Saturday, January 23, 2021

পৃথিবীর কিছু আলোচিত ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি

 



  GRU (Main Intelligence Directorate) 

 

এটা রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি। এটা সরাসরি মিলিটারি দ্বারা পরিচালিত হয়। (under the Jurisdiction of Russian President ) 

রাশিয়ার বিখ্যাত KGB এর foreign operations directorate. (SVR) এর চেয়ে ছয়গুন বেশি এজেন্ট GRU এর আছে, যারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে গুপ্তচর তথা গোয়েন্দাগিরি করে।

এর দৃষ্টিনন্দন সদর দফতর Khoroshevskoye shosse 76, Khodinka, Moscow তে অবস্থিত।



 

আমেরিকাতে এর সমতুল্য হতে পারে (MI + NSA ) ....

 

GRU এর কাজ মুলত বিভিন্ন দেশ, (বিশেষ করে আমেরিকা আর Nato এর সামরিক কর্মকান্ডের উপর গোয়েন্দাগিরি করা ) এছাড়া কেজিবিকে মিলিটারে সাপোর্ট দিয়ে থাকে প্রয়োজনে।

 

 

Committee for State Security ( or better known, as KGB )

 

এহেন কোনো মানুষ নাই, যার ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি নিয়ে হালকা পাতলা ধারণা আছে কিন্তু সে কেজিবি'র নাম জানে না। 

It was the most famous intelligence agency ever known...  it's a benchmark for all the intelligence agency out there...

 

একসময় লেনিনের চেকা, সেই চেকা থেকে স্তালিনের ডান হাত হিসেবে পরিচিত ল্যাভরানতি বেরিয়ার হাতে গড়া NKVD, এবং স্তালিন মারা যাবার পর সেই NKVD হয়ে যায় KGB...

একসময় এই কেজিবির দায়িত্বে আসেন Yuri Andropov ...

আর কি লাগে !!

সোভিয়েত আমলে KGB প্রধানরা একরকম ছিলেন পর্দার আড়ালের রিং মাস্টার। রাজণীতি, অর্থনীতি, সামরিক, টেকনোলজি, ব্যবসা, এহেন কিছু নাই যা নিয়ে কেজিবি কাজ করতো না। 

CIA spy জাদুঘরটি বলতে পারেন একরকম কেজিবির জন্য  Tribute ... 

চিন্তা করে দেখুন, CIA ছিলো স্নায়ু যুদ্ধের কেজিবির প্রতিদ্বন্দ্বী। অথচ সিআইএ স্পাই মিউজিয়ামের ভেতরে যত নামফলক, লিখা আছে, সবগুলোকে উপরে ইংলিশ ও রুশভাষা একসাথে লিখা হয়েছে।

সিআইএ স্পাই মিউজিয়ামে একটা বাচ্চা ঢুকলে সে কেজিবির ফ্যান হয়ে বেরিয়ে আসবে, এমন এক অবস্থা। 

 

খোদ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও, শত্রুও হয়েও, হারানো সেই শত্রুর প্রতি সম্মান জানাতে CIA ভোলে নি।

স্পাই মিউজিয়ামে রক্ষিত আছে এযাবত কালে যত স্পাই গ্যাজেট সিআইএ উদ্ধার করেছে কেজিবি এজেন্টদের ধরে ধরে। ( বলতে পারেন, এটা সিআইএরও সাফল্যের নিদর্শন ) :P

যাই হোক,

কেজিবি এখন ইতিহাস। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এটার দুইটি ভাগ আলাদা করা হয়।

একটা হল FSB ....   যেটা মুলত দেশের ভেতরের ব্যাপারস্যাপার নিয়ে কাজ করে। এটা মার্কিনীদের FBI এর মত। এর হেডকোয়ার্টার মস্কোতে।



 

আরেকটা হল SVR..... যেটা একেবারে classic spy agency .... এটার প্রধান অফিস মস্কো থেকে কিছুটা দুরে। আপনি স্পাই থ্রিলার বলতে যা যা বোঝেন, সেটাই প্রতিদিন করে SVR

 


 

রাশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ছিলেন একসময়কার কেজিবি কর্নেল। 

সামরিক বেসামরিক সব ধরনের লোক এতে কাজ করে।

সুটেট বুটেট মানুষ থেকে শুরু করে রাস্তার ফকির রুপী গুপ্তচর... সবই আছে।

এর ১৫ হাজার সদস্যের একটা বড় অংশ খোদ  রাশিয়ার নাগরিকই নয় :P 

 

Central Intelligence Agency ( CIA )

 

বলতেই হবে, এটা ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির ভেতরে সবার উপরেই থাকবে। 

বিশ্বজুড়ে মার্কিন আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে CIA কাজ করে যাচ্ছে, যাবে।

সিআইএর একটা জিনিস আছে যা অন্য সকল এজেন্সির সাথে এর পার্থক্য গড়ে দেয়। আর সেটা হল বিপুল পরিমান টাকা।

একটা কথা আছে,

everything is for sale, everyone can be bought, all you have to say is the right price

আর সিআইএ এই জিনিসটাকে খুব ভালোমত নিজেদের পক্ষে নিতে পারে টাকার জোরে ! টাকা দিয়ে হয় না এমনকাজ খুব কমই আছে বোধ হয় !

 

তো সিআইএ ছিলো। আছে থাকবে। ভবিষ্যতে আরো আগ্রাসী হবে। সেইসাথে যার বন্ধু হিসেবে Mossad আর shin bet আছে, তাঁর কাজ যে অনেক সহজ হয়ে যায় অনেক ক্ষেত্রে, সেটাও বলাবাহুল্য।

ল্যাংলি, ভার্জেনিয়াতে CIA হেড কোয়ার্টার অবস্থিত।



 

 

NSA (National security agency )

 

তথ্য প্রযুক্তির এই দুনিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও হাইটেক ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি।

এরা মুলত দুনিয়ার সেরা ম্যাথামেটিসিয়ান, ক্রিপটোগ্রাফার, কম্পিউটার প্রোগ্রামার, বিজ্ঞানী, আইটি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গড়া এক সংস্থা। 

সিগন্যাল, তথ্য, ডাটা মনিটরিং, এনালাইসিস, বাগিং,  এসবই এদের প্রধানকাজ।

আর একাজে তাঁরা ব্যবহার করে এমন এমন সব সুপার কম্পিউটার যার বিবরণ শুনলে কেবল অবাক হয়ে থাকতে হয়। এও কি সম্ভব !! এসবও কি আছে !!

 


 

এইরকম এজেন্সি আরো আছে ব্রিটেনের GCHQ আর রাশিয়ার FSO.... চীনের MSS এর একটি ইউনিট এই কাজ করে থাকে।

 

নিচের ছবিতে দেখছেন, ব্রিটেনের GCHQ এর হেড অফিস।



 

 

MI 5 and MI 6

 

MI-5 মুলত রাশিয়ার FSB বা আমেরিকার FBI এর মত। অর্থাৎ দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারস্যাপার নিয়ে কাজ করে।

আর MI-6 হল CIA বা SVR বা Mossad এর মত...

 

মুভিতে জেমস বন্ড MI-6 এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।

নিচের ছবিতে দেখছেন, হেডঅফিস।



 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অভুতপূর্ব সাফল্য পেয়েছিলো SOE (MI 6) .... তথ্য সংগ্রহ, সার্ভিলেন্স এন্ড স্যাবোট্যাজে সুনাম আছে MI-6 এর...

 

Inter-Services Intelligence ( ISI)

 

কুটনা পাকিস্তানের সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত বিতর্কিত গোয়েন্দাসংস্থা। এখন আমরা ISI বলতে যেটা বুঝি, সেটা মুলত জিয়াউল হক ক্ষমতায় আসার পর নতুন রূপ পাওয়া আইএসআই। জিয়াউল হক জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ক্ষমতাচ্যুত করে পাকিস্তানের ক্ষমতায় আসেন। তাঁর শাসনামত ছিলো extreme rule এর। জিয়াউল হক Lieutenant-General Hamid Gul কে দায়িত্ব দেন ISI এর। এর হাতেই নতুন এক আগ্রাসী রূপ পায় ISI....

হয়ে ওঠে ভয়ংকর এক গোয়েন্দা সংস্থা। পাকিস্তানের ভেতরে, ইরান, আফগানিস্তান, ভারত, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, হেন কোনো দেশ নাই, যে দেশে নাসকতামুলক কর্মকান্ড চালানোর অভিযোগ ISI কে নিতে হয় নি।

তবে Hamid Gul কে বলা হত "the father of taliban" ...

সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য আফগানস্তানকে ভিয়েতনাম বানিয়ে ফেলার পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলো ISI.... কেবল সিআইএ-এর অস্ত্র তালেবান বা আলকায়দার হাতে তুলে দেয়া নয়, সরাসরি আফগানিস্তানের ভেতরে সোভিয়েত বিরোধী অভিযানে ভুমিকা রাখে ISI...

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ু যুদ্ধ জয়ের পেছনে এই সংস্থার অবদান কম না।

 

কেবল তাই নয়, লাদেনকে যে দীর্ঘদিন লুকিয়ে রেখেছিলো ISI... এটা মার্কিনরা আগে না হলেও এখন জানে।

সিআইএ বা NSA এর মত সংস্থা যেখানে লাদেনকে ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে তাঁদের সমস্ত gadget and gear নিয়ে, সেখানে প্রায় ১০ টি বছর বিন লাদেন'কে তাঁরা লুকিয়ে রেখে চোর পুলিশ খেলেছে CIA এর সাথে। যাকে বলে double cross...

নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছে তাঁরা CIA কে...

 

CIA এর সাবেক প্রধান মাইক হেইডেন বলেছিলেন, তিনি ISI কে বিশ্বাস করতেন না। আবার অবিশ্বাস করার উপাও ছিলো না।

কারণ ২০০১ সালের পর যত বড় বড় আলকায়দা নেতা ধরা পড়েছে, সেটা খালিদ শেখ মোহাম্মদ থেকে ৯/১১ এর আগে ধরা খাওয়া রামজি বিন ইউসুফ, অধিকাংশকেই ধরেছে কিন্তু ISI... ধরে আমেরিকার কাছে দিয়ে দিয়েছে।

যখনই CIA বা মার্কিন প্রশাসনের সন্দেহ হইতো, তখনই আল কায়দা বা তালেবানের কোনো একজনকে ধরিয়ে দিয়ে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতো ISI...

 

তবে বিপত্তে বাধে ২০০৭ সালে...

ISI এর এক মহিলা এজেন্ট ( ball buster ) ... পল্টিমারে CIA তে...

মাইক হেইডেনের মতে, ISI এর double crossing কে মার্কিন প্রশাসন আর DOD কে বিশ্বাস করাতে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলো।

 

লাদেন হত্যার পর CIA আর ISI এর দুরত্ব আর অবিশ্বাস আরো বেড়েছে। পাকিস্তান নামক volatile দেশটি টিকে আছে মুলত তাঁদের এই গোয়েন্দাসংস্থার উপর ভর করে। তবে পাকিস্তানের অনেক ঝামেলার পেছনেও আছে এই ISI...

এটা চলে একরকম এর নিজেস্ব নিয়মে। খোদ সরকারের  ভালো নিয়ন্ত্রন এর উপর আছে কিনা, সেটা নিয়েই সন্দেহ আছে।

আবার এর ভেতরেও আছে নানান ফ্র্যাকশন।

সেইসাথে পাকিস্তানের ভেতরে রাজণীতিতে এটা নাক গলায়। পাকিস্তানের রাজণীতি কলুসিত হবার পেছনে হাজারটা কারনের একটি হল এই আইএসআই।

 

 

 

The Research and Analysis Wing (R&AW or RAW)

 

ভারতীয় গোয়েন্দাসংস্থা। 

এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ISI....

এটা মুলত মার্কিন CIA, বা রাশিয়ার SVR এর মত...

আর ভারতের অভ্যন্তরীণ ভীষণ ডিল করার জন্য এখন আছে NIA...

 

1968 সালে 'র' গঠিত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিপুল পরিমান মানুষ রিফিউজি হয়ে ভারতে যায়। তাঁদের ট্রেনিং অস্ত্র আর লজিস্টিক দিয়ে সাহায্য করাটা ছিলো 'র' এর কাজ।

র এর প্রথম প্রধান ছিল জেনারেল কাউ।

জেনারেল কাও নিজে তরকারি বিক্রেতা সেজে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে এসেছিলেন সম্ভাব্য মিলিটারি কু- সম্পর্কে সতর্ক করতে।

জেনারেল কাউ এর আত্মজীবনীতে তিনি সবই লিখে গেছেন।

শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু হত্যার চক্রান্তের কথা RAW কিভাবে জেনে গিয়েছিলো, কে মুল পরিকল্পনাকারি ছিলো, কার বাসায় মুল পরিকল্পনা হয়েছিলো, সেটারও বর্ণনা আছে।

হুমায়ুন আহমেদের দেয়াল উপন্যাসে কাউ এর আত্মজীবনী থেকে সেই অংশ লিখে দেয়া হয়েছে হুবহু, কোটেশন দিয়ে। পড়ে দেখতে পারেন।

 

যদিও বঙ্গবন্ধু কাউ এর কথা বিশ্বাস করেন নি। উল্টা তামাশা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর নিজ দেশের মানুষকে এতোটাই বিশ্বাস করতেন। এটাই ছিলো তাঁর বড় ভুল। তিনি বিশ্বাসই করতেন না যে তাঁর নিজ দেশের মানুষ তাঁর বুকে গুলি চালাবে। 

 

RAW এর যেমন অনেক সাফল্য আছে। আবার  ব্যর্থতাও আছে।

যেমন বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরিকল্পনা চলতেছে, এটা RAW জানতে পারলেও, নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধীকে যে হত্যা করার পরিকল্পনা চলতেছে ভারতের ভেতরে, সেটা সম্পর্কেই RAW অবগত ছিলো না। তাঁদের বন্ধু সংস্থা রাশিয়ার KGB ঠিকই ১৯৭৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধীকে সম্ভাব্য হত্যা চেষ্টার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলো।

 

যাই হোক, ভারতের সেভেন সিস্টারে, তামিলনাড়ু আর শ্রীলঙ্কাতে ভারতের স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ড বন্ধ করতে 'র" গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।

যদিও ইন্দ্রিরা গান্ধীর মৃত্যু ঠিকই আততায়ীর গুলিতে হয়। এবং খুনি ছিলো তাঁর নিরাপত্তারক্ষী।

 

আবার ইন্দ্রিরা গান্ধির ছেলে রাজিব গান্ধীকে হত্যা করে তামিল টাইগাররা। "র" এটা ঘটনা ঘটার আগে জানতে পারলেও ব্যর্থ হয় আটকাতে।

 

মুলত ভারতের পররাষ্ট্রণীতি তেমন আগ্রাসী নয়। আর 'র" কোনো এগ্রেসিভ গোয়েন্দাসংস্থা না। যেমনটা ISI বা মোসাদ বা ইরানের সাভাক ...

আত্মরক্ষা ও ভারতীয় স্বার্থে কাজ করা যার ধর্ম। এটাই RAW এর Motto...

 

 

 

VAJA

 

1979 সালে ইসলামিক রেভোলিউশনের পর সাভাকের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় vavak... সেটা পরিবর্তন হয়ে এখন VAJA...

তবে যে নামেই ডাকুন, ইরানের গোয়েন্দাসংস্থাকে পশ্চিমারা এখনো সাভাক বলেই ডাকে।

 

যাই হোক, এর শত্রুর শেষ নেই। বিশেষ করে যখন আমেরিকা, ইসরাইল, সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের চক্ষুশূল ইরান। 

 

কিছুদিন আগে মোসাদ কিছু ইরানি নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানীকে মেরে ফেলে। বিজ্ঞানীরা গাড়িতে করে কাজ শেষ বাড়ি ফিরছিলো। মোটর সাইকেল আরোহি কিছু মোসাদ অপারেটিভ তাঁদের পিছু নেয়। একসময় একধরনের বোম চলন্ত গাড়ির পেছনে লাগিয়ে দেয়। ম্যাগনেটের মত এগুলো গাড়ির সাথে লেগে যায়। এরপর কিছুদূর যাবার পর বিস্ফোরণ।

তো এই ঘটনার বদলা নিতেও সাভাক দেরি করে নি।

ল্যাটিন আমেরিকাতে কিছু মোসাদ গুপ্তচরকে তাঁরা ঠিকই মেরে আসে।

এভাবেই মাইর দিচ্ছে। মাইর খাচ্ছে, এই করেই চলতেছে VAJA...

 

 

 

Mossad and Shin bet

 

they are brutal... as simple as that... মোসাদ'কে বলা হয় "the most effective killing machine out there"

 

তখন চলতেছে স্নায়ু যুদ্ধ। সোভিয়েত পলিতব্যুরোতে ভাষণ দিচ্ছে নিকিতা ক্রুসচেভ। স্তালিন মরার পর তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। স্তালিন বেঁচে থাকতে তাঁর নামে একটা নেগেটিভ কথা বলার সাহস সোভিয়েত ইউনিয়নে কেউ পেতো না। আর বললে  অবস্থা হত ভয়াবহ।

কিন্তু ক্রুসচেভ সেদিন ভাষণে একেএকে তুলে ধরে স্তালিনের নানান অন্যায়, অত্যাচারের লোমহর্ষক কাহিনী। যার অনেকগুলো আবার খোদ ক্রুসচেভ স্তালিনের আদেশে করতে বাধ্য হয়েছিলো।

কোনো সাংবাদিক ছিলো না পলিতব্যুরোতে।  শুধুমাত্র কমিউনিস্ট পার্টির অনুষ্ঠানে দেয়া সেই ভাষণে। 

কিন্তু এই ভাষণের audio কপি somehow হাতে পেয়ে যায় মোসাদ।

তুলে দেয় সিআইএর হাতে।

সিআইএ রীতিমত আমাবস্যার চাঁদ পেয়েছিলো সেদিন।

এটা রেডিও ফ্রি ইউরোপের মাধ্যমে তাঁরা প্রচার করে সমগ্র ইউরোপে। এটা ছিলো CIA এর জন্য অন্যতম প্রোপাগান্ডার লড়াইয়ের হাতিয়ার।

 

গায়ের জোরে ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, কৌশলে ইসরাইলি দখলদারিত্ব বজায় রাখা, তিনটা আরব ইসরাইল যুদ্ধে জয়ে অভুতপূর্ব অবদান রাখা, এসব মোসাদের অন্যতম success story...

১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধে ইসরাইল যে চোখের নিমেষেই অধিক শক্তিশালী সম্মিলিত আরব দেশগুলোকে হারিয়ে দিয়েছিলো, এর পেছনে ছিলো মোসাদ...

 

মোসাদের আরেকটি বিশেষ দিক হল স্টানবাজি।

তাঁরা প্রচার করতে, প্রচারিত হতে ভালোবাসে।

তাঁরা নিজেদের website বানিয়েছে অসাধারণ ভাবে। এবং তাতে একরকম কম্পিটিশনের ব্যবস্থা করে রেখেছে। online recruitment পর্যন্ত হয়। এবং তাঁরা উৎসাহিত করে এটা।

বিশ্বের যে প্রান্তেই ইহুদি আছে, সেখানেই মোসাদ আছে।

আর ইসরাইলের স্বার্থ বিরোধী কেউ কিছু করলে মোসাদ তাঁকে খুঁজে বের করবে। এবং খুন করে আসবে।

তা সে দুনিয়ার যে প্রান্তেই থাকুক না কেন।

এক জার্মান বিজ্ঞানী একবার সাদ্দামকে শক্তিশালী স্কাড মিসাইলের উন্নয়নে সহযোগিতা করছিলো। ফলাফল, মোসাদ তাঁকে ইউরোপে গিয়ে মেরে আসে।

আবার কিছুদিন আগে এক অস্ত্র ব্যবসায়ী, যে কিনা হামাসকে অস্ত্র দিচ্ছিলো, তাঁকে মোসাদ দুবাইএর বিখ্যাত সাত তারকা হোটেল ব্রুজ আল খলিফাতে গিয়ে মেরে আসে।

মোসাদ ভালো করেই জানে, এটা ক্যামেরাতে ধরা পড়বে।

কিন্তু তাঁরা এসেছিলো সেখানেই। উদ্দেশ্য, একে তো মেরে যাওয়া। সেইসাথে মোসাদ চায় যে এটা দুনিয়াতে প্রচার হোক। fear factor তৈরি হোক।

 

মিউনিক ম্যাসাকারের পর এরসাথে যুক্ত ব্যক্তিদের মোসাদ দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে খুঁজে বের করে মারে। আবার  জীবিত Nazi criminal দের খুঁজে খুঁজে বের করে।

false flag অপারেশন, স্যাবোটাজ, খুন খারাপী রীতিমত নিত্যনতুন আর ইনোভেটিভ সব উপায়ে করে যাচ্ছে মোসাদ।

 

মোসাদের অনেক অপারেশন নিয়ে চলচিত্র বানানো হয়েছে। বই লিখা হয়েছে।

 দুনিয়ার অনেক দেশের গোয়েন্দাসংস্থার যেখানে website ই নেই :P সেখানে মোসাদেই website দেখার মত।

মোসাদের website এ লিখা থাকে,

History is not written, history is created.  এবং মোসাদ আর shin bet এটা করে যাচ্ছে অনরবরত।

 

 

....................................

 

শেষ কথা বললে, গোয়েন্দা সংস্থার কাজ অন্তত মুভি সিরিয়ালে যতটা thrilling মনে হয়, বাস্তবে ততটা না। অন্তত MI6 বা CIA এর মত সাবেক গোয়েন্দা সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত লোকেরা এমনই বলে মিডিয়াতে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা একজনের পেছনে লেগে সার্ভিলেন্স চালানো, ঘণ্টার পর ঘণ্টা desk work করতে হয়।

গোয়েন্দা সংস্থা মানেই যে অস্ত্র নিয়ে শত্রু পেছনে ছোটা জেমস বন্ড, তেমনটি মোটই না।

এবং দুনিয়ার সেরাসেরা সব স্পাই দেখতেও মুভি বা সিরিয়ালের সেই মাসকুলার গুড লুকিং স্পাই এর মত না :P ...

একটা মোটা বেটে লোক, তাঁকে স্পাই হিসেবে সন্দেহ করার সম্ভাবনা কিন্তু কম। নিজেই একটু চিন্তা করে দেখেন ( lolz ) :P

স্পাই হিসেবে এমন লোকরাই সবচেয়ে ভালো ফলাফল দেয়। রেকর্ড তেমনই বলে।

গায়ের জোরের চেয়ে মাথার বুদ্ধি এতে বেশি লাগে।

সব গোয়েন্দা সংস্থাতে স্পাই থাকে, তবে গোয়েন্দা সংস্থা মানেই কেবল স্পাই না।

 

টাকা অনেক বড় ফ্যাক্টর।

অনুন্নত গরিব দেশে বা অভ্যন্তরীণ ঝামেলায় জর্জরিত দেশে ভালো স্পাই এজেন্সি তৈরি হয় না সাধারণত মুলত এই কারনেই। হলেও দেখা যায়, সেটা যতটা না স্পাই বা ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, তাঁর চেয়েও বেশি পুলিশ।

অর্থাৎ নিজ দেশে পুলিশি কর্মকান্ড চালাতেই তাঁদের সব শ্রম ও সময় ব্যয় হয়।

যেমন মিশরের গোয়েন্দাসংস্থা আদেও নামে একটা গোয়েন্দাসংস্থা হলেও  সেটা একটা পুলিশ ছাড়া আর কিছু না। দেশের স্বার্থ নয়, বরং জেনারেল সিসি'কে ক্ষমতায় রাখতে পারবে কি পারবে না, এটা নিয়েই তাঁর সব শ্রম ব্যয় হয়। আগে যেমন মোবাররকের জন্য করতো।

 

যাই হোক, it's a dirty business...

সাপ হয়ে দংশন করে, ওঝা হয়ে চিকিৎসা দিতে হয়। লাঠিকে সাপ, আর সাপকে লাঠি বানাতে হয়।

তবে সবচেয়ে ভালো স্পাই সেইই হয়, যে নিজেকে খুব ভালো স্পাই বা গোয়েন্দা হিসেবে মনে করে না।  আর সবচেয়ে সেরা স্পাই দেখতে জেমস বন্ডের মতও হয় না।

যাকে স্পাই এর মত দেখতে লাগে, সে কিভাবে স্পাই হবে বলুন !! ( lolz )

 

যাই হোক, পড়ার জন্য ধন্যবাদ।


** প্রথম এই আর্টিকেলটি লিখেছিলাম ফেসবুক ওয়ালে। ২০১৫ সালে। 

Read More »

কিছু দৃষ্টান্ত, কিছু অনুপ্রেরণা, কিছু ব্যতিক্রম

 Honda কোম্পানির নাম শোনে নি, এমন মানুষ খুব কমই আছে।  সেই Honda কোম্পানির মালিক Soichiro Honda

মজার ব্যাপার হল, প্রথম জীবনে তিনি গিয়েছিলেন সার্টিফিকেট হাতে Toyota কোম্পানিতে চাকরির আশায়। কিন্তু তাঁকে চাকরি লাভে অযোগ্য বলে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

রাগের মাথায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তিনি নিজেই একটা কোম্পানি বানাবেন।

তার বানানো Honda আজ দুনিয়ার অন্যতম নামকরা ব্রান্ড...

 

সাহিত্যিক, লেখক Stephen king এর নাম তো শোনার কথা।

Imdb তে নাম্বার ওয়ান মুভি "The Shawshank Redemption" কিন্তু তার লিখা।

এছাড়া সিরিয়াল Under the dome, মাইকেল জ্যাকসনের সাথে বানানো The Ghost মিউজিক ভিডিও সহ আরো অনেক মুভি সিরিয়াল তার লিখা বই এর কাহিনী অবলম্বনে বানানো।

তো স্টিফেন কিং তার প্রথম পান্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশক'দের দরজায় দরজায় ঘুরে ছিলেন। কাজ হয়নি। কেউ তার বই প্রকাশ করতে চান নি। প্রকাশক'দের মতে লিখার মান নিন্মমানের।

রাগের মাথায় নিজের লিখা প্রথম পান্ডুলিপি ডাস্টবিনে ফেলে দেন স্টিফেন কিং। তার আর লেখক হবার শখ নেই।

কিন্তু তার স্ত্রী ডাস্টবিন থেকে সেটা আবার তুলে আনেন। ভাগ্যিস, নষ্ট করেন নি। নদীতে ফেলে দেন নি। আগুনে পুড়িয়ে দেন নি।

স্টিফেন কিং এর স্ত্রী সেই পান্ডুলিপি নিয়ে স্টিফেন কিং-এর হাতে আবার তুলে দেন।

অনেক কষ্টে এক প্রকাশক যোগাড় করেন দুজন মিলে।

অবশেষে প্রকাশিত হয় তার প্রথম বই।

এরপর সব ইতিহাস... !!

 

Oprah Winfrey কে সবার চেনার কথা। নাম তো শুনেছেন অনেকেই।

একসময়ের জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপিকা এবং দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী মহিলাদের একজন।

তো Oprah প্রথম জীবনে একটা টিভি চ্যানেলে কাজ নেন। টিভি চ্যানেল তাঁকে বরখাস্ত করে। কারণ, টিভিতে উপস্থাপনা করার কোনো যোগ্যতা নাকি তার নেই।

যোগ্যতা ছিলো কি ছিলো না, সেটা আজ সবাই জানে !!

 

Akio Morita নামটা না শোনাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার কোম্পানির নাম দুনিয়ার সবাই জানে !

Sony

তো Sony কোম্পানির প্রথম প্রোডাক্ট ছিলো রাইস কুকার।

ভাত রান্না করার বদলে ভাত পুড়িয়ে ফেলতো। ফলাফল, মাত্র ১০০ পিচ বিক্রি হয়েছিলো শুরুতে। এবং সেই বিক্রি হওয়া রাইস কুকারগুলোও ফিরিয়ে নিতে হয়।

কাস্টমাররা টাকা ফেরত নিয়ে যায়।

সনি কোম্পানির কোনো আশা ছিলো না।

কিন্তু Akio Morita ভেঙ্গে পড়েন নি। লেগে ছিলেন।

আর আজ ?

আজ Sony কোম্পানির কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন মনে হয় না কোনো পাগলও করবে।

 

Harland David Sanders নামটি না শুনলেও তাঁকে দেখেছেন। কোথায় ? 

KFC তে...

প্রথম জীবনে ভদ্রলোক তার স্পেশাল রেসিপি চিকেন এক রেস্টুরেন্টে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। ১০০৯ বার রিজেক্ট হবার পর সেই রেস্টুরেন্ট তার রেসিপি গ্রহন করে।

এরপর টাকা জমিয়ে তিনি নিজের রেস্টুরেন্ট খোলেন।

আর আজ ?

আজ দুনিয়ার এখন দেশখুব কম পাবেন যেখানে কেএফসি নাই...

 

 

Walt Disney প্রথম জীবনে চাকরি করতেন এক নিউজ পেপারে। 

নিউজপেপার এডিটর তাঁকে বরখাস্ত করে। কারণ, তার নাকি ইম্যাজিনেশন ক্ষমতা কম। লেখার মান ভালো নয়।

যাই হোক, ইম্যাজিনেশন ক্ষমতা কম নাকি বেশি, সেটা আজ দুনিয়ার সবাই জানে।

 

 

আইনস্টাইন প্রথম কথা বলতে শুরু করেন চার বছর বয়সে। ( সেটা নিয়ে বহুল প্রচলিত একটা কৌতুক প্রচলিত আছে। যদিও সেটা কেবলই কৌতুক)

আইনস্টাইন পড়তে শেখেন ৭ বছর বয়স থেকে।

স্কুলের শিক্ষকরা তাঁকে mentally handicapped, slow and anti-social বলেছিলেন।

একসময় স্কুল থেকে তাঁকে বের করে দেয়া হয়।

স্কুলে পড়ালিখাই মোটেই ভালো ছিলেন না আইনস্টাইন।

বিয়েশাদি করে ২২ বছর বয়সে সুইজারল্যান্ডের পেটেন্ট অফিসে assistant examiner কাজ করতে হয়েছিলো আইনস্টাইনকে সংসার চালানোর জন্য।

বিভিন্ন নামকরা ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করে রিজেক্ট হয়েছিলেন তিনি।

অথচ একটা সময় এই আইনস্টাইন সারা দুনিয়াতে নাম করে। তখন সেইসব ইউনিভার্সিটি আইনস্টাইনের আবেদন ফর্ম খুঁজে খুঁজে দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতো। সবাইকে দেখাতো, মহামতি আইনস্টাইন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন ! অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়টি খোদ আইনস্টাইনের চোখে ভালো। এটাই মুল ম্যাসেজ!

আজ আইনস্টাইনকে বলা হয় গত শতাব্দীর সবচেয়ে মেধাবি মানুষ।

 

 

Winston Churchill লিখাপড়াতে ভালো ছিলো না। Sixth grade এ এসে ফেল মারলো। 

রাজণীতিতে এসেও শুরুটা ছিল চরম হতাশাজনক।

সেই চার্চিল কেবল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না, তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পর্যন্ত পেয়েছেন।

 

 

বিখ্যাত পরিচালক স্টিফেন স্পিলবার্গ পরপর তিনবার ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার Theater, Film and Television বিভাগে অ্যাডমিশন নিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

অবশেষে যখন ভর্তি হলেন, তখন অর্ধেক পড়েই অফ গেলেন।

৩৫ বছর পর,  ২০০২ সালে আবার সেই অসমাপ্ত লিখাপড়া শুরু করেন। এবার তিনি কোর্স শেষ করেন। এবং BA ডিগ্রি পান অবশেষে।

অবশ্য তখন আর স্টিফেনের ডিগ্রি না হলেও চলে।

অস্কারসহ যাবতীয় যত পুরস্কার সম্মাননা পাওয়া সম্ভব, পেয়ে গেছেন আগেই। 

 

 

বিখ্যাত মার্কিন গায়ক Elvis Presley

জীবিত দশায় তো বটেই, আজ মৃত্যুর এতো বছর পরও পশ্চিমা মুল্লুকে এলভিস জনপ্রিয়।

তো প্রথম জীবনে Grand Ole Opry নামের এক country music এর কনসার্টে গান গেতে অডিশন দিতে আসেন এলভিস। সামান্যকিছু টাকার জন্য। 

Jimmy Denny ছিলো সেই কনসার্টের ম্যানেজার।

এলভিসের গান শুনে এলভিসকে বললো, " You ain’t going nowhere, son. You ought to go back to driving a truck."

ভাগ্যিস, সেদিন মনমরা হয়ে এলভিস গান ছেড়ে দেন নি।

অন্যথায় আজ "I can't help falling in love with you" , "you are always on my mind" এর মত গানগুলো আমরা পেতাম না।

 

 

 

দুনিয়া কাপানো ব্যান্ড The Beatles

প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের জন্য গিয়েছিলো এক মিউজিক রেকর্ডিং কোম্পানির কাছে। 

কোম্পানির লোকেরা গান শুনে বলেছিলো, "we don’t like their sound, and guitar music is on the way out,”

সেই কোম্পানির হর্তাকর্তারা যে পরে মাথা ঠুকে ঠুকে ফাটিয়ে ফেলেছে, এব্যাপারে সন্দেহ নেই।

 

 

মাইকেল জর্ডান, বাস্কেটবলের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা।

অথচ সে কিনা স্কুল জীবনে স্কুল বাস্কেটবল টিম থেকে বাদ পড়েছিলো !!! 

কেমন হইতো যদি সে রাগ করে খেলাটা বন্ধ করে ভিন্ন কোনো খেলায় মন দিতো... অথবা লিখাপড়ায় মন দিতো !!এই রকম যদি আমি লিখতে থাকি, তাহলে লিখে শেষ করা যাবে না।

আমাদের হুমায়ুন আহমেদের বইগুলো ১৯৮৬ সালের আগেও তেমন বেশি বিক্রি হত না। কিন্তু টিভি'তে নাটক হিট করার পর তার বই এর বিক্রি বেড়ে যায়। এবং তার প্রথমদিকে লিখা বইগুলোই সবাই কেনা শুরু করে। এই রকম প্রচুর উদাহারণ আছে।

 

 

 

এবার একেবারে বিপরীত ধর্মী কিছু উদাহরণ দেয়া যাক

 

জাপানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক Sho Yano ,

... তার IQ 200  


 

দুই বছর বয়স থেকে সে পড়তে শুরু করে,

তিন বছর বয়সে লিখতে,

চার বছর বয়সে ক্লাসিক্যাল মিউজিক প্লে করতে শিখে,

পাঁচ বছর বয়সে মিউজিক কম্পোজ করতে শুরু করে সে।

৮ বছর বয়সে SAT পরীক্ষায় ১৬০০ এর ভেতর পেয়েছিলো ১৫০০

১৮ বছর হতে না হতে molecular genetics and cell biology বিষয়ে University of Chicago থেকে পিএইডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

 

তিনি বলাটা ভুল। কারণ সে আমার চেয়ে বয়সে ছোট। এক বছরের। 

ছেলেটি জন্ম নিয়েছে ১৯৯০ সালে।

 

আবার Kathleen Holtz মাত্র ১০ বছর বয়সে California State University তে ভর্তি হন।



১৫ বছর বয়সে দর্শনে এবং ১৮ বছর বয়সে আইনে ডিগ্রি নিয়ে

২০০৭ সালে উকালতি পেশায় যোগ দেন।

যেখানে আমেরিকাতে bar Exam এ অংশনেবার ক্ষেত্রে গড়পড়তায় পরীক্ষার্থীর বয়স হয় ৩০

 

 

 




Gregory Smith মাত্র ১০ বছর বয়সে Randolph-Macon college এ ৭০ হাজার ডলারের স্কলারশিপ পেয়েছিলেন।

B.Sc করেন গণিত, ইতিহাস ও বায়োলজিতে।


 


১৬ বছর বয়সেই বিল ক্লিনটন ও সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্ভাচভের সাথে আলোচনায় বসেন, এবং জাতিসংঘে ভাষণ দেন। সে বছর তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও পান নি।

সে বছরেই আবার তিনি University of Virginia তে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য ভর্তি হয়ে যান। বিষয়, mathematics, aerospace engineering, international relations and biomedical research.

১৯৮৯ সালে জন্ম নেয়া এই ছেলে এখন পর্যন্ত মোট চারবার নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হলেও পায় নি। হয়ত ভবিষ্যতে পাবে। পূর্ব তিমুর, রুয়ান্ডা, কেনিয়াতে মানবিক কাজকর্মের জন্য তাঁকে বিভিন্নসময় মনোনিত করা হয়।

 

 

Jacob Barnett মাত্র আট বছর বয়সে Indiana University-Purdue University Indianapolis এ ভর্তি হন।

তখন তার IQ 170 ( অর্থাৎ তখনই বিল গেইটস এবং খোদ আইনস্টাইনের চাইতে বেশি )  



১৯৯৮ সালে তার জন্ম। অর্থাৎ এই পোস্ট যখন লিখতেছি, তখন তার বয়স ১৬

Savant বাচ্চা হবার কারণে ছোটবেলা স্কুলে না গিয়ে বাড়িতে বসেই লিখাপড়া করেছে সে। এরপর সরাসরি ভার্সিটি।

বর্তমানে আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি এবং Big Bang থিওরি নিয়ে নিরলস গবেষণা করছে এই ১৬ বছরের বালকটি। তার দেখভাল এখনো তার মা করে। বর্তমানে এইসব নিয়েই Perimeter Institute এ ডক্টরেট করতেছে সে।

 

 

 

ভারতের Akrit Jaswal

মাত্র ৭ বছর বয়সে রীতিমত ‘Surgeon’



১৯৯৩ সালে জন্ম নেয়া এই ছেলেটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী সার্জন এবং সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়া ছাত্র।

তার IQ এখন ১৪৬

Oprah Winfrey টক’শোতে তাঁকে আমন্ত্রন করা হয়েছিলো।

 

 

 




ছবিতে যে বাবুটাকে মা বাবা’র সাথে দেখতেছেন, বাবুটার নাম Saffron Pledger

তিন বছর বয়সে যার ছিলো IQ 140  



ফলাফল, তিন বছর বয়সে বাবু’টা Mensa তে সদস্যপদ লাভ করে। Mensa হল দুনিয়ার ১০০টি দেশের সদস্য নিয়ে গড়া Intellectual high IQ society , যার সদস্যপদ হওয়া মানে দুনিয়ার টপ ২% আইকিউধারী মানুষের কাতারে নাম লিখানো।

 




মাত্র ১০ বছরে ভর্তি হওয়া নয়, রীতিমত স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে গিনিস বুকে নাম লিখেছিলেন Micheal Kearney

University of South Alabama থেকে তিনি এই ডিগ্রি লাভ করেন।

১৭ বছর বয়সে দ্বিতীয় গ্রাজুয়েট ডিগ্রি লাভ করেন Vanderbilt University থেকে।

২১ বছর বয়সে মোট চারটি গ্রাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনের পর রসায়নে ডক্টরেট করেন।

২০০৬ সালে AOL’s Gold Rush জিতে ১ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। বর্তমানে তার বয়স ৩১ বছর।

 

 



গিনেস বুক অনুসারে সবচেয়ে বেশি IQ ধারী ব্যক্তির নাম Kim Ung Yong

একজন কোরিয়ার নাগরিক।



৬ মাস বয়সে কথা বলতে শুরু করেন, এবং তিনবছর বয়স হতে না হতেই কোরিয়ান, জাপানিজ, জার্মান, ইংলিশ ও চাইনিজ ভাষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। চার বছর বয়সে ইংলিশ আর জার্মান মোট ২০০০ শব্দের অনুবাদ সে করতে পারতো।

কোরিয়ান, চাইনিজ ভাষায় তার কবিতার বই প্রকাশিত হয়।

তার বয়স যখন ৮ বছর, আমেরিকার NASA তাঁকে মার্কিন মুল্লুকে পড়ালিখা করার জন্য আমন্ত্রন জানায়।

১৬ বছর বয়সে নাসা ছেড়ে দিয়ে !!!! তিনি আবার কোরিয়া ফিরে জান।

সেখানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর PhD করেন।

Chungbuk University তে ২০০৭ সাল থেকে তিনি অধ্যাপনা করছেন। ৯০ খানার উপর পেপার পাবলিশ করেছেন হাইড্রোলিক্সের উপর।

 

 


আসলে এই রকম উদাহারন আরো অনেক আছে। কেবল বর্তমান কালেই নয়, অতীতেও ছিলো।

যেমন,  মোজার্টের মিউজিক শুনে আজও আমরা মুগ্ধ হই, সে মোজার্ট মাত্র ৬ বছর বয়সেই মিউজিক কম্পোজিশন শুরু করেছিলো।

মাত্র ৫ বছর বয়সে University of Salzburg, Austria তে পিয়ানো বাজিয়েছিলেন,

১৪ বছর বয়সে অপেরা’ কম্পোজ শুরু করেন ইতালিতে।

৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার আগেই ৬০০ কালজয়ী মিউজিক কম্পোজ করেন।

 

আয়ারল্যান্ডের Wiliam Rowan Hamilton মাত্র ৫ বছর বয়স থেকেই বহুভাষাবিদ হয়ে যান। ল্যাটিন, গ্রিক, হিব্রু আয়ত্ত করেন।

১৩ বছর বয়সেই সংস্কৃত, ফারসি, ফরাসি, ইতালিয়ান, আরবি সহ ১৩ টি ভাষার শিখে নেন।

ছাত্র থাকা অবস্থাতেই তিনি The Royal Astronomer of Ireland এর সদস্য হন এবং Professor of Astronomy, Director of Dunsink observatory হিসেবে নিয়োগ পান।

গণিততে তার অবদান হল Theory of Dynamics and quaternions, a method used for 3-dimensional space in Mathematics.

১৮৬৫ সালে তিনি মারা যান।

 

William James Sidis কে বলা হয়, The Smartest man who ever lived



মাত্র ৮ বছর বয়সে এক নতুন লগারিদমিক টেবিল (base 12) তৈরি করেন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেন।

মাত্র ১১ বছর বয়সে বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। যা রেকর্ড।

তার IQ 250-300 (estimated)

৮ টি ভাষা fluent বলতে পারতেন এবং মাত্র ৭ বছর হতে না হতেই তার নিজের লিখা চারটি বই বের হয়।

কম বয়সেই সেলিব্রিটি হয়ে যাবার কারণ টাকার প্রতি মোহ তৈরি হয়। উচ্চ বেতনের কর্পোরেট জব করা শুরু করেন। ফলাফল, মেধার অপচয়। অকাজে মেধানষ্ট। নিউজপেপারে তাঁকে নিয়ে ফিচার ছাপা হয় এই শিরোনামে যে, “Genius had burned out”

১৯৪৪ সালে তিনি মারা যান।

 

 

নেট ঘাটলে এই রকম child prodigy বা savant টাইপের মানুষ অনেক অনেক পাবেন। Boby fisher এর মত বিখ্যাত দাবাড়ুকে পাবেন।

এরা আগেও ছিলো। এখনো আছে। ভবিষ্যতেও এমন আসবে।

 

 

 

আইনস্টাইন  বলেছিলেন, “দুনিয়ার সব মানুষই জিনিয়াস। তবে কেউ যদি গাছের ওঠার ক্ষমতা দিয়ে মাছের প্রতিভা যাচাই করে তাহলে মাছ সারাজীবন বানরের কাছে হারবে”

 

শচিন টেন্ডুলকারের ক্ষমতা ব্যাট হাতে, কলম হাতে নয়। ব্যাট হাতেই সে জিনিয়াস।

আবার গ্যারি ক্যাসপারোভ বা ববি ফিশার দাবার চালে জিনিয়াস হলেও রাজনীতির চালে দুজনেই ব্যর্থ।

 

আসল বিষয়টি সম্ভবত বলে গিয়েছিলো Steve Jobs,

“Don’t settle, stay hungry”

মুল ব্যাপারটা সম্ভবত নিজেকে চেনার ভেতরে। অর্থাৎ Know thyself

 

নিজে কি পারি, সেটা খুঁজে বের করার ভেতর। অন্য কেউ কি পারে, সেটা দেখে কপি করতে গেলে সারাজীবন তাঁর পেছনেই থাকতে হয়। 

 

যাই হোক, জীবনের turning point কখন কিভাবে আসে, বলা মুশকিল।

তবে আসে, এটা সত্য। সবার জন্য আসে। কেউ সেই সুযোগটা ক্যাশ করতে পারে ভালোভাবে, কেউ পারে না।

তবে সবাই রাজা হলেও তো সমস্যা। তাহলে রাজার প্রজা কারা হবে !



*** আর্টিকেলটি প্রথম লিখেছিলাম ২০১৫ সালে। ফেসবুক নোটে। 

Read More »