়ে গেছে।
ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে পঙ্গু করা হয়েছে। দুর্বল করা হয়েছে নানান আইন কানুনের ফাঁদে ফেলে।
একারণে আমেরিকাতে ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ড্রাস্ট্রিগুলো খুব সহজেই অতিরিক্ত লাভের আশায় আমেরিকা থেকে ফ্যাক্টরি সরিয়ে মেক্সিকো বা চীনের মত আরো সস্তা শ্রমের দেশে চলে যাচ্ছে। আমেরিকাতে প্রচুর মানুষ বেকার হচ্ছে। রাতারাতি হাজার খানেক শ্রমিক কর্ম হারালেও তারা দাবি আদায়ে রাস্তায় নামতে পারতেছেনা। নুন্যতম মজুরি বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে।

ওদিকে পুজিবাদী মিডিয়া শ্রমিকের স্বার্থের পক্ষে কেউ কথা বললেই তাকে কমিনিস্ট বা সোশ্যালিস্ট ট্যাগ দিচ্ছে। আমেরিকাতে এগুলো একরকম ‘গালি’

দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাদী আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতরে চলা স্নায়ু যুদ্ধের সময় থেকে মিডিয়া যেভাবে সমাজতন্ত্রকে ডেমোনাইজ করেছে আমেরিকাতে, তাতে এটা স্বাভাবিক। এখনো সমাজতন্ত্র বলতে আমেরিকার মানুষ ভেনিজুয়েলা বা কিউবার উদাহরণ টানে। মিডিয়াতে বারবার দেখানো হয়, ভেনিজুয়েলার দুরাবস্থা। অথচ ফিনল্যান্ড বা ডেনমার্কের উদাহরণ মিডিয়াতে আসে না।

তবে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে democrat socialist বার্নি স্যান্ডার্স কিন্তু ঠিকই আমেরিকানদের মন জয় করেছে।
বার্নি’কে তার প্রতিপক্ষরা ‘socialist’ বলে বলে গালি দিয়েছে। কিন্তু এতে বার্নির খুব ক্ষতি হয়নি।
বরং আমেরিকার মানুষ গুগল সার্চ দিয়েছে, “what is socialism?” লিখে।
বার্নির কারণে যদি আমেরিকার মানুষ “What is democratic socialism?” জিনিসটা সম্পর্কে একটা ধারনা পায়, সেটাও বা কম কি?

কোখ ভাইদের মত ধনুকুবের কাছে বার্নি স্যান্ডার্সের মত সোশ্যাল ডেমোক্রেট রীতিমত আতঙ্ক। এক বিভীষিকার নাম।
আমেরিকার তরুণ সমাজ সোশ্যালিজমের প্রতি ঝুঁকে যাক, এটা অন্তত জীবনেও পুঁজিপতিরা চাইবে না। তাহলে তাদের ক্যাপিটালিজমের স্বর্গ আমেরিকা আর তো আমেরিকায় থাকবে না।
সুতরাং ডেমোক্রেট হোক বা রিপাবলিকান, বার্নির মত সোশ্যালিস্টের উত্থান যে করেই হোক ঠেকাবে। সেটা মিডিয়া দিয়েই হোক বা গায়ের জোরে।

কোখ ভাইদের ফান্ডিং ইতিমধ্যে ৯০টি anti union বিল পাস করেছে ৩৬ টি স্টেটে।
মিডিয়া দিয়ে অনরবরত প্রচারনা চালানো হচ্ছে, union free environment শ্রমিকদের জন্য ভালো। অথচ বাস্তবে হচ্ছে উল্টো।
গত ৫০ বছর ধরেই আমেরিকার মিডিল ক্লাস ছোট হয়ে যাচ্ছে। ধনী গরিবের বৈষম্য বাড়তেছে প্রতিনিয়ত। গরিব আরো গরিব হচ্ছে, ধনী আরো ধনী হচ্ছে।
১০% মানুষের কাছে যত সম্পদ আছে, বাকি ৯০% মানুষের কাছেও তত সম্পদ নাই।

কোখ ভাইদের সবচেয়ে বড় শত্রু “without any doubt” বার্নি স্যান্ডার্স।
বার্নি স্যান্ডার্স গত তিন দশক ধরে কোখ ভাইদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলে যাচ্ছে।
যেমন কোখ ভাইরা আমেরিকা থেকে social security উঠিয়ে দেবার এবং retirement age বাড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বার্নি সরাসরি কোখ ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিলো তখন। কোখ ভাইদের দাবি, retirement age করতে হবে ৭০ বছর।
বার্নির কথা হল, ৭০ বছর রিটায়ারমেন্ট বয়স নির্ধারণ করা অন্যায়।
এতে করে তরুণ ছেলেমেয়েরা workforce হিসেবে কর্মক্ষেত্রে সহজে ঢুকতে পারবে না পুরনোদের রিপ্লেস করে।
অর্থাৎ তরুন জনতার জন্য কর্মক্ষেত্রে কমে যাবে। ফলাফল, কোখ ভাইদের মত ধনুকুবদের দুইদিক দিয়ে লাভ হবে। খোদ আমেরিকার তরুনেরাই যদি বেকার থাকে, তাহলে জব মার্কেটে চাপ থাকবে। ফলে তরুনদের কম বেতনে খাটানো যাবে। সেইসাথে বাইরের দেশ থেকে ইমিগ্রেন্ট কম আসবে আমেরিকাতে।
অর্থাৎ সুদুর প্রসারি চিন্তাভাবনা।

ওদিকে কোখ বাদ্রাররা ফক্স নিউজের মত চ্যানেলগুলোতে রিটায়ারমেন্ট বয়স বাড়ানোর পক্ষে পেইড বুদ্ধিজীবি ও পন্ডিতদের নিয়োগ দিয়েছে।
তারা রিটায়ারমেন্ট বয়স বাড়ানোর পক্ষে সাফাই গেয়েছে।
জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির মত বেশকিছু নামিদামি ভার্সিটিতে কোখ ফান্ডেড গবেষণাপত্র পয়দা করা হয়েছে। যেখানে আমেরিকার আমজনতাকে একাডেমিক এঙ্গেলে বোঝানো হয়েছে, রিটায়ারমেন্ট বয়স বাড়ানোটা কেনো জনকল্যানমুলক হবে।
ওইযে যেমন মাঝেমাঝে দেখবেন, সিগারেট খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, বা মদ খেলে শরীর ভালো থাকে, টাইপের আজব আজব সব বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল আমেরিকার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। এগুলো যেমন টাকা খেয়ে গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করা হয়,
কোখ ভাইদের টাকায় তেমন রিটায়ারমেন্ট বয়স রিলেটেড গবেষণাও প্রকাশ হয়েছিলো।

যেমন বছরখানেক আগে আমেরিকার আমজনতা ফেটে পড়ে Keystone XL pipeline বানানোর বিরুদ্ধে।
কোখ ভাইরা এই পাইপ লাইন বানাতে চাচ্ছিলো।
তারা কানাডা থেকে Tar Sand পাইপ লাইনে করে আমেরিকার ভেতর দিয়ে এনে অপরপ্রান্তের টেক্সাসে পেট্রোলিয়াম ফ্যাক্টরিতে নিয়ে আসতে চাচ্ছিলো।


Tar Sand হল চরম পরিবেশদূষণ সৃষ্টিকারি জ্বালানি।
Tar Sand থেকে পেট্রোলিয়াম প্রস্তুত করা যায়। কোখ ভাইয়েরা সেটা করতে চাচ্ছিলো।
সমস্যা হল, গোটা আমেরিকার উপর দিয়ে এই পাইপ লাইন আসবে, আমেরিকার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে এই পাইপলাইন পৌছাবে, anyhow, anywhere যদি কখনো পাইপলাইন ফেটে Tar sand পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেটা হবে ভয়াবহ ব্যাপার।
পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্জয় ঘটবে।
প্রায় ১০ হাজার মানুষ white house ঘেরাও করে এই Keystone XL pipeline এর বিরুদ্ধে।
এগিয়ে আসে বার্নি স্যান্ডার্স।
মানুষের তুমুল বিক্ষোভের মুখে শেষমেষ white house এই keystone XL pipeline এর কাজ বন্ধ (pending) রাখতে নির্দেশ দেয়। বলাবাহুল্য, কোখ ভাইয়েরা হাউজ মেজোরিটি রিপাবলিকানদের টাকা দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে এই পাইপলাইন তৈরির কাজ চালিয়ে যাবার। কিন্তু কাজ হয়নি। জনতা ঠিকই প্রতিরোধ করেছে।










আজ যখন আমাদের বাংলাদেশে সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লাভিক্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানোর কাজ চলছে, তখন আমার সেই Keystone XL pipeline এর কথা মনে পড়ে।
আমাদের ভাগ্য খারাপ। আমাদের একটা বার্নি স্যান্ডার্স নাই।

কোখ ভাইয়েরা fox news টাইপের কনজার্ভেটিভ মিডিয়া দিয়ে আপ্রাণ প্রচার প্রচারণা চালিয়েছিলো Keystone pipeline-এর পক্ষে।
এই পাইপলাইন+রিফাইনারি তৈরি হলে বহু মানুষের চাকরিবাকরি হবে, এই পাইপলাইন অনেক সুরক্ষিত ও মজবুত হবে, ফলে পাইপ ফেটে পরিবেশ দূষণের কোন সম্ভাবনা নাই, এমন নানান ভুজুং ভাজুং মানুষকে গেলানোর চেষ্টা করেছিলো fox news.
ভাড়াটে পয়সার কাছে মাথা বিক্রি করা বুদ্ধিজীবি নিয়োগ করেছিলো। কিন্তু কাজ হয়নি।
বার্নি স্যান্ডার্সের মত পলিটিসিয়ানরা মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলো কোখ ভাইদের ছলচাতুরির ব্যাপারে।

কোখ ভাইদের বিরুদ্ধে বার্নি স্যান্ডার্সের লড়াই দীর্ঘদিনের।
এবারের চলমান মার্কিন প্রেসিডেন্টসিয়াল নির্বাচনে বার্নি স্যান্ডার্স ভুয়সী প্রশংসা পেয়েছিলো কোখ এবং wall-street কে আক্রমণ করে।

যাই হোক, ব্যক্তিজীবনে ডেভিড কোখ তিন সন্তানের জনক। তার স্ত্রীর নাম জুলিয়া।


অন্যদিকে চার্লস কোখ দুই সন্তানের জনক।

এই পোস্টটি লিখা মুলত কোখ পরিবার ও কোখ ভাইদের কর্মকান্ড নিয়ে হালকা ধারনা দেবার জন্য।
ব্রিফলি অনেকগুলো বিষয় এখানে তুলে আনার চেষ্টা করেছি।
চলমান মার্কিন নির্বাচনে কোখ ভাইদের ভুমিকা ডিসাইসিভ না হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।


ডেমোক্রেসি তখনই ভালো, যখন জনতা তাদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ পায়। যখন জনতা ক্ষমতার উৎস হয়।
সমস্যা হল, জনতাকে হতে হবে well informed এবং sensible... সুবিবেচক। নুন্যতম শিক্ষিত।
যতটুকু নলেজ থাকলে একজন আমজনতা ভালোমন্দের বিভেদ ধরতে পারবে, এবং নিজের ও দেশের জন্য কোনটা ভালো, সেটা বুঝতে পারবে,
অন্তত ততটুকু জ্ঞান একজন ভোটারের থাকা প্রয়োজন।
কিন্তু জনতার জ্ঞান বা দিনদুনিয়া সম্পর্কে ধ্যানধারণা আসে কোথাথেকে?
মিডিয়া থেকে। পত্রপত্রিকা থেকে। বুদ্ধিজীবিদের টক শো বা লিখা ব্লগ + বই থেকে।
এবার চিন্তা করুণ।
একটি দেশের এলিট শ্রেনী যদি সেই দেশের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন করতে পারে, তাহলে তারা নিশ্চিতভাবেই সেই দেশের জনতার ব্রেনে ইচ্ছামত পারসেপশন, information, ঢোকানোর ক্ষমতা পেয়ে যাবে।
এসব নিউজ মিডিয়া ফলো করে জনতার দুনিয়া সম্পর্কে আইডিয়া হবে। ভালোমন্দের ধারনা তৈরি হবে।
এবং সেই ধারণা থেকেই তারা পলিটিসিয়ানদের এজেন্ডাকে কখনো সমর্থন দেবে, আবার কখনো উপেক্ষা করবে।
ফলে পলিটিসিয়ানরাও নিয়ন্ত্রিত হবে জনতা দ্বারা।
যেমন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব কথা বলে এবার নির্বাচনে রেকর্ড পরিমান ভোট পেয়ে রিপাবলিকান নমিনেশন জিতলো, এই ধরনের প্রস্তাব বা ইশতেহার নিয়ে যদি আজ থেকে ১৬ বছর আগে আমেরিকাতে ভোটে দাড়াতো, তাহলে খুব বাজে ভাবে হারতো।
অথচ গত ১৬ বছরে ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। ২০০১ এর পর থেকে অনরবরত মিডিয়া ব্যাশিং ইসলামোফোবিয়া এবং জেনোফোবিয়া বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন জনতার ভেতর। সেইসাথে ভীতি তৈরি করেছে। সবমিলিয়ে আরো বহুকিছুর স্বারমর্ম হল ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উত্থান।
জনতার ভেতরে আগে থেকেই তৈরি হওয়া সেন্টিমেন্ট, পারসেপশন এবং পুঞ্জিভুত ক্ষোভকেই মুলত ট্রাম্প cash করতেছে এই নির্বাচনে।
এভাবে কখনো জনতাকে নিয়ন্ত্রন করে পলিটিসিয়ান তৈরি করা যায়।
আবার কখনো পলিটিসিয়ানদের দিয়ে জনতাকে ম্যানুপুলেট করা যায়।
জনতা এবং পলিটিসিয়ান একটি অপরটির পরিপুরক।
আর মিডিয়া, মোটা টাকা এবং স্পেশ্যাল ইন্টারেস্ট হল পাপেট মাস্টার।

এবং আমেরিকার পাপেট মাস্টারদের ভেতর সবচেয়ে আলোচিত হিসেবে কোখ ভাইদের নাম আসে সবার আগে।
Read More »

Monday, February 22, 2016

বাংলাদেশের BCS vs ভারতের CSE


আমাদের যেমন BCS ,
ভারতের তেমন CSE
অর্থাৎ ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা।
কতটুকু মিল, আর কত বিশাল অমিল, এসব নিয়ে এবারের আলোচনা।
মুল আলোচনাটা পরীক্ষা পদ্ধতির ভেতরই সীমাবদ্ধ রাখবো। একজন ভারতীয় ক্যাডার কি ধরণের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আর একজন বাংলাদেশী ক্যাডার কি ধরণের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে, এই ধরণের তুলনা এখানে থাকবে না।
মুল আলোচনা থাকবে পরীক্ষা পদ্ধতি তথা সিলেকশন নিয়ে।

এই নোট লিখাটি তার জন্য বুঝতে সুবিধা হবে যার বাংলাদেশের বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নুন্যতম কিছু ধারণা আছে।
তো, বাংলাদেশের বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC)
আর ইন্ডিয়াতে CSE পরীক্ষা আয়োজন করে UPSC (union public service commission)

বাংলাদেশের মত ইন্ডিয়াতেই পার্মানেন্ট বুরোক্রেসি। বাংলাদেশ আর ইন্ডিয়ার প্রশাসনিক কাঠামো একই ধরণের। বাংলাদেশের বিসিএস ক্যাডারদের যেমন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন, সেখানেও তেমনই। মন্ত্রী বদল হয়, কিন্তু আমলাতন্ত্র একই থাকে।
যাই হোক, আসল কথাতে আসি।

গতবছর ২৩শে আগস্ট ভারতের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। হা, ঠিক আমাদের মত সেখানেও প্রথমে প্রিলি, এরপর রিটেন এবং ভাইবা অনুষ্ঠিত হয়।

গতবারের সার্কুলার হওয়া সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের সিভিল সার্ভিসে মোট ১১২৯ জন নিয়োগ পাবে। (এখনও পরীক্ষা চলতেছে। কেবল রিটেনের রেসাল্ট দিয়েছে)

১১২৯ জনের ভেতর ২৯ জন শারিরীক প্রতিবন্ধী কোটা। এছাড়া পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু রিজার্ভেশন করা হয়।

বাংলাদেশে যেমন সারা দেশ জুড়ে বিসিএস প্রিলি আয়োজন করা হয়,
ভারতেও তেমন।
বাংলাদেশে যেমন ছেলেমেয়েরা অ্যাডমিন, ফরেন, পুলিশ, রাজস্ব সহ নানান ক্যাটাগরি চয়েজ দেয়, ভারতীয়রাও তেমনই করে।

ক্যান্ডিডেটকে অবশ্যই স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হতে হবে। ছয়বারের বেশি কেউ প্রিলি’ দিতে পারবে না। অর্থাৎ যতদিন বয়স আছে, দিয়েন যাবেন, এমন হবে না। (শারিরীক প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য, অর্থাৎ কোটাধারীদের জন্য অবশ্য ছয়বারের এই লিমিট শিথিল করা হয়েছে)

এবার আরো একটা গুরুত্বপুর্ন পয়েন্ট লক্ষ করুণ।
কেউ যদি ভারতের অ্যাডমিন বা ফরেন ক্যাডারে কর্মরত থাকে, বা আগের কোনো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে যদি এই দুই ক্যাটাগরি’তে চান্স পেয়ে থাকে, তাহলে সে আর নেক্সট টাইম কোনো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে পারবে না।
বাংলাদেশে যেমন কেউ এডমিন পেলে পরের বছর ফরেন পাবার জন্য আবার পরীক্ষা দেয়, তেমন ধান্দা ইন্ডিয়াতে কেউ করতে পারবে না।
তবে ফরেন এবং অ্যাডমিন ছাড়া, অর্থাৎ পুলিশ, অডিট, রাজস্ব সহ আরো বাকি যত ক্যাটাগরি আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ কেউ অডিটে চাকরি করে, সে হয়ত নেক্সটবার আবার পরীক্ষা দিয়ে ফরেন বা অ্যাডমিনের জন্য ট্রাই করতে পারে। তাতে বাধা নেই।

ভারতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রিলি রেজিস্ট্রেশন ফি ১০০ রুপী মাত্র।


কেবলমাত্র অ্যাডমিন, ফরেন এবং পুলিশ ক্যাডারের জন্য পরীক্ষার্থীকে ভারতীয় নাগরিক হতেই হবে। অন্যগুলোর জন্য ভারতীয়, নেপালি, ভুটানি হলেও চলে।
এছাড়া তিব্বত থেকে ১৯৬২ এর আগে যারা মাইগ্রেশন করে এসেছে ভারতে, এছাড়া পাকিস্তান, উগান্ডা, ইথিওপিয়া, ভিয়েতনাম সহ আরো বেশকিছু দেশ থেকে যারা পার্মানেন্টলি ইন্ডিয়াতে থাকার জন্য মাইগ্রেশন করেছে, তারাও পরীক্ষা দিতে পারবে।

আবেদনকারীর বয়সসীমা হতে হবে ২১ থেকে ৩২ বছর।


তো এবার পরীক্ষা পদ্ধতিতে চলে আসি।
প্রথমে প্রিলি।


প্রিলি হয় ৪০০ মার্কের।


প্রিলি’র মার্ক ফাইনাল মেরিট লিস্টে কাউন্ট হয় না। অর্থাৎ আমাদের মতই। প্রিলি’তে একটা কাট অফ মার্ক নির্ধারণ করা হয়। সেটার উপরে পেলে রিটেন দিতে পারবেন। আর না হলে আউট।
রিটেন এবং ভাইবার মার্ক দিয়েই মেরিট লিস্ট তৈরি হয়।
যদি কোনো বছর ১০০০ শূন্য পদের জন্য পরীক্ষা হয়, তাহলে প্রিলি’তে সে বছর টেকানো হবে ১২ থেকে ১৩ হাজার। অর্থাৎ শূন্য পদের বারো থেকে তেরো গুন।

প্রিলি হবে দুই পেপার। প্রথম পত্র এবং দ্বিতীয় পত্র।
দুই অংশে ২০০ মার্ক করে মোট ৪০০
দুই ঘন্টা করে মোট চার ঘন্টা।

প্রথম পত্র হল General
আর দ্বিতীয় পত্র aptitude test ( দ্বিতীয় পত্রকে বলা হয় CSAT or Civil Services Aptitude Test )

দ্বিতীয় পত্র আপনার reasoning and analytical ability টেস্ট করবে। দ্বিতীয় পত্র ৩৩% মার্ক অর্থাৎ ৬৬ মার্ক পেতেই হবে। অন্যথায় প্রথমপত্রে আপনি ১০০% মার্ক পেলেও প্রিলি’তে ফেল করবেন।

প্রতিটি প্রশ্নের জন্য আবার নেগেটিভ মার্কিং আছে। প্রথম পত্রে ১২০ টা, আর দ্বিতীয় পত্রে ৮০ টা MCQ প্রশ্ন থাকে।
একটি সঠিক উত্তর দিয়ে যত মার্ক পাবেন, তিনটা ভুল উত্তর দিলে তত মার্ক হারাবেন।


প্রথম পত্রের সিলেবাসটা নিচে দিলাম।

Syllabus of Paper I - 200 marks Duration: Two hours

• Current events of national and international importance.
(অর্থাৎ সমসাময়িক বিশ্ব নিয়ে সে কতটুকু জানে। মুলত পেপার পড়ে কিনা, দুনিয়া সম্পর্কে খবর রাখে কিনা, সেটা যাচাই)

• History of India and Indian National Movement.
(নিজ দেশের ইতিহাস নিয়ে ধারণা আছে কিনা)

• Indian and World Geography - Physical, Social, Economic Geography of India and the World.
(মানচিত্র, ভুগোল, সমাজনীতি নিয়ে ব্যাসিক একটা ধারনা আছে কিনা, সেটা যাচাই)

• Indian Polity and Governance - Constitution, Political System, Panchayati Raj, Public Policy, Rights Issues, etc.
(রাজনীতি বা বুরোক্রেসি, সংবিধান নিয়ে মৌলিক ধারণা রাখে কিনা, সেটা যাচাই)


• Economic and Social Development - Sustainable Development, Poverty, Inclusion, Demographics, Social Sector initiatives, etc.
(অর্থণীতি ও সামাজিক সেক্টরগুলো নিয়ে নুন্যতম ধারণা রাখে কিনা, সেটা যাচাই)

• General issues on Environmental Ecology, Bio-diversity and Climate Change - that do not require subject specialisation General Science.
(বিজ্ঞানের মৌলিক কিছু ধারণা আছে কিনা)



আমার কাছে প্রথমপত্রের এই সিলেবাস যথেষ্ট রিজনেবল মনে হয়েছে। একজন সচিবের বা আমলার অন্তত যে যে বিষয়ে নুন্যতম ধারণা থাকা দরকার বলে তারা মনে করেছে, ঠিক সেই সেই বিষয়গুলোকে ফোকাস করা হয়েছে। আজাইরা কোনো কিছু এখানে রাখা হয়নি।

এবার আমাদের দেশের কথা চিন্তা করুণ।
আমি বুঝি না, ণত্ব বিধান বা ষত্ব বিধান, সমাস প্রত্যয়, অর্থাৎ ব্যাকরণ নিয়ে কার কত জ্ঞান, সেটা একজন আমলার ক্ষেত্রে কতটুকু দরকারি। অথচ আমাদের দেশের বিসিএস পরীক্ষার প্রিলি প্রশ্নটা দ্যাখেন। এসব জিনিস দিয়ে ভরা।
বাংলা ব্যাকরণ পড়তে পড়তে আমাদের দেশে একটা ছেলে বা মেয়ের জীবন ঝালাপালা হয়ে যায়। এগুলো ছেলেপেলে মুখস্ত করে। আবার ভুলে যায় কিছুদিন পর। প্যারিচাদ মিত্রের এক লাইন লিখাও যে ছেলে পড়ে নি, বিসিএসের জন্য সে প্যারিচাদ মিত্রের লিখা বইগুলোর টাইটেল মুখস্ত করে।
ফররুখ আহমেদের অমুক লিখনীর তমুক দুই লাইন, বা বঙ্কিমচন্দ্রের তমুক উপন্যাসের অমুক কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম মুখস্ত করে। অথচ এসব উপন্যাস কিন্তু সে পড়তেছেনা। জাস্ট প্রিলি’তে উত্তর দেবার জন্য মুখস্ত করতেছে। এটা অদ্ভুত একটা ব্যাপার।

একজন মানুষের পক্ষে ২০-৩০ বছর বয়সে কখনোই বাংলা ভাষার সকল লেখকদের বই পড়া সম্ভব না। আপনি তারাশঙ্করের লিখা পড়েছেন, আমি পড়িনি, এটা আমার দোষ না। আমার ভালো নাও লাগতে পারে। আপনার মানিক বন্দোপাধ্যায়ের লিখা ভালো লাগতেই পারে। আমার হয়ত লাগে না। আমি হয়ত পড়িও না। কারো পক্ষে তো সকল উপন্যাস পড়া সম্ভবও না। অথচ বিসিএস প্রিলির জন্য আমাকে যেমন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মসাল, গ্রামের বাড়ির ঠিকানা, কিছু উপন্যাসের নাম, চরিত্র, এসব মুখস্ত করতে হচ্ছে,
তেমন আপনাকেও হয়ত বঙ্কিমের উপন্যাসের নাম মুখস্ত করতে হচ্ছে। আপনি বাধ্য হচ্ছেন।

সিয়েরা লিওনের রাজধানী কি? এটা জানাটা আপনার নলেজ। আপনি জানলে ভালো। না জানলে ক্ষতি নেই। অনেক বিদেশী বাংলাদেশের নামও জানে না। জানে না, বাংলাদেশ কোথায়।
এটা ওই বিদেশের লিমিটেশন। ভুগোল সম্পর্কে আর দুনিয়ার ইতিহাস নিয়ে নুন্যতম ধারণা থাকলে বাংলাদেশ চেনার কথা ছিলো তার।
অমুক বিদেশী বাংলাদেশ চেনে না, এর মানে হল সে ভুগোল সম্পর্কে খুব কম ধারণা রাখে।
কিন্তু অমুক বিদেশি হুমায়ুন আহমেদ পড়ে নি, সেটার জন্য আমি কিছুতেই বলতে পারি না যে সে সাহিত্য বোঝে না। অমুক বিদেশি রবীন্দ্রনাথ পড়েনি, সেটার জন্য আমি কিছুতেই বলতে পারি না যে সে সাহিত্য বোঝে না। সে হয়ত তার দেশের কোনো সাহিত্যিকের বই পড়ে। সে হয়ত আলেকজ্যান্ডার পোপ বা পার্সি শেলীর লিখা কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়।

সুতরাং সিয়েরা লিওনের রাজধানী না জানা এক জিনিস।
আর চন্দ্রকুমার দে রচিত মহুয়া’র কেন্দ্রীয় চরিত্র কে ছিলো, সেটা না জানা একেবারে ভিন্ন জিনিস।

এখন আপনি হয়ত বলতে পারেন, এমন জিনিস পড়ে লাভ কি যা ইন্টারনেটে গুগলে লিখে সার্চ দিলে পাওয়া যায়?
ভাইরে, ইন্টারনেটে সার্চ দিলে দুনিয়ার সবই পাওয়া যায়। আপনি এমন কোনোকিছুই জানেন না যা ইন্টারনেটে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে না। আপনি বই পড়ে যা ছয় মাসে শিখেছেন, আজকাল সুন্দর এনিমেশনে সেই জিনিস এক ঘন্টায় বুঝিয়ে দেবারও ব্যবস্থা আছে। সুতরাং আবালের মত এই কথাটা বইলেন না।

আর আইন্সটাইনের নাম ভাঙিয়ে একটা ফেক গল্প আছে। সেটা হল আইন্সটাইন একবার নাকি বলেছিলেন, আমি এমন কিছু মাথায় ভেতর রাখি না যা বই ঘাটলেই পাওয়া যায়।
ইয়ে মানে, আপনার যদি মনে হয়, ফিজিক্সের কঠিনসব হিসাব কিতাব লাইন বা লাইন করার আগে আইনস্টাইন প্রতিবার বই ঘাটাঘাটি করতো, তাহলে সেই ধারণা নিয়ে বসে থাকেন। বেস্ট অফ লাক।


এবার আসি, দ্বিতীয় পত্রের সিলেবাস নিয়ে।

Syllabus for Paper II-(200 marks) Duration: Two hours

• Comprehension

• Interpersonal skills including communication skills;

• Logical reasoning and analytical ability

• Decision-making and problem solving

• General mental ability

• Basic numeracy (numbers and their relations, orders of magnitude, etc.) (Class X level),

and Data interpretation (charts, graphs, tables, data sufficiency etc. - Class X level)



উপরের এই অংশটা তো বুঝতেই পারতেছেন। কিছুটা GRE বা SAT টাইপের। IBA-এর MBA ভর্তি পরীক্ষার মতও চিন্তা করতে পারেন।
এতো সহজ না। বিশেষ করে যখন সময় লিমিটেট।
এখানে আপনাকে ৩৩% মার্ক পেয়ে পাস করতেই হবে।


তো, এই হল প্রিলি।

একটা কাজ করা যাক। কিছু স্যাম্পল প্রশ্ন দেখুন। এই নোট আমার ফেসবুকে শেয়ার করা থাকবে। সেখানে কমেন্ট বক্সে কিছু স্যাম্পল প্রশ্ন লিংক দেয়া থাকবে।

যেমন, নিচে দেখতেছেন ২০১৪ সালে প্রথম পত্র (প্রিলি) অর্থাৎ general studies সেগমেন্টের প্রথমদিকের কিছু প্রশ্ন।
অনেক বিশাল হয়ে যাবে বলে সম্পুর্ন প্রশ্নটি তুলে দিলাম না।








এবার দেখুন, দ্বিতীয় পত্র, অর্থাৎ apptitude test এর প্রশ্নের নমুনা।
সোজা বাংলা হয়, আপনি চোখ বুজে মুখস্ত করে, গাইড বই হজম করে টিকতে পারবেন না।







এবার আসি রিটেনের ব্যাপারে।


রিটেনের দুই অংশ।
একটা হল, Paper A
আরেকটা হল Paper B…

ইন্টারেস্টিং বিষয়। লক্ষ করুণ।

Paper A তে ৬০০ মার্ক। কিন্তু এই মার্ক আপনার মেরিট লিস্টে কাউন্ট হবে না। এখানে আপনাকে জাস্ট একটা নুন্যতম মার্ক নিশ্চিত করে, অর্থাৎ কাট অফ মার্ক তুলতে হবে।
তো কি আছে, পেপার লিস্টে?

বাংলাদেশে যেমন বাংলায় ২০০ নাম্বার এবং ইংরেজি’তে ২০০ নাম্বারের রিটেন হয়, অর্থাৎ মোট ১১০০ নাম্বারের রিটেন পরীক্ষাতে ৪০০ নাম্বার থাকে বাংলা এবং ইংরেজি’তে,
ইন্ডিয়াতে সেখানে ৬০০ নাম্বার। কিন্তু টুইস্ট হইলো, এই ৬০০ নাম্বার তারা কাউন্ট করে না। অর্থাৎ মেরিট লিস্টে এই ৬০০ নাম্বারের কোনো ভ্যালু নাই। .

Paper A তে দুইটা সেগমেন্ট।
৩০০ নাম্বারের ইংরেজি পরীক্ষা।
আর ৩০০ নাম্বারের অন্য একটি ভাষা ভিক্তিক পরীক্ষা যা ইন্ডিয়াতে প্রচলিত। অর্থাৎ সেটা হিন্দি হতে পারে, গুজরাটি, বাংলা, তেলেগু, মারাঠা সহ নানান ভাষা থেকে যেকোনো একটা। আপনার মাতৃভাষা যদি তামিল হয়, তাহলে তামিল নেবেন। ৩০০ মার্কের পরীক্ষা।

Paper A তে এই ৬০০ মার্ক। আবারও বলছি, এখানে একটা নুন্যতম মার্ক পেলেই চলবে। এখানকার মার্ক মেরিট লিস্টে যোগ হবে না।
যেখানে বাংলাদেশে হয় উল্টা। বাংলাদেশে ১১০০ মার্কের ৪০০ মার্কই থাকে বাংলা আর ইংরেজিতে।

তাহলে এবার আসা যাক, Paper B তে।
এটাই মুলত আসল। এটাই মেরিট লিস্ট তৈরি করবে।
তো, কি আছে এখানে?

আসুন, নিচে দেখা যাক।

( Papers to be counted for merit)

Paper-I Essay.................................. 250 Marks


Paper-II General Studies-I................. 250 Marks
(Indian Heritage and Culture, History and Geography of the World and Society)


Paper-III General Studies -II.............. 250 Marks
(Governance, Constitution, Polity, Social Justice and International relations)

Paper-IV General Studies -III ............ 250 Marks
(Technology, Economic Development, Bio-diversity, Environment, Security and Disaster Management)

Paper-V General Studies -IV............... 250 Marks
(Ethics, Integrity and Aptitude)

Paper-VI Optional Subject - Paper 1...... 250 Marks
Paper-VII Optional Subject - Paper 2...... 250 Marks


এই সাত পেপারে মোট ১৭৫০ নাম্বার।

খেয়াল করুণ, paper vi এবং paper vii এ মোট ৫০০ নাম্বারের অপশন্যাল সাবজেক্ট। তো এখানে আপনি নিচের বিষয়গুলো নিতে পারেন।
(i) Agriculture
(ii) Animal Husbandry and Veterinary
Science
(iii) Anthropology
(iv) Botany
(v) Chemistry
(vi) Civil Engineering
(vii) Commerce and Accountancy
(viii) Economics
(ix) Electrical Engineering
(x) Geography
(xi) Geology
(xii) History
(xiii) Law
(xiv) Management
(xv) Mathematics
(xvi) Mechanical Engineering
(xvii) Medical Science
(xviii) Philosophy
(xix) Physics
(xx) Political Science and International
Relations
(xxi) Psychology
(xxii) Public Administration
(xxiii) Sociology
(xxiv) Statistics
(xxv) Zoology
(xxvi) Literature of any one of the follow-ing languages:
Assamese, Bengali, Bodo, Dogri,
Gujarati, Hindi, Kannada, Kashmiri,
Konkani, Maithili, Malayalam, Manipuri,
Marathi, Nepali, Oriya, Punjabi, Sanskrit,
Santhali, Sindhi, Tamil, Telugu, Urdu and
English.


মজার ব্যাপারটা এখানেই। যেমন আমি একজন মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আমি যদি পরীক্ষা দিতাম, তাহলে অপশন্যাল সাবজেক্ট হিসেবে মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফিজিক্স বেছে নিতাম।
অর্থাৎ আমার ৫০০ নাম্বার থাকতো মেক্যানিক্যাল এবং ফিজিক্সে।

ওদিকে ধরূন আপনি একজন ইতিহাসবিদ, একইসাথে সমসাময়িক বিশ্ব নিয়েও আপনার বিস্তর পড়াশোনা।
তাহলে আপনি হয়ত বেছে নেবেন history এবং Political Science and International
Relations
দুইটা সাবজেক্টই কিন্তু লিস্টে আছে। অর্থাৎ আপনার ৫০০ মার্ক আপনি ঠিক আপনার মতই পেলেন। আমি যেমন পেয়েছি আমার মনের মতই।

আবার ধরুণ আপনি ভাষাবিদ। তাহলে আপনি xxvi অপশনে থাকা বাংলা এবং xxiii অপশনে থাকে sociology নিতে পারেন। অর্থাৎ আপনার মনের মত বিষয় আপনি উপরে পাবেন।
পরীক্ষা দিবেন আপনার পছন্দের বিষয়ে।

আবার ধরুণ, আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু আমি অর্থনীতি আর আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে ভালো জ্ঞান রাখি। তো আমি নিলাম ধরেন Economics এবং International relation
অর্থাৎ আমার যা ভালো লাগে, আমি সেটাই নিতে পারবো।


সমগ্র সিস্টেমটা বেশ ভালো লাগলো।


তো ৬০০ মার্কের Paper A তে পাস করবেন। মার্ক যোগ হবে না।
আর ১৭৫০ মার্কের paper B তে মনের মত লিখুন। মার্ক তুলুন। কারণ এই মার্কই মেরিট লিস্ট তৈরি করবে। Paper B তে যে যে বিষয়ে পরীক্ষা দিবেন, একজন আমলা হবার জন্য সেসব বিষয়ে ধারণা থাকার দরকার আছে।

সাথে থাকবে ভাইবা।
ভাইবা’তে ২৭৫ মার্ক।

অর্থাৎ মোট ২০৭৫ মার্কের পরীক্ষা।

এই হল ভারতের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা।

CSE পরীক্ষা ছাড়াও UPSC এর আন্ডারে
Railway Apprentices
Defence Services
CISF AC (EXE)
Indian Economic Service / Indian Statistical Service
Geo-Scientist & Geologist
ENGINEERING SERVICES
Medical Services
CAPF (AC)
Indian Forest Service
সহ আরো বেশ কিছু ক্যাটাগরির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।


Engineering Service পরীক্ষায় সিভিল, মেক্যানিক্যাল, ইলেক্ট্রিক্যাল, E&T ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয়া হয়।
এখানে শুরুতেই একটা ২০০ নাম্বারের প্রিলি হয়। এই প্রশ্ন সকল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য একই।
general ability test যাকে বলে।
এখান থেকে চাহিদা মত আলাদা আলাদা ক্যাটাগরির ইঞ্জিনিয়ারদের টেকানো হয়।
এরপর হয় আলাদা আলাদা সাবজেক্ট বাই সাবজেক্ট MCQ
দুইটা আলাদা আলাদা পেপারে মোট ৪০০ মার্ক।
অর্থাৎ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কেবল সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং রিলেটেড MCQ প্রশ্ন পাবে।
তেমনই ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পাবে তার লাইনের প্রশ্ন।

এরপর তাদের আবার নিজ নিজ বিষয়ে ২০০ মার্কের দুইটা conventional রিটেন এক্সাম দিতে হবে।
তিন ঘন্টা করে মোট ছয় ঘন্টা ইঞ্জিনিয়ারিং রিটেন উত্তর দিতে হবে। এখানে প্রশ্ন আসে একেবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের টার্ম পরীক্ষার মত।


Combined Medical Services অর্থাৎ ডাক্তারদের জন্য দুইটা পরীক্ষা।
দুইটাই MCQ
120 টা করে মোট ২৪০ টা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

সিস্টেমটা অনেক বেশি ফ্লেক্সিবল।
বেশ ভালোমতই আপনাকে যাচাই করা হবে।

ভারতের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে না।
এটা অনেক গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার।
সেইসাথে কোটা আছে, তবে সেটা একটা রিজনেবল পরিমাণে।


শেষ করবো, কোটা রিলেটেড কিছু কথা বলে।

কিছুদিন আগে আমার আম্মুর সাথে তার এক প্রতিবেশির কথা হচ্ছিলো। তো তিনি নাকি আমার আম্মুকে বলেছেন, এবার বুয়েটে আন্ডারগ্রাডুয়েট ভর্তি পরীক্ষাতে সাড়ে তিন হাজার পর্যন্ত ডেকেছে।

আমার আম্মু এই কথা আমাকে বললে, আমি বললাম, “পাগল হয়েছো নাকি?”

আম্মু বললো, “ওই ভদ্রমহিলা তো নিশ্চিতভাবেই বললো। এবার নাকি বুয়েটে ওয়েটিং লিস্ট থেকে সাড়ে তিন হাজার পর্যন্ত ডেকেছে”

What? !!!!

তবে কিছুক্ষণ পর ব্যাপারটা ধরতে পারলাম। ওই ভদ্রমহিলা টেকনিক্যালি রাইট। ঠিকই বলেছেন।

বুয়েটে Engineering এবং URP মিলে ৯৭৫ টা সিট আছে। সেহেতু মেরিট লিস্টে ১২০০ ক্রস করার কথা না। এবং হয়েছেও সেটাই। যে ম্নেরিট লিস্টে ১১১৮ হয়েছে, সে কিন্তু ভর্তি হতে পারেনি।
যদিও কোটার কারণে সত্যি সত্যিই ৩৪৯৩ তম ব্যক্তিও বুয়েটে চান্স পেয়েছে। অর্থাৎ ওই ভদ্র মহিলা ঠিকই বলেছিলেন।
বুয়েটে কোটা আছে। কিন্ত অল্প। রিজনেবল। আমি এটার পক্ষে। এই কোটা দেশের আদিবাসী সমাজের জন্য। যারা নানানভাবে বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছে। এবং পিছিয়ে পড়তেছে।
বুয়েটে বর্তমানে Engineering এবং URP তে ৯৭৫ টি আসনের ভেতর তিনটি,
এবং স্থাপত্য বিভাগে ৫৫ টি সিটের ভেতর ১ টি,
অর্থাৎ মোট ৪ টি আসন “ক্ষুদ্র জাতিভুক্ত” জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত। সংখ্যাটি রিজনেবল।
বুয়েটের prospectus ‘ক্ষুদ্র জাতিভুক্ত” শব্দ ব্যবহার করলেও আমি “আদিবাসী” শব্দটি ব্যবহারের পক্ষে।
যাই হোক, এটা ভিন্ন ব্যাপার।
তো বুয়েটের ছেলেমেয়েরা বুয়েটের ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে গর্ব করে। নিট এন্ড ক্লিন ভর্তি পরীক্ষা হয়। আমি বুয়েটিয়ান। একারণে বুয়েটের কথা বলতেছি। অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেমও একই। এবং সুন্দর।

আচ্ছা, বিসিএসের মত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় আসুন কোটা সিস্টেমের দাবি করি। কি করবেন?
ভেবে বলুন তো?

মনে হয় না করবেন। উল্টা চিল্লাপাল্লা শুরু করবেন। বলবেন, আমার বিশ্ববিদ্যালয় রসাতলে যাবে।

তো ভাই, আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আপনার এতো ভালোবাসা, আর আপনার দেশ চালাচ্ছে যে আমলাতন্ত্র, সেটা নিয়ে আপনার মাথাব্যাথা নেই?

জানি। এসব নিয়ে কথা কইতে ভয় পান। ভয় পাবার নানান কারণও আছে।
ভয় মানুষের অনেক বড় শত্রু।

কোটা থাকুক, তবে সেটা অবশ্যই রিজনেবল সংখ্যক।


Anyway…. আশা করি একটা ব্রিফ ধারণা দিতে পারলাম ভারতের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ব্যাপারে।
সময় পেলে হয়ত ভারতের প্রশাসন নিয়েও লিখবো।
ধন্যবাদ, আপাতত।





Read More »